ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মাত্র ১৫ বছরেই পিএইচডি: বিশ্বকে চমকে দিলো লরাঁ সিমন্স

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মাত্র ১৫ বছর বয়সে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে বেলজিয়ামের লরাঁ সিমন্স। তাকে অনেকেই ‘বেলজিয়ামের লিটল আইনস্টাইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব আন্তওয়ারপেনে নিজের গবেষণাপত্র সফলভাবে উপস্থাপন করেছে লরাঁ। এত কম বয়সে এ ধরনের অর্জন খুবই বিরল, যা অনেকের চোখে রেকর্ডস্বরূপ।

লরাঁর অসাধারণ যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব ছোট বয়সে। মাত্র চার বছর বয়সে প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হয়ে ছয় বছর বয়সে সেই ধাপ শেষ করে। এরপর শিক্ষাজীবনে সে এগোতে থাকে দ্রুতগতিতে। মাত্র ১২ বছর বয়সে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে, যেখানে কাজ করেছে বোসন কণা এবং ব্ল্যাক হোল নিয়ে।

অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং উচ্চ আইকিউ (প্রায় ১৪৫) লরাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এই মাত্রার আইকিউ পৃথিবীতে খুব অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে দেখা যায়।

লরাঁর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ১১ বছর বয়সে, যখন সে তার দাদা-দাদিকে হারায়। এই ঘটনাটি তাকে ভাবতে শেখায় বড় ধরনের বিষয় নিয়ে। পিএইচডি নয়, তার লক্ষ্য হয়ে ওঠে ‘অমরত্ব’ বা মানুষের আয়ু বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করা। এই লক্ষ্য নিয়েই ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করার ইচ্ছা রয়েছে।

লরাঁর অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি ইতিহাসে এ রকম আরও কিছু উদাহরণ আছে। জার্মান প্রতিভা কার্ল ভিট্টা ১৮১৪ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে পিএইচডি অর্জন করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে পদার্থবিজ্ঞানে কম বয়সে ডক্টরেট পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন কারসন হুয়ে–ইউ, যিনি ২১ বছর বয়সে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন।

লরাঁর এই সাফল্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তবে তার পরিবার আপাতত এসব প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

লরাঁর বাবা একবার বলেছিলেন, ‘লরাঁ যেন দুজন—একজন বিজ্ঞানী, আরেকজন সাধারণ শিশু।’

কথাটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে সচেতন অভিভাবকের বার্তা। অসাধারণ মেধার পাশাপাশি, লরাঁ এখনো একটি কিশোর, যার রয়েছে নিজের মতো করে বড় হওয়ার সময়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর বনানী থেকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল হাফিজ গ্রেপ্তার

মাত্র ১৫ বছরেই পিএইচডি: বিশ্বকে চমকে দিলো লরাঁ সিমন্স

আপডেট সময় ০৮:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মাত্র ১৫ বছর বয়সে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে বেলজিয়ামের লরাঁ সিমন্স। তাকে অনেকেই ‘বেলজিয়ামের লিটল আইনস্টাইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব আন্তওয়ারপেনে নিজের গবেষণাপত্র সফলভাবে উপস্থাপন করেছে লরাঁ। এত কম বয়সে এ ধরনের অর্জন খুবই বিরল, যা অনেকের চোখে রেকর্ডস্বরূপ।

লরাঁর অসাধারণ যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব ছোট বয়সে। মাত্র চার বছর বয়সে প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হয়ে ছয় বছর বয়সে সেই ধাপ শেষ করে। এরপর শিক্ষাজীবনে সে এগোতে থাকে দ্রুতগতিতে। মাত্র ১২ বছর বয়সে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে, যেখানে কাজ করেছে বোসন কণা এবং ব্ল্যাক হোল নিয়ে।

অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং উচ্চ আইকিউ (প্রায় ১৪৫) লরাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এই মাত্রার আইকিউ পৃথিবীতে খুব অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে দেখা যায়।

লরাঁর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ১১ বছর বয়সে, যখন সে তার দাদা-দাদিকে হারায়। এই ঘটনাটি তাকে ভাবতে শেখায় বড় ধরনের বিষয় নিয়ে। পিএইচডি নয়, তার লক্ষ্য হয়ে ওঠে ‘অমরত্ব’ বা মানুষের আয়ু বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করা। এই লক্ষ্য নিয়েই ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করার ইচ্ছা রয়েছে।

লরাঁর অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি ইতিহাসে এ রকম আরও কিছু উদাহরণ আছে। জার্মান প্রতিভা কার্ল ভিট্টা ১৮১৪ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে পিএইচডি অর্জন করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে পদার্থবিজ্ঞানে কম বয়সে ডক্টরেট পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন কারসন হুয়ে–ইউ, যিনি ২১ বছর বয়সে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন।

লরাঁর এই সাফল্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তবে তার পরিবার আপাতত এসব প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

লরাঁর বাবা একবার বলেছিলেন, ‘লরাঁ যেন দুজন—একজন বিজ্ঞানী, আরেকজন সাধারণ শিশু।’

কথাটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে সচেতন অভিভাবকের বার্তা। অসাধারণ মেধার পাশাপাশি, লরাঁ এখনো একটি কিশোর, যার রয়েছে নিজের মতো করে বড় হওয়ার সময়।