ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

সীমান্তের শেষগ্রামে ঢুকে পড়ে চিনা সেনা: বিবিসি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারত-চিন-ভুটানের সীমান্তে মিশে থাকা বিতর্কিত জমি ডোকলাম নিয়ে গত কয়েক মাসের পরিস্থিতি ছিল ঘোরালো৷ তবে ভারত ও চিনের এই দুই দেশ এখন বিষয়টি নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে এসেছে৷ যুদ্ধ পরিস্থিতি আপাতত স্থগিত৷ তবু দুই দেশের সেনা সীমান্তে কড়া নজর রেখেছে৷ তবে চিন সীমান্তবর্তী ভারতের সব জায়গা কি সুরক্ষিত? তারই খোঁজ নিতে গিয়েছিল বিবিসি৷

কী বলা হল রিপোর্টে? প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অরুণাচল প্রদেশ দিয়ে চিনে প্রবেশ করতে হলে ভারতীয় সীমান্তের সর্বশেষ গ্রামে গিয়েছিলেন বিবিসি প্রতিনিধিরা৷

দুর্গম পাহাড়ি পথ দিয়ে সেখানে যেতে হয়৷অরুণাচল প্রদেশের আরও উত্তর পূর্বে গেলে তবেই এই গ্রামটির দর্শন পাওয়া যায়৷ গ্রামের নাম চাংলোহাগাম৷ মেঘ ও পাহাড় এখানে কথা বলে৷ বৃষ্টি সিক্ত গ্রামের সৌন্দর্য আরও মোহময়ী৷ এক কথায় প্রাকৃতিক পরিবেশ এখানে অসাধারণ, অদ্বিতীয়, তুলনাহীন৷ কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন জীবন খুব কষ্টকর৷ কারোর শারীরিক কোনও সমস্যা হলে আশপাশে কোনও হাসপাতাল নেই৷ রোগীকে নিয়ে যেতে হয় ৫ ঘণ্টা দূরের হাসপাতালে৷ রাতবিরেতে কেউ অসুস্থ হলে তাই পড়শিরাই ভরসা৷

বিবিসি জানাচ্ছে, সীমান্তের উলটো দিকের অবস্থা কিন্তু তথৈবচ নয়৷ উন্নয়নের জন্য চিন সরকার সেখানে অনেক কিছু করেছে৷ পাকা রাস্তা আছে, প্রকৃত পরিকাঠামো আছে অনেকদিন৷ সীমান্তের কাছাকাছি যে পরিবারগুলো থাকে, তাদের জন্য বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে চিন সরকার৷ তার উপর সম্প্রতি সীমান্ত পর্যন্ত রাস্তাও তৈরি হয়েছে৷

চিন নিজের সীমান্তের দিকে নজর দেওয়ার ফলে যাতায়াতে সুবিধা হয়েছে৷ ফলে ভারতের দিকে নজর দিতে তাদের আর অসুবিধা হয় না৷ চাংলোহাগামের বাসিন্দারা ভারতীয় জায়গায় চিনা সেনাকে দেখেছে৷ যদিও এই খবরের সত্যতা জানার কোনও উপায় নেই৷ কিন্তু গ্রামবাসীদের দাবী, তারা এক আধবার নয়৷

বহুবার চিনা জওয়ানদের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছে৷ একজন তো এও দাবি করেছেন, তিনি ভারতীয় সীমান্ত থেকে ১০০ মিটার ভিতরে, ভারতের দিকে চিনা ফৌজ পিপলস লিবারেশন আর্মিকে দেখেছেন৷ চিনারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, কাছাকাছি কতজন ভারতীয় জওয়ান আছেন? সেই ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, তাঁদের পাশে ৩০০ ভারতীয় সেনা আছে৷ এরপরও কিছুক্ষণ ভারতীয় ভূখণ্ডে সময় কাটায় চিনারা৷পরে ফিরে যায়৷

১৯৬২ সালে সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে যুদ্ধ হয়৷ যুদ্ধ থেমে যায়৷ কিন্তু সীমান্ত সমস্যার সমাধান আজও হয়নি৷ কয়েকমাস আগে ডোকলাম সমস্যার সময় এই ইস্যুটি আবার উঠেছিল৷ এক বিশেষজ্ঞের মতে, এবারের পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ৷ ভারত-চিন ,সীমান্ত এমন একটি জায়গায় আছে যেখানে কোনও কাঁটাতার লাগানো বা দাগ টানা সম্ভব নয়৷ এক্ষেত্রে একটাইমাত্র উপায় লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল মেনে চলা৷ দুই দেশকেই সেদিকে সচেষ্ট হতে হবে৷

তবে চাংলোহাগামের লোকেরা কিন্তু এই নিয়ে ভাবিত নয়৷ ভৌগলিক অবস্থান এতটাই দুর্গম যে তাদের কাছে ভারত-চিন কোনওটাই কোনও প্রভাব ফেলে না৷ নিজেদের দিন গুজরান করতেই ব্যস্ত থাকেন তারা৷

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

সীমান্তের শেষগ্রামে ঢুকে পড়ে চিনা সেনা: বিবিসি

আপডেট সময় ১২:০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারত-চিন-ভুটানের সীমান্তে মিশে থাকা বিতর্কিত জমি ডোকলাম নিয়ে গত কয়েক মাসের পরিস্থিতি ছিল ঘোরালো৷ তবে ভারত ও চিনের এই দুই দেশ এখন বিষয়টি নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে এসেছে৷ যুদ্ধ পরিস্থিতি আপাতত স্থগিত৷ তবু দুই দেশের সেনা সীমান্তে কড়া নজর রেখেছে৷ তবে চিন সীমান্তবর্তী ভারতের সব জায়গা কি সুরক্ষিত? তারই খোঁজ নিতে গিয়েছিল বিবিসি৷

কী বলা হল রিপোর্টে? প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অরুণাচল প্রদেশ দিয়ে চিনে প্রবেশ করতে হলে ভারতীয় সীমান্তের সর্বশেষ গ্রামে গিয়েছিলেন বিবিসি প্রতিনিধিরা৷

দুর্গম পাহাড়ি পথ দিয়ে সেখানে যেতে হয়৷অরুণাচল প্রদেশের আরও উত্তর পূর্বে গেলে তবেই এই গ্রামটির দর্শন পাওয়া যায়৷ গ্রামের নাম চাংলোহাগাম৷ মেঘ ও পাহাড় এখানে কথা বলে৷ বৃষ্টি সিক্ত গ্রামের সৌন্দর্য আরও মোহময়ী৷ এক কথায় প্রাকৃতিক পরিবেশ এখানে অসাধারণ, অদ্বিতীয়, তুলনাহীন৷ কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন জীবন খুব কষ্টকর৷ কারোর শারীরিক কোনও সমস্যা হলে আশপাশে কোনও হাসপাতাল নেই৷ রোগীকে নিয়ে যেতে হয় ৫ ঘণ্টা দূরের হাসপাতালে৷ রাতবিরেতে কেউ অসুস্থ হলে তাই পড়শিরাই ভরসা৷

বিবিসি জানাচ্ছে, সীমান্তের উলটো দিকের অবস্থা কিন্তু তথৈবচ নয়৷ উন্নয়নের জন্য চিন সরকার সেখানে অনেক কিছু করেছে৷ পাকা রাস্তা আছে, প্রকৃত পরিকাঠামো আছে অনেকদিন৷ সীমান্তের কাছাকাছি যে পরিবারগুলো থাকে, তাদের জন্য বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে চিন সরকার৷ তার উপর সম্প্রতি সীমান্ত পর্যন্ত রাস্তাও তৈরি হয়েছে৷

চিন নিজের সীমান্তের দিকে নজর দেওয়ার ফলে যাতায়াতে সুবিধা হয়েছে৷ ফলে ভারতের দিকে নজর দিতে তাদের আর অসুবিধা হয় না৷ চাংলোহাগামের বাসিন্দারা ভারতীয় জায়গায় চিনা সেনাকে দেখেছে৷ যদিও এই খবরের সত্যতা জানার কোনও উপায় নেই৷ কিন্তু গ্রামবাসীদের দাবী, তারা এক আধবার নয়৷

বহুবার চিনা জওয়ানদের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছে৷ একজন তো এও দাবি করেছেন, তিনি ভারতীয় সীমান্ত থেকে ১০০ মিটার ভিতরে, ভারতের দিকে চিনা ফৌজ পিপলস লিবারেশন আর্মিকে দেখেছেন৷ চিনারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, কাছাকাছি কতজন ভারতীয় জওয়ান আছেন? সেই ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, তাঁদের পাশে ৩০০ ভারতীয় সেনা আছে৷ এরপরও কিছুক্ষণ ভারতীয় ভূখণ্ডে সময় কাটায় চিনারা৷পরে ফিরে যায়৷

১৯৬২ সালে সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে যুদ্ধ হয়৷ যুদ্ধ থেমে যায়৷ কিন্তু সীমান্ত সমস্যার সমাধান আজও হয়নি৷ কয়েকমাস আগে ডোকলাম সমস্যার সময় এই ইস্যুটি আবার উঠেছিল৷ এক বিশেষজ্ঞের মতে, এবারের পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ৷ ভারত-চিন ,সীমান্ত এমন একটি জায়গায় আছে যেখানে কোনও কাঁটাতার লাগানো বা দাগ টানা সম্ভব নয়৷ এক্ষেত্রে একটাইমাত্র উপায় লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল মেনে চলা৷ দুই দেশকেই সেদিকে সচেষ্ট হতে হবে৷

তবে চাংলোহাগামের লোকেরা কিন্তু এই নিয়ে ভাবিত নয়৷ ভৌগলিক অবস্থান এতটাই দুর্গম যে তাদের কাছে ভারত-চিন কোনওটাই কোনও প্রভাব ফেলে না৷ নিজেদের দিন গুজরান করতেই ব্যস্ত থাকেন তারা৷