আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
লালমনিরহাট পৌরসভার বাবুপাড়া এলাকায় ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। স্বামীকে আঘাতের পর নিজের শরীরেও ধারাল ছুরি দিয়ে আঘাত করেন উম্মে জান্নাত সাথী নামের ওই গৃহবধূ।
বুধবার সকালের দিকে এ ঘটনার পর সাথীকে আটক করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। অপরদিকে তার স্বামী এহসানুল হক হৃদয়কে গুরুতর আহত অবস্থায় পাঠানো হয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। হৃদয় শহরের গাউসিয়া মসজিদের ইমাম এরশাদ উল্লাহর ছেলে ও তার স্ত্রী জেলার আদিতমারীর রুহুল কুদ্দুসের মেয়ে।
হৃদয় পরকীয়ায় জড়িত- এমন সন্দেহে স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেমের সূত্র ধরে ২০২৫ সালে জুলাই মাসে হৃদয় ও সাথীর বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে একে অপরকে তারা সন্দেহ করত। এরই জেরে কয়েক দিন আগে সাথী রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে যান। তবে গত মঙ্গলবার আবারও স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন। এ অবস্থায় বুধবার সকালে শোবার ঘরে চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে হৃদয়কে গলার একপাশে কাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পাশাপাশি তার স্ত্রীর গলাতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হৃদয়কে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। অপরদিকে সাথীকে আটক করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হৃদয়ের গলায় ২৮টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে তার স্ত্রীর গলায় ছয়টি গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ধারণা, বাবার বাড়ি থেকে আসার সময় সাথী একটি ছুরি নিয়ে এসেছিল। সেই ছুরি দিয়েই ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা শেষে নিজের গলাতেও আঘাত করেছে।
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ছুরিসহ সাথীকে আটক করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















