আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক নারীকে প্রকাশ্যে পিটিয়েছেন মো. সফিক (৩৮) নামের যুবদলের স্থানীয় একজন নেতা। শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে বিকেলে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মারধরের শিকার ওই নারীর স্বামী যুবদল নেতার মাছের খামারে কাজ করেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী গত দুই মাস ধরে সফিকের অধীনে কাজ করলেও বেতন পাননি। বেতন চাইতে গেলে সফিক দাবি করেন, তার স্বামী ইয়াবা সেবন করে সব টাকা খরচ করেছেন। ঈদুল আজহার সময়ও বেতন না পাওয়ায় তাদের পরিবারকে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এরপর তিনি স্বামীকে সফিকের কাজে যেতে নিষেধ করেন, যা নিয়ে সফিক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
তিনি আরও বলেন, শনিবার সকালে বাড়ির পাশের নদীতে বসানো একটি রিং জাল সফিক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এ সময় সফিক তার স্বামীকে প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সফিক তার ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে এসে আবারও তার স্বামীকে মারধর শুরু করেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।
ওই গৃহবধূ জানান, সফিক ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার স্বামীকে দিয়ে অবৈধ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করাতেন। আবার হিসেবে গরমিল হলে বেজায় গালমন্দ করতেন। সব সময় তার প্রজেক্টে ১০-১৫টি মোটরসাইকেল থাকে। প্রায় সেখানে হরেক রকম মাদকের আসর বসে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা মো. সফিক বলেন, ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন আগে তার স্বামী আমার বোনের বসত ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করেন, আমার মাছ চুরি করেন। শনিবার সকালে জাল নিয়ে আসার পথে খুকি ও তার স্বামী আমাকে আক্রমণ করে এবং আমার নাক ফাটিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















