ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আহমদ ছফার ঠাঁই হয়নি রাজনৈতিক কারণে: সলিমুল্লাহ খান নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী: মামদানি বিএনপি ভোট মানলেও গণভোট মানে না: আখতার হোসেন সাঁথিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা জুলাইয়ের শক্তির অনৈক্য পরাজিতদের সুযোগ করে দিচ্ছে: মজিবুর রহমান মঞ্জু বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের বড় ধরনের চাহিদা তৈরি হচ্ছে: হুমায়ুন কবির জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন:শফিকুর রহমান ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়তে শহীদ জিয়ার দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা আজও গুরুত্বপূর্ণ : সড়ক প্রতিমন্ত্রী শিশু যৌন নিপীড়নের দায়ে যুক্তরাজ্যে ৩ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ব্যবসা-বাণিজ্যে এআই ও ব্লকচেইনের ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বারোপ

বাড়ির ছাদ ফুঁড়ে পড়া উল্কাপিণ্ডের বিজ্ঞানীরা পেলেন ভিনগ্রহের প্রাণের উপাদান

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে একটি বাড়ির ছাদ ফুঁড়ে আছড়ে পড়েছিল একটি উল্কাপিণ্ড। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে আসা এই পাথরে ভিনগ্রহের প্রাণের সঙ্গে যুক্ত রাসায়নিক উপাদান রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। প্রায় ৩২ হাজার মাইল বেগে ছুটে আসা ২ পাউন্ড ওজনের উল্কাপিণ্ডটি নিউজার্সির হিলসবোরো এলাকার একটি বাড়ির ছাদ ফুটো করে ভেতরে পড়ে। পড়ার আগে নিউইয়র্ক শহরের আকাশে বিকট শব্দ শোনা যায়।

বাড়ির মালিক খালি হাতে এটি ধরেননি। তিনি গ্লাভস পরে পাথরগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়ে কাঁচের বয়ামে নিরাপদে রাখেন। ফলে পাথরটি মোটেও দূষিত হতে পারেনি। বাড়ির মালিক জানান, তিনি বিকট শব্দ শুনে শোবার ঘরে গিয়ে ছাদের ফুটো দেখেন। সেখানে সালফারের তীব্র গন্ধ ছিল। বিছানা ও কার্পেট কালো টুকরো এবং ধুলায় ভরে গিয়েছিল।

বিজ্ঞানীরা ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জেনেছেন, এটি মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝের গ্রহাণু বলয় থেকে এসেছে। এটি একটি অত্যন্ত বিরল ‘সিএম-টাইপ’ কার্বনেশাস কনড্রাইট উল্কাপিণ্ড। সৌরজগতের শুরুর দিকে, অর্থাৎ সাড়ে ৪০০ কোটি বছরেরও আগে এটি তৈরি হয়েছিল। এতে প্রচুর কার্বন ও খনিজ আছে।

প্রধান গবেষক পিটার জেনিসকেনস জানান, পাথরের টুকরোতে আদিম গ্রহাণুর পৃষ্ঠের নোনতা তরলের খোঁজ মিলেছে। বাড়ির মালিকের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই এটি এত ভালো অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই উল্কাপিণ্ডে শত শত অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া গেছে। অ্যামিনো অ্যাসিড মূলত প্রোটিন তৈরির মূল উপাদান। গবেষক ড. ড্যানি গ্লাভিন জানান, এখানকার বেশির ভাগ অ্যামিনো অ্যাসিড পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় না। অর্থাৎ, এগুলো পুরোপুরি পৃথিবীর বাইরের উপাদান।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই আবিষ্কার থেকে আদিম গ্রহাণু সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাবে। পৃথিবীতে প্রাণের উপাদানগুলো এসব গ্রহাণুর মাধ্যমেই এসেছিল কি না, তার উত্তরও হয়তো এখান থেকেই মিলবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আহমদ ছফার ঠাঁই হয়নি রাজনৈতিক কারণে: সলিমুল্লাহ খান

বাড়ির ছাদ ফুঁড়ে পড়া উল্কাপিণ্ডের বিজ্ঞানীরা পেলেন ভিনগ্রহের প্রাণের উপাদান

আপডেট সময় ০৯:২০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে একটি বাড়ির ছাদ ফুঁড়ে আছড়ে পড়েছিল একটি উল্কাপিণ্ড। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে আসা এই পাথরে ভিনগ্রহের প্রাণের সঙ্গে যুক্ত রাসায়নিক উপাদান রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। প্রায় ৩২ হাজার মাইল বেগে ছুটে আসা ২ পাউন্ড ওজনের উল্কাপিণ্ডটি নিউজার্সির হিলসবোরো এলাকার একটি বাড়ির ছাদ ফুটো করে ভেতরে পড়ে। পড়ার আগে নিউইয়র্ক শহরের আকাশে বিকট শব্দ শোনা যায়।

বাড়ির মালিক খালি হাতে এটি ধরেননি। তিনি গ্লাভস পরে পাথরগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়ে কাঁচের বয়ামে নিরাপদে রাখেন। ফলে পাথরটি মোটেও দূষিত হতে পারেনি। বাড়ির মালিক জানান, তিনি বিকট শব্দ শুনে শোবার ঘরে গিয়ে ছাদের ফুটো দেখেন। সেখানে সালফারের তীব্র গন্ধ ছিল। বিছানা ও কার্পেট কালো টুকরো এবং ধুলায় ভরে গিয়েছিল।

বিজ্ঞানীরা ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জেনেছেন, এটি মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝের গ্রহাণু বলয় থেকে এসেছে। এটি একটি অত্যন্ত বিরল ‘সিএম-টাইপ’ কার্বনেশাস কনড্রাইট উল্কাপিণ্ড। সৌরজগতের শুরুর দিকে, অর্থাৎ সাড়ে ৪০০ কোটি বছরেরও আগে এটি তৈরি হয়েছিল। এতে প্রচুর কার্বন ও খনিজ আছে।

প্রধান গবেষক পিটার জেনিসকেনস জানান, পাথরের টুকরোতে আদিম গ্রহাণুর পৃষ্ঠের নোনতা তরলের খোঁজ মিলেছে। বাড়ির মালিকের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই এটি এত ভালো অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই উল্কাপিণ্ডে শত শত অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া গেছে। অ্যামিনো অ্যাসিড মূলত প্রোটিন তৈরির মূল উপাদান। গবেষক ড. ড্যানি গ্লাভিন জানান, এখানকার বেশির ভাগ অ্যামিনো অ্যাসিড পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় না। অর্থাৎ, এগুলো পুরোপুরি পৃথিবীর বাইরের উপাদান।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই আবিষ্কার থেকে আদিম গ্রহাণু সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাবে। পৃথিবীতে প্রাণের উপাদানগুলো এসব গ্রহাণুর মাধ্যমেই এসেছিল কি না, তার উত্তরও হয়তো এখান থেকেই মিলবে।