ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সীমান্তের শেষগ্রামে ঢুকে পড়ে চিনা সেনা: বিবিসি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারত-চিন-ভুটানের সীমান্তে মিশে থাকা বিতর্কিত জমি ডোকলাম নিয়ে গত কয়েক মাসের পরিস্থিতি ছিল ঘোরালো৷ তবে ভারত ও চিনের এই দুই দেশ এখন বিষয়টি নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে এসেছে৷ যুদ্ধ পরিস্থিতি আপাতত স্থগিত৷ তবু দুই দেশের সেনা সীমান্তে কড়া নজর রেখেছে৷ তবে চিন সীমান্তবর্তী ভারতের সব জায়গা কি সুরক্ষিত? তারই খোঁজ নিতে গিয়েছিল বিবিসি৷

কী বলা হল রিপোর্টে? প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অরুণাচল প্রদেশ দিয়ে চিনে প্রবেশ করতে হলে ভারতীয় সীমান্তের সর্বশেষ গ্রামে গিয়েছিলেন বিবিসি প্রতিনিধিরা৷

দুর্গম পাহাড়ি পথ দিয়ে সেখানে যেতে হয়৷অরুণাচল প্রদেশের আরও উত্তর পূর্বে গেলে তবেই এই গ্রামটির দর্শন পাওয়া যায়৷ গ্রামের নাম চাংলোহাগাম৷ মেঘ ও পাহাড় এখানে কথা বলে৷ বৃষ্টি সিক্ত গ্রামের সৌন্দর্য আরও মোহময়ী৷ এক কথায় প্রাকৃতিক পরিবেশ এখানে অসাধারণ, অদ্বিতীয়, তুলনাহীন৷ কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন জীবন খুব কষ্টকর৷ কারোর শারীরিক কোনও সমস্যা হলে আশপাশে কোনও হাসপাতাল নেই৷ রোগীকে নিয়ে যেতে হয় ৫ ঘণ্টা দূরের হাসপাতালে৷ রাতবিরেতে কেউ অসুস্থ হলে তাই পড়শিরাই ভরসা৷

বিবিসি জানাচ্ছে, সীমান্তের উলটো দিকের অবস্থা কিন্তু তথৈবচ নয়৷ উন্নয়নের জন্য চিন সরকার সেখানে অনেক কিছু করেছে৷ পাকা রাস্তা আছে, প্রকৃত পরিকাঠামো আছে অনেকদিন৷ সীমান্তের কাছাকাছি যে পরিবারগুলো থাকে, তাদের জন্য বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে চিন সরকার৷ তার উপর সম্প্রতি সীমান্ত পর্যন্ত রাস্তাও তৈরি হয়েছে৷

চিন নিজের সীমান্তের দিকে নজর দেওয়ার ফলে যাতায়াতে সুবিধা হয়েছে৷ ফলে ভারতের দিকে নজর দিতে তাদের আর অসুবিধা হয় না৷ চাংলোহাগামের বাসিন্দারা ভারতীয় জায়গায় চিনা সেনাকে দেখেছে৷ যদিও এই খবরের সত্যতা জানার কোনও উপায় নেই৷ কিন্তু গ্রামবাসীদের দাবী, তারা এক আধবার নয়৷

বহুবার চিনা জওয়ানদের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছে৷ একজন তো এও দাবি করেছেন, তিনি ভারতীয় সীমান্ত থেকে ১০০ মিটার ভিতরে, ভারতের দিকে চিনা ফৌজ পিপলস লিবারেশন আর্মিকে দেখেছেন৷ চিনারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, কাছাকাছি কতজন ভারতীয় জওয়ান আছেন? সেই ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, তাঁদের পাশে ৩০০ ভারতীয় সেনা আছে৷ এরপরও কিছুক্ষণ ভারতীয় ভূখণ্ডে সময় কাটায় চিনারা৷পরে ফিরে যায়৷

১৯৬২ সালে সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে যুদ্ধ হয়৷ যুদ্ধ থেমে যায়৷ কিন্তু সীমান্ত সমস্যার সমাধান আজও হয়নি৷ কয়েকমাস আগে ডোকলাম সমস্যার সময় এই ইস্যুটি আবার উঠেছিল৷ এক বিশেষজ্ঞের মতে, এবারের পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ৷ ভারত-চিন ,সীমান্ত এমন একটি জায়গায় আছে যেখানে কোনও কাঁটাতার লাগানো বা দাগ টানা সম্ভব নয়৷ এক্ষেত্রে একটাইমাত্র উপায় লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল মেনে চলা৷ দুই দেশকেই সেদিকে সচেষ্ট হতে হবে৷

তবে চাংলোহাগামের লোকেরা কিন্তু এই নিয়ে ভাবিত নয়৷ ভৌগলিক অবস্থান এতটাই দুর্গম যে তাদের কাছে ভারত-চিন কোনওটাই কোনও প্রভাব ফেলে না৷ নিজেদের দিন গুজরান করতেই ব্যস্ত থাকেন তারা৷

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সীমান্তের শেষগ্রামে ঢুকে পড়ে চিনা সেনা: বিবিসি

আপডেট সময় ১২:০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারত-চিন-ভুটানের সীমান্তে মিশে থাকা বিতর্কিত জমি ডোকলাম নিয়ে গত কয়েক মাসের পরিস্থিতি ছিল ঘোরালো৷ তবে ভারত ও চিনের এই দুই দেশ এখন বিষয়টি নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে এসেছে৷ যুদ্ধ পরিস্থিতি আপাতত স্থগিত৷ তবু দুই দেশের সেনা সীমান্তে কড়া নজর রেখেছে৷ তবে চিন সীমান্তবর্তী ভারতের সব জায়গা কি সুরক্ষিত? তারই খোঁজ নিতে গিয়েছিল বিবিসি৷

কী বলা হল রিপোর্টে? প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অরুণাচল প্রদেশ দিয়ে চিনে প্রবেশ করতে হলে ভারতীয় সীমান্তের সর্বশেষ গ্রামে গিয়েছিলেন বিবিসি প্রতিনিধিরা৷

দুর্গম পাহাড়ি পথ দিয়ে সেখানে যেতে হয়৷অরুণাচল প্রদেশের আরও উত্তর পূর্বে গেলে তবেই এই গ্রামটির দর্শন পাওয়া যায়৷ গ্রামের নাম চাংলোহাগাম৷ মেঘ ও পাহাড় এখানে কথা বলে৷ বৃষ্টি সিক্ত গ্রামের সৌন্দর্য আরও মোহময়ী৷ এক কথায় প্রাকৃতিক পরিবেশ এখানে অসাধারণ, অদ্বিতীয়, তুলনাহীন৷ কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন জীবন খুব কষ্টকর৷ কারোর শারীরিক কোনও সমস্যা হলে আশপাশে কোনও হাসপাতাল নেই৷ রোগীকে নিয়ে যেতে হয় ৫ ঘণ্টা দূরের হাসপাতালে৷ রাতবিরেতে কেউ অসুস্থ হলে তাই পড়শিরাই ভরসা৷

বিবিসি জানাচ্ছে, সীমান্তের উলটো দিকের অবস্থা কিন্তু তথৈবচ নয়৷ উন্নয়নের জন্য চিন সরকার সেখানে অনেক কিছু করেছে৷ পাকা রাস্তা আছে, প্রকৃত পরিকাঠামো আছে অনেকদিন৷ সীমান্তের কাছাকাছি যে পরিবারগুলো থাকে, তাদের জন্য বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে চিন সরকার৷ তার উপর সম্প্রতি সীমান্ত পর্যন্ত রাস্তাও তৈরি হয়েছে৷

চিন নিজের সীমান্তের দিকে নজর দেওয়ার ফলে যাতায়াতে সুবিধা হয়েছে৷ ফলে ভারতের দিকে নজর দিতে তাদের আর অসুবিধা হয় না৷ চাংলোহাগামের বাসিন্দারা ভারতীয় জায়গায় চিনা সেনাকে দেখেছে৷ যদিও এই খবরের সত্যতা জানার কোনও উপায় নেই৷ কিন্তু গ্রামবাসীদের দাবী, তারা এক আধবার নয়৷

বহুবার চিনা জওয়ানদের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছে৷ একজন তো এও দাবি করেছেন, তিনি ভারতীয় সীমান্ত থেকে ১০০ মিটার ভিতরে, ভারতের দিকে চিনা ফৌজ পিপলস লিবারেশন আর্মিকে দেখেছেন৷ চিনারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, কাছাকাছি কতজন ভারতীয় জওয়ান আছেন? সেই ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, তাঁদের পাশে ৩০০ ভারতীয় সেনা আছে৷ এরপরও কিছুক্ষণ ভারতীয় ভূখণ্ডে সময় কাটায় চিনারা৷পরে ফিরে যায়৷

১৯৬২ সালে সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে যুদ্ধ হয়৷ যুদ্ধ থেমে যায়৷ কিন্তু সীমান্ত সমস্যার সমাধান আজও হয়নি৷ কয়েকমাস আগে ডোকলাম সমস্যার সময় এই ইস্যুটি আবার উঠেছিল৷ এক বিশেষজ্ঞের মতে, এবারের পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ৷ ভারত-চিন ,সীমান্ত এমন একটি জায়গায় আছে যেখানে কোনও কাঁটাতার লাগানো বা দাগ টানা সম্ভব নয়৷ এক্ষেত্রে একটাইমাত্র উপায় লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল মেনে চলা৷ দুই দেশকেই সেদিকে সচেষ্ট হতে হবে৷

তবে চাংলোহাগামের লোকেরা কিন্তু এই নিয়ে ভাবিত নয়৷ ভৌগলিক অবস্থান এতটাই দুর্গম যে তাদের কাছে ভারত-চিন কোনওটাই কোনও প্রভাব ফেলে না৷ নিজেদের দিন গুজরান করতেই ব্যস্ত থাকেন তারা৷