হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) কর্মকর্তারা। সোমবার পরিচালিত এই অভিযানে তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে মোট ৬৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও তিনটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে, যার সর্বমোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। মঙ্গলবার সিআইআইডির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল এবং বিমানবন্দরের সি-শিফট কর্মকর্তাদের যৌথ অভিযানে শারজাহ থেকে ঢাকায় অবতরণকারী জি৯ ৫৭১ ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। ব্যাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশির সময় মোহাম্মাদ শাহিন নামে এক যাত্রীর কাছে ৩২০ কার্টন সিগারেট এবং একটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। একই ফ্লাইটের অন্য দুই যাত্রী কে এম ফজল হক এবং বেলায়েত ভুঁইয়া হোসাইনের ব্যাগেজ থেকেও যথাক্রমে ১২৫ কার্টন ও ১৮৬ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ফজল হকের ব্যাগ থেকে একটি ল্যাপটপ এবং বেলায়েত ভুঁইয়ার ব্যাগ থেকে আরও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
বিমানবন্দরের ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা রোধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই চোরাচালান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের মাধ্যমে অবৈধ পথে পণ্য আমদানির যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে বিদেশি পণ্য দেশে আনার যেকোনো প্রচেষ্টা শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুল্ক আইন অনুযায়ী জব্দ করা পণ্যের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অবৈধ পণ্য পাচার নিয়ন্ত্রণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যাতে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আহরণ সুরক্ষিত থাকে এবং চোরাচালান চক্রের অপতৎপরতা প্রতিহত করা যায়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















