ঢাকা ০১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

নতুন রাডার ব্যবস্থায় আকাশসীমার নজরদারিতে বড় সাফল্য

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ও পূর্ণাঙ্গ রাডার ব্যবস্থা চালুর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো ও সীমিত সক্ষমতার রাডার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এখন বিদেশি উড়োজাহাজগুলোর অবস্থান আরও নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বিশাল আকাশসীমায় এখন নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে, যা আগে অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন ছিল। এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সুফল হিসেবে বিমান চলাচল খাতে রাজস্ব আয়ের ধারায় এসেছে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় নানা দুর্বলতা ছিল।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর প্রতি মাসে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত ওভারফ্লাই ফি আদায় হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কেবল ওভারফ্লাই চার্জ থেকেই সরকারের আয় ছাড়িয়েছে ৮০৫ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এই খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩৩৮ কোটি টাকা। এর পরের ছয় মাসে সেই আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৬ কোটি টাকায়, যা আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধিরই প্রমাণ।

প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্রান্সের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেলসের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপিত এই আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং যোগাযোগ, নেভিগেশন ও সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের ফলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য ওভারফ্লাই ফি আদায়ের পাশাপাশি আকাশপথের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছে বহুগুণ। একই সঙ্গে ওভারফ্লাই ফি আদায়ের ক্ষেত্রেও এসেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রুটগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার এই আধুনিকায়ন দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা বয়ে আনবে। যথাযথ প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি শক্তিশালী হওয়ায় যেমন উড়োজাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা বাড়ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও রাজস্ব আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই রাডার ব্যবস্থা আকাশপথের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন রাডার ব্যবস্থায় আকাশসীমার নজরদারিতে বড় সাফল্য

আপডেট সময় ১১:১৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ও পূর্ণাঙ্গ রাডার ব্যবস্থা চালুর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো ও সীমিত সক্ষমতার রাডার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এখন বিদেশি উড়োজাহাজগুলোর অবস্থান আরও নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বিশাল আকাশসীমায় এখন নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে, যা আগে অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন ছিল। এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সুফল হিসেবে বিমান চলাচল খাতে রাজস্ব আয়ের ধারায় এসেছে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় নানা দুর্বলতা ছিল।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর প্রতি মাসে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত ওভারফ্লাই ফি আদায় হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কেবল ওভারফ্লাই চার্জ থেকেই সরকারের আয় ছাড়িয়েছে ৮০৫ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এই খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩৩৮ কোটি টাকা। এর পরের ছয় মাসে সেই আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৬ কোটি টাকায়, যা আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধিরই প্রমাণ।

প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্রান্সের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেলসের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপিত এই আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং যোগাযোগ, নেভিগেশন ও সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের ফলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য ওভারফ্লাই ফি আদায়ের পাশাপাশি আকাশপথের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছে বহুগুণ। একই সঙ্গে ওভারফ্লাই ফি আদায়ের ক্ষেত্রেও এসেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রুটগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার এই আধুনিকায়ন দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা বয়ে আনবে। যথাযথ প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি শক্তিশালী হওয়ায় যেমন উড়োজাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা বাড়ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও রাজস্ব আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই রাডার ব্যবস্থা আকাশপথের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।