ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন রাশেদ যেকোনো দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে: জুবাইদা রহমান নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রিজভীর ভাইরাল ভিডিওর নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জামায়াত এমপির প্রবাসী কার্ডধারীদের ভূমি সেবা সহজ করতে ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ মানবতাবিরোধী অপরাধে মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ নারায়ণগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮ রাজধানীতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

মাত্র ১৫ বছরেই পিএইচডি: বিশ্বকে চমকে দিলো লরাঁ সিমন্স

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মাত্র ১৫ বছর বয়সে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে বেলজিয়ামের লরাঁ সিমন্স। তাকে অনেকেই ‘বেলজিয়ামের লিটল আইনস্টাইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব আন্তওয়ারপেনে নিজের গবেষণাপত্র সফলভাবে উপস্থাপন করেছে লরাঁ। এত কম বয়সে এ ধরনের অর্জন খুবই বিরল, যা অনেকের চোখে রেকর্ডস্বরূপ।

লরাঁর অসাধারণ যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব ছোট বয়সে। মাত্র চার বছর বয়সে প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হয়ে ছয় বছর বয়সে সেই ধাপ শেষ করে। এরপর শিক্ষাজীবনে সে এগোতে থাকে দ্রুতগতিতে। মাত্র ১২ বছর বয়সে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে, যেখানে কাজ করেছে বোসন কণা এবং ব্ল্যাক হোল নিয়ে।

অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং উচ্চ আইকিউ (প্রায় ১৪৫) লরাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এই মাত্রার আইকিউ পৃথিবীতে খুব অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে দেখা যায়।

লরাঁর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ১১ বছর বয়সে, যখন সে তার দাদা-দাদিকে হারায়। এই ঘটনাটি তাকে ভাবতে শেখায় বড় ধরনের বিষয় নিয়ে। পিএইচডি নয়, তার লক্ষ্য হয়ে ওঠে ‘অমরত্ব’ বা মানুষের আয়ু বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করা। এই লক্ষ্য নিয়েই ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করার ইচ্ছা রয়েছে।

লরাঁর অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি ইতিহাসে এ রকম আরও কিছু উদাহরণ আছে। জার্মান প্রতিভা কার্ল ভিট্টা ১৮১৪ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে পিএইচডি অর্জন করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে পদার্থবিজ্ঞানে কম বয়সে ডক্টরেট পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন কারসন হুয়ে–ইউ, যিনি ২১ বছর বয়সে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন।

লরাঁর এই সাফল্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তবে তার পরিবার আপাতত এসব প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

লরাঁর বাবা একবার বলেছিলেন, ‘লরাঁ যেন দুজন—একজন বিজ্ঞানী, আরেকজন সাধারণ শিশু।’

কথাটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে সচেতন অভিভাবকের বার্তা। অসাধারণ মেধার পাশাপাশি, লরাঁ এখনো একটি কিশোর, যার রয়েছে নিজের মতো করে বড় হওয়ার সময়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ

মাত্র ১৫ বছরেই পিএইচডি: বিশ্বকে চমকে দিলো লরাঁ সিমন্স

আপডেট সময় ০৮:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মাত্র ১৫ বছর বয়সে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে বেলজিয়ামের লরাঁ সিমন্স। তাকে অনেকেই ‘বেলজিয়ামের লিটল আইনস্টাইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব আন্তওয়ারপেনে নিজের গবেষণাপত্র সফলভাবে উপস্থাপন করেছে লরাঁ। এত কম বয়সে এ ধরনের অর্জন খুবই বিরল, যা অনেকের চোখে রেকর্ডস্বরূপ।

লরাঁর অসাধারণ যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব ছোট বয়সে। মাত্র চার বছর বয়সে প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হয়ে ছয় বছর বয়সে সেই ধাপ শেষ করে। এরপর শিক্ষাজীবনে সে এগোতে থাকে দ্রুতগতিতে। মাত্র ১২ বছর বয়সে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে, যেখানে কাজ করেছে বোসন কণা এবং ব্ল্যাক হোল নিয়ে।

অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং উচ্চ আইকিউ (প্রায় ১৪৫) লরাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এই মাত্রার আইকিউ পৃথিবীতে খুব অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে দেখা যায়।

লরাঁর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ১১ বছর বয়সে, যখন সে তার দাদা-দাদিকে হারায়। এই ঘটনাটি তাকে ভাবতে শেখায় বড় ধরনের বিষয় নিয়ে। পিএইচডি নয়, তার লক্ষ্য হয়ে ওঠে ‘অমরত্ব’ বা মানুষের আয়ু বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করা। এই লক্ষ্য নিয়েই ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করার ইচ্ছা রয়েছে।

লরাঁর অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি ইতিহাসে এ রকম আরও কিছু উদাহরণ আছে। জার্মান প্রতিভা কার্ল ভিট্টা ১৮১৪ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে পিএইচডি অর্জন করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে পদার্থবিজ্ঞানে কম বয়সে ডক্টরেট পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন কারসন হুয়ে–ইউ, যিনি ২১ বছর বয়সে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন।

লরাঁর এই সাফল্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তবে তার পরিবার আপাতত এসব প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

লরাঁর বাবা একবার বলেছিলেন, ‘লরাঁ যেন দুজন—একজন বিজ্ঞানী, আরেকজন সাধারণ শিশু।’

কথাটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে সচেতন অভিভাবকের বার্তা। অসাধারণ মেধার পাশাপাশি, লরাঁ এখনো একটি কিশোর, যার রয়েছে নিজের মতো করে বড় হওয়ার সময়।