আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ঢাকার সাভারে ঈদের ছুটিতে মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে আল-মুসলিম গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানার ১ হাজার ৮৬৮ কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে।
ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান আল্পনা আক্তার। কিন্তু ছুটির মধ্যেই তার মুঠোফোনে কর্মস্থল (আল-মুসলিম গ্রুপ) থেকে পাঠানো একটি খুদে বার্তায় জানতে পারেন, শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এই ছোট্ট খুদে বার্তা তার ঈদের আনন্দ মাটি করে দেয়। আল্পনার মতো আরও ১ হাজার ৮৬৭ শ্রমিক ও স্টাফকেও ঈদের ছুটির মধ্যে একইভাবে ছাঁটাই করা হয়। তবে এই বার্তা অনেকেই জানতেন না।
ঈদের ছুটি শেষে শনিবার সকালে প্রথম কর্মদিবসে কর্মস্থলে এসে কারখানায় প্রবেশ করতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা। সকাল ৯টায় কয়েকশ কর্মী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকাগামী লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কের একপাশে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ঘণ্টাখানেক পর পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধে তারা অবরোধ তুলে নেন।
কর্মীদের অভিযোগ, ২৬ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই না করে ২০ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে তিন মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থসহ অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও দাবি করেছেন, ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় শ্রম আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
আল-মুসলিম গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত জনবল কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রুপটির তিনটি কারখানায় কর্মরত ১৬ হাজার ২০০ কর্মী ও ১০ হাজার ৮০০ স্টাফের মধ্যে ১ হাজার ৮৬৮ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর মধ্যে উলাইল এলাকার একেএম নিটওয়্যার লিমিটেডের ১ হাজার ২৮৬, রেডিও কলোনির প্যাসিফিক ব্ল–জিনস ওয়্যারের ৫২৯ এবং আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলসের ৫৩ কর্মী ও স্টাফ রয়েছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















