ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ৫০ জনের মৃত্যু, আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ফ্রান্সজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে গরমজনিত বিভিন্ন কারণে মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেতো-ফ্রান্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এতে বলা হয়েছে, চলমান এই তাপপ্রবাহ সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গরমজনিত বিভিন্ন কারণে মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।

দেশের দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে ৪০ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যাচ্ছে। কিছু এলাকায় আরও বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দিনের বেলা সূর্যের তীব্রতা এতটাই বেশি যে রাস্তাঘাটে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক শহরে দুপুরের পর জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাতের তাপমাত্রা নিয়ে। বহু অঞ্চলে রাতেও তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে, ফলে শরীরের স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি হিটস্ট্রোক ও হৃদরোগজনিত জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট এবং হৃদরোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে চাপ বেড়েছে এবং অনেক স্থানে অতিরিক্ত শয্যা ও অস্থায়ী চিকিৎসা ইউনিট চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেক রোগী প্রাথমিক উপসর্গকে অবহেলা করায় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ছে।

তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে মানুষ নদী, হ্রদ ও সমুদ্রসৈকতের দিকে ভিড় করছেন। তবে এই স্বস্তির চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। অনিরাপদ পানিতে নামতে গিয়ে এবং অতিরিক্ত গরমে শারীরিক দুর্বলতার কারণে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে বলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

সরকার দেশের ৫০টিরও বেশি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। রাজধানী প্যারিসসহ বড় শহরগুলোতে শীতলীকরণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। অনেক জায়গায় স্কুল আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বহিরাঙ্গন কাজ সীমিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিতভাবে নাগরিকদের সতর্ক করছে যেন তারা দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না বের হন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করেন।

মেতো-ফ্রান্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দক্ষিণ ও পশ্চিম ফ্রান্সে তাপমাত্রা ৪৩ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আটলান্টিক থেকে শীতল বায়ুপ্রবাহ প্রবেশ না করলে এই তাপপ্রবাহ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু একটি আবহাওয়া ঘটনা নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বাস্তব প্রতিফলন। ইউরোপে এমন তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় বেশি ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০০৩ সালের ইউরোপের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে পরিস্থিতি ছিল আরও মারাত্মক। সেই ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ফ্রান্সসহ ইউরোপজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা তখনকার সময়ে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল।

ফ্রান্স এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে চরম তাপমাত্রা শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের জীবনকেও সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

শহীদ জিয়া ক্রীড়াঙ্গনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন: রাষ্ট্রপতি

তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ৫০ জনের মৃত্যু, আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

আপডেট সময় ১১:৫০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ফ্রান্সজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে গরমজনিত বিভিন্ন কারণে মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেতো-ফ্রান্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এতে বলা হয়েছে, চলমান এই তাপপ্রবাহ সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গরমজনিত বিভিন্ন কারণে মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।

দেশের দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে ৪০ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যাচ্ছে। কিছু এলাকায় আরও বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দিনের বেলা সূর্যের তীব্রতা এতটাই বেশি যে রাস্তাঘাটে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক শহরে দুপুরের পর জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাতের তাপমাত্রা নিয়ে। বহু অঞ্চলে রাতেও তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে, ফলে শরীরের স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি হিটস্ট্রোক ও হৃদরোগজনিত জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট এবং হৃদরোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে চাপ বেড়েছে এবং অনেক স্থানে অতিরিক্ত শয্যা ও অস্থায়ী চিকিৎসা ইউনিট চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেক রোগী প্রাথমিক উপসর্গকে অবহেলা করায় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ছে।

তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে মানুষ নদী, হ্রদ ও সমুদ্রসৈকতের দিকে ভিড় করছেন। তবে এই স্বস্তির চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। অনিরাপদ পানিতে নামতে গিয়ে এবং অতিরিক্ত গরমে শারীরিক দুর্বলতার কারণে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে বলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

সরকার দেশের ৫০টিরও বেশি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। রাজধানী প্যারিসসহ বড় শহরগুলোতে শীতলীকরণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। অনেক জায়গায় স্কুল আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বহিরাঙ্গন কাজ সীমিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিতভাবে নাগরিকদের সতর্ক করছে যেন তারা দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না বের হন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করেন।

মেতো-ফ্রান্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দক্ষিণ ও পশ্চিম ফ্রান্সে তাপমাত্রা ৪৩ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আটলান্টিক থেকে শীতল বায়ুপ্রবাহ প্রবেশ না করলে এই তাপপ্রবাহ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু একটি আবহাওয়া ঘটনা নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বাস্তব প্রতিফলন। ইউরোপে এমন তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় বেশি ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০০৩ সালের ইউরোপের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে পরিস্থিতি ছিল আরও মারাত্মক। সেই ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ফ্রান্সসহ ইউরোপজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা তখনকার সময়ে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল।

ফ্রান্স এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে চরম তাপমাত্রা শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের জীবনকেও সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে।