আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর ‘সুবিধাবাদী’ ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দলটির ৯৩ পৃষ্ঠার রঙিন নির্বাচনী ইশতেহারের দিকে আঙুল তুলে বলেন, মুখে ইসলামের কথা বললেও এদের ইশতেহারের কোথাও শরিয়া আইন বা ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো অঙ্গীকার নেই।
রবিবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস ও বিভিন্ন সময়ের সুবিধাবাদী আচরণের তীব্র সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রশ্ন তোলেন।
একইসঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনীতি এবং ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন নিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কের কড়া জবাব দেন মন্ত্রী। জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। দলটির ৯৩ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহারের কোথাও শরিয়াহ আইন, ইসলামী রাষ্ট্র বা ইসলামী বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ নেই জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জামায়াত আসলে কেমন ইসলামী দল? একইসঙ্গে দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের বিভিন্ন সময়ের সুবিধাবাদী আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।
জামায়াতে ইসলামীকে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের শাখা হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নামের সঙ্গে ইসলাম থাকলেও তাদের রাজনৈতিক ইশতেহারে এর কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই।
তিনি দলটির নির্বাচনী ইশতেহার সংসদে তুলে ধরে বলেন, এত সুন্দর রঙিন ইশতেহারের কোথাও শরিয়া ব্যবস্থা জারি, ইসলামী রাষ্ট্র, ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা বা ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার কথা বলা নেই।
এমনকি শিক্ষা ব্যবস্থার দফার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সেখানে কেবল মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের কথা বলা হয়েছে, অথচ দেশের সিংহভাগ মানুষ প্রাথমিক ও সাধারণ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।
দলটির ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান চায়নি, আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশও চায়নি। উল্টো মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশীয় দোসর হিসেবে গভর্নর মালেক সরকারের মন্ত্রিসভায় জামায়াত নেতাদের মন্ত্রী হওয়ার ইতিহাসও তিনি সংসদে স্মরণ করিয়ে দেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ পেয়ে পুনরায় সংগঠিত হওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে সুবিধাবাদী জোট গঠনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
এছাড়া, সংসদে ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সিনা ট্রাস্টের শেয়ার বিক্রি নিয়ে ওঠা বিতর্কেরও কড়া জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও অডিট রিপোর্ট তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ১০ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এটি রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি এর আগে যে দাবি করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ সঠিক বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। একইসঙ্গে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিপুল পরিমাণ শেয়ার নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করার দালিলিক প্রমাণও তার হাতে রয়েছে বলে সংসদকে নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















