ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু

ইরান-সমর্থিত হুথিদের দখলে থাকা ইয়েমেনের সব এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। সৌদি আরব সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হুথিরা পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। রোববার (৪ অক্টোবর) এক টেলিভিশন ভাষণে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি বলেন, দেশের মানুষকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কবল’ থেকে মুক্ত না করা পর্যন্ত সরকারি বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাবে। একই সময়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে হুথিদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই অঞ্চলে ইয়েমেনের বড় অংশের মানুষ বসবাস করেন। ইরানের সহায়তায় তারা নিজেদের অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতাও বাড়িয়েছে।

২০১৪ সাল থেকেই রাজধানী সানা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও হুথিদের দমাতে পারেনি। বরং এই সময়ের মধ্যে ইরানসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সহায়তা নিয়ে হুথিরা তাদের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। গত মাসে আকস্মিক এক হামলায় তারা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার এলাকা দখল করে নেয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এই নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের একাধিক সামরিক অভিযানের পরও এত বছর ধরে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ ভাঙা সম্ভব হয়নি।

ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আল-আলিমি জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই সরকার বাধ্য হয়ে এই পাল্টা অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযানের প্রয়োজনে তিনি আঞ্চলিক মিত্র ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব এই সামরিক অভিযানে আকাশপথে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী স্থলভাগের অভিযান পরিচালনা করবে। গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই কার্যক্রমে সহায়তা করছে এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা প্রদান করছে।

সরকারি বাহিনীর এই অভিযানের ঘোষণার পরপরই হুথিরা পাল্টা আঘাতের দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং খুরাইস এলাকায় অবস্থিত সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি জোটের চালানো প্রায় ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বাব আল-মান্দাব প্রণালি ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে জাহাজ চলাচলের একটি অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই অঞ্চলের গুরুত্ব এখন বহুগুণ বেশি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনের চলমান এই নতুন সামরিক অভিযান বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল ও বিস্তৃত করে তুলতে পারে। হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গেও আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে। ইয়েমেন সরকারের এই অভিযানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০২ ডলার ছাড়াল

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু

আপডেট সময় ১১:৫০:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ইরান-সমর্থিত হুথিদের দখলে থাকা ইয়েমেনের সব এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। সৌদি আরব সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হুথিরা পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। রোববার (৪ অক্টোবর) এক টেলিভিশন ভাষণে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি বলেন, দেশের মানুষকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কবল’ থেকে মুক্ত না করা পর্যন্ত সরকারি বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাবে। একই সময়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে হুথিদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই অঞ্চলে ইয়েমেনের বড় অংশের মানুষ বসবাস করেন। ইরানের সহায়তায় তারা নিজেদের অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতাও বাড়িয়েছে।

২০১৪ সাল থেকেই রাজধানী সানা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও হুথিদের দমাতে পারেনি। বরং এই সময়ের মধ্যে ইরানসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সহায়তা নিয়ে হুথিরা তাদের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। গত মাসে আকস্মিক এক হামলায় তারা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার এলাকা দখল করে নেয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এই নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের একাধিক সামরিক অভিযানের পরও এত বছর ধরে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ ভাঙা সম্ভব হয়নি।

ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আল-আলিমি জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই সরকার বাধ্য হয়ে এই পাল্টা অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযানের প্রয়োজনে তিনি আঞ্চলিক মিত্র ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব এই সামরিক অভিযানে আকাশপথে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী স্থলভাগের অভিযান পরিচালনা করবে। গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই কার্যক্রমে সহায়তা করছে এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা প্রদান করছে।

সরকারি বাহিনীর এই অভিযানের ঘোষণার পরপরই হুথিরা পাল্টা আঘাতের দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং খুরাইস এলাকায় অবস্থিত সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি জোটের চালানো প্রায় ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বাব আল-মান্দাব প্রণালি ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে জাহাজ চলাচলের একটি অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই অঞ্চলের গুরুত্ব এখন বহুগুণ বেশি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনের চলমান এই নতুন সামরিক অভিযান বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল ও বিস্তৃত করে তুলতে পারে। হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গেও আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে। ইয়েমেন সরকারের এই অভিযানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।