রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ২৭ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে উভয় পক্ষের আইনি শুনানি শেষে বিচারক এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জাসদ কার্যালয়ের অভ্যন্তরে বসে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়
আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো ২৭ জন হলেন মো. দিনারুল আলম (৫০), ইমান আহম্মেদ (৪৫), মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজাহান সিরাজ (৩৭), জয় সরকার (৩১), মো. মিরাজ আহমেদ (১৯), মো. মিরাজ মল্লিক (৩৯), মো. রবিউল ইসলাম (৪২), মিলন কুমার (৩৯), মো. কাউসার হোসেন (৫০), শ্রী অন্তর শিল (৪০), জালাল উদ্দিন মণ্ডল (৫৫), আবদুল লতিফ (৪৬), শামীম আহমেদ (৩০), আহম্মেদ আহসান হাবিব (৪৩), মো. সুজন আলী (৩২), মো. তরিকুল ইসলাম (৩৭), মো. সাইফুল্লার সাদেক (৪৩), নয়ন আলী (৩০), সাজিদুল ইসলাম (৪০), তাজুল ইসলাম (৩৪), নিস্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার (৪৩), আনোয়ার হোসেন (৫২), মো. আলমগীর হোসেন (৪৫), মো. আল আমিন হাওলাদার (৩৯), মো. তুষার আলী (৫০), মো. রাসিদুল হক (৪৪) এবং মীর মুক্তিসুর রহমান (৫১)।
আইনি লড়াই ও যুক্তি উপস্থাপন
আসামিপক্ষের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত আদালতে জামিন আবেদনের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। শুনানিতে তিনি দাবি করেন, গ্রেপ্তারকৃতরা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং প্রশাসনের যথাযথ অনুমতি নিয়েই তারা সেখানে সভা করছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য কোনো অরাজকতা সৃষ্টি করা ছিল না বলে দাবি করে তিনি আদালতের কাছে সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্রের কপিও দাখিল করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জামিন আবেদনের ঘোর বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে দাবি করেন, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছিলেন এবং তাদের কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী দোসরদের সহায়ক ছিল। জামিন দিলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আদালতকে অবহিত করেন রাষ্ট্রপক্ষ। তারা ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ হিসেবে কাজ করছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশি অভিযান ও প্রেক্ষাপট
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার সন্ধ্যায়, যখন জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে মোট ২৭৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই ও তথ্যানুসন্ধান শেষে এর মধ্যে ২৭ জনকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রোববার পল্টন মডেল থানার এসআই মো. নাজমুল ইসলাম তাদের আদালতে হাজির করেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৫৪ ধারায় জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করেন। পুলিশের দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আটকের সময় তারা কার্যালয়ের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছিলেন এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তারা কোনো যৌক্তিক কারণ দেখাতে ব্যর্থ হন, যা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক ইঙ্গিত দেয়। এ কারণেই তদন্তের স্বার্থে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আসামিদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















