ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে: শ্রমমন্ত্রী কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, যুবকের ১৪ বছরের কারাদণ্ড মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২৭০ অভিবাসী আটক মোবাইল চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ মাদকমুক্ত প্রজন্ম গঠনে শিক্ষার ওপর জোর ডেপুটি স্পিকারের ছয় মাসের মধ্যে কাঁচপুর বাস টার্মিনালের কাজ শেষ হবে: প্রতিমন্ত্রী খাবারের লোভ দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্তকে গণধোলাই তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার নিয়ম না মানলে কারখানা বন্ধের হুঁশিয়ারি পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিয়ম না মানলে কারখানা বন্ধের হুঁশিয়ারি পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্যে পানি ও কৃষিজমি দূষণ বন্ধে কারখানা এলাকায় মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং নতুন করে কোনো কারখানার দূষিত বর্জ্য যেন কৃষিজমি, খাল, নদী বা জলাশয়ে না যায়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে।

বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক অংশীজনদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের শিল্পকারখানার বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ভালুকার শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন এলাকার প্রাণ-প্রকৃতি ও জলজ পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ভরাডোবা এলাকার এক্সপেরিয়েন্স, হ্যারি ফ্যাশন ও মুলতাজিম কারখানার বর্জ্যে প্রায় সাড়ে তিনশ একর কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কারখানার লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। দূষিত বর্জ্য নির্গমনের নালাগুলো দ্রুত সিলগালা করতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই অপরিশোধিত বর্জ্য খাল, নদী, বিল কিংবা অন্য কোনো জলাশয়ে ফেলা যাবে না। পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে আন্তমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনাসাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান মজু, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক কামরুল হাসান পাঠান কামাল, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান রাসেল, কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমীন, মো. শামছুদ্দিন মণ্ডল, মোহাইমেনুল ইসলাম তালুকদার ও আবুল বাশার।

এ সময় এক্সপেরিয়েন্স কারখানার আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এজাজ উদ্দিন এবং মুলতাজিম মিলের প্রতিনিধি পুলকময় মজুমদারসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে: শ্রমমন্ত্রী

নিয়ম না মানলে কারখানা বন্ধের হুঁশিয়ারি পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৭:০৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্যে পানি ও কৃষিজমি দূষণ বন্ধে কারখানা এলাকায় মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং নতুন করে কোনো কারখানার দূষিত বর্জ্য যেন কৃষিজমি, খাল, নদী বা জলাশয়ে না যায়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে।

বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক অংশীজনদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের শিল্পকারখানার বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ভালুকার শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন এলাকার প্রাণ-প্রকৃতি ও জলজ পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ভরাডোবা এলাকার এক্সপেরিয়েন্স, হ্যারি ফ্যাশন ও মুলতাজিম কারখানার বর্জ্যে প্রায় সাড়ে তিনশ একর কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কারখানার লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। দূষিত বর্জ্য নির্গমনের নালাগুলো দ্রুত সিলগালা করতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই অপরিশোধিত বর্জ্য খাল, নদী, বিল কিংবা অন্য কোনো জলাশয়ে ফেলা যাবে না। পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে আন্তমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনাসাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান মজু, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক কামরুল হাসান পাঠান কামাল, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান রাসেল, কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমীন, মো. শামছুদ্দিন মণ্ডল, মোহাইমেনুল ইসলাম তালুকদার ও আবুল বাশার।

এ সময় এক্সপেরিয়েন্স কারখানার আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এজাজ উদ্দিন এবং মুলতাজিম মিলের প্রতিনিধি পুলকময় মজুমদারসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।