ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ মুজিবুর পাকিস্তান রাষ্ট্রকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন: আবদুর রব ইরানের ৪২ যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে দিল্লি: প্রণয় ভার্মা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিলেই আক্রমণ, প্রতিবেশীদের হুঁশিয়ারি ইরানের শেখ হাসিনা সরকারের প্রবণতা এই সরকারেও দেখতে পাচ্ছি: নাহিদ ইসলাম সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে: জোনায়েদ সাকি কুমিল্লায় মন্দিরে দুর্বৃত্তের রেখে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ, পুরোহিতসহ আহত ৪ আবেগি পোস্ট দিয়ে দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত নেতা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ কোটি ডলারের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান: ব্লুমবার্গ চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মুখে আজকের মুসলিম বিশ্ব: মামুনুল হক

ধর্ষণকাণ্ডে আলোচিত সেই কিশোরীকে হত্যা করে, ‘নাটক’ সাজায় সৎ বাবা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত কিশোরী আমেনা আক্তার (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মেয়ের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে তাকে হত্যা করেছে তার সৎ বাবা আশরাফ আলী। গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে এই তথ্য জানিয়েছেন নিহতের সৎ বাবা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ সুপার বলেন, মাধবদী থানার আলোচিত আমেনা হত্যার ঘটনার আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার (২৮) সঙ্গে পূর্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল নিহত আমেনার। এই সুবাদে তারা শারীরিক সম্পর্কেও লিপ্ত হতো। গত ১০ ফেব্রুয়ারি আসামি হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার আমেনাকে হযরত আলীর বাড়িতে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামের মাতবররা সালিশের মাধ্যমে সমাধান করবে বলে জানিয়েছিল।

এদিকে, আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলী ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে একাই আমেনাকে হত্যা করেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, আমেনার বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার কারণে তাকে হত্যা করেছেন।

পুলিশ সুপার জানান, আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলীর কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় এবং অন্যান্য আসামিদের জবানবন্দির সূত্রে তাকে গত শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে সোপর্দ করার পর মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দেন।

এ ঘটনায় প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে মাওনা, গাজীপুর থেকে এবং আরেক অভিযুক্ত হযরত আলীকে গৌরীপুর, ময়মনসিংহ থেকে ইতোপূর্বে গ্রেফতার করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। আলোচিত এ ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মাধবদীর মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা খেত থেকে আমেনার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমেনার সৎ বাবা জানান, ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে বখাটে চক্রটি তরুণী আমেনাকে তার বাবার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ মুজিবুর পাকিস্তান রাষ্ট্রকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন: আবদুর রব

ধর্ষণকাণ্ডে আলোচিত সেই কিশোরীকে হত্যা করে, ‘নাটক’ সাজায় সৎ বাবা

আপডেট সময় ০৫:১৪:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত কিশোরী আমেনা আক্তার (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মেয়ের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে তাকে হত্যা করেছে তার সৎ বাবা আশরাফ আলী। গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে এই তথ্য জানিয়েছেন নিহতের সৎ বাবা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ সুপার বলেন, মাধবদী থানার আলোচিত আমেনা হত্যার ঘটনার আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার (২৮) সঙ্গে পূর্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল নিহত আমেনার। এই সুবাদে তারা শারীরিক সম্পর্কেও লিপ্ত হতো। গত ১০ ফেব্রুয়ারি আসামি হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার আমেনাকে হযরত আলীর বাড়িতে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামের মাতবররা সালিশের মাধ্যমে সমাধান করবে বলে জানিয়েছিল।

এদিকে, আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলী ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে একাই আমেনাকে হত্যা করেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, আমেনার বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার কারণে তাকে হত্যা করেছেন।

পুলিশ সুপার জানান, আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলীর কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় এবং অন্যান্য আসামিদের জবানবন্দির সূত্রে তাকে গত শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে সোপর্দ করার পর মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দেন।

এ ঘটনায় প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে মাওনা, গাজীপুর থেকে এবং আরেক অভিযুক্ত হযরত আলীকে গৌরীপুর, ময়মনসিংহ থেকে ইতোপূর্বে গ্রেফতার করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। আলোচিত এ ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মাধবদীর মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা খেত থেকে আমেনার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমেনার সৎ বাবা জানান, ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে বখাটে চক্রটি তরুণী আমেনাকে তার বাবার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।