ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নুরকে মন্ত্রীত্ব থেকে সরাতে ষড়যন্ত্র করছে দলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জামায়াত-শিবির:অভিযোগ রাশেদ খাঁনের বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে : অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এনসিপি থেকে আরও এক নেত্রীর পদত্যাগ হামের টিকা না দেওয়া বিগত দুই সরকারের ক্ষমাহীন অপরাধ: প্রধানমন্ত্রী সরকার গত ২ মাসে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে : প্রেস সচিব সংসদ বয়কটে ক্ষতিগ্রস্ত গণতন্ত্র, অধিকার বঞ্চিত জনগণ : স্পিকার হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে গুলি ইরানি বাহিনীর, ঝুঁকিতে যুদ্ধবিরতি হাদি হত্যা : অস্ত্র সরবরাহকারী মাজেদুলের দায় স্বীকার ইউটিউব দেখে অকটেন তৈরির চেষ্টা, বিস্ফোরণে প্রাণ গেলো ব্যবসায়ীর ক্যাপ্টেনস কার্ড নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তাপসের পোস্ট, পরে ‘ডিলিট’

সম্মান না পেলে আর ক্রিকেটে ফিরবেন না বিজয়

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক : 

বিসিএলের ফাইনালের দিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন এনামুল হক বিজয়। স্টেডিয়াম চত্বরে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের খেলা দেখলেও নিজের না খেলতে পারার আক্ষেপ লুকাতে পারেননি তিনি। স্টেডিয়াম ছাড়ার আগে বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সম্মান ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তিনি আর ক্রিকেটে ফিরবেন না।

২০২৫ বিপিএলে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলেছিলেন বিজয়। দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পাশাপাশি দলটির নেতৃত্বও ছিল তার কাঁধে। কিন্তু টুর্নামেন্টের মাঝপথেই তাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আসর শেষে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শালের পরামর্শে ৯ জন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে বিজয় ছাড়াও ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, সানজামুল ইসলামরা। বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও এই অভিযোগের কারণে সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে খেলা হয়নি তাদের।

বিপিএলে না থাকলেও ঘরোয়া অন্যান্য টুর্নামেন্টে খেলতে বাধা ছিল না তাদের। তবে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপে সুযোগ পাননি বিজয়। সর্বশেষ বিসিএলের স্কোয়াডে থাকলেও খেলেননি তিনি। এক টুর্নামেন্টে খেলতে দেওয়া হবে আর অন্যটিতে হবে না, এমন দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

বিজয় বলেন, ‘আমাকে একটা টুর্নামেন্ট খেলতে দেওয়া হবে, আরেকটাতে দেওয়া হবে না। এভাবে চলতে পারে না। আমি পেশাদার ক্রিকেটার, ১০-১২ বছর ধরে জাতীয় দলে খেলেছি, ৫১টা সেঞ্চুরি করেছি। অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি তো উড়ে এসে জুড়ে বসিনি যে আমাকে যা ইচ্ছা তাই বলা যাবে। বিষয়টি এত দীর্ঘ হওয়া উচিত নয়।’

অভিযোগ ওঠার পর ফেসবুক লাইভে এসে বিসিবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন বিজয়। প্রমাণ পেলে আজীবন বহিষ্কারের দাবিও তুলেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিসিবি কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।

বিষয়টিকে হাস্যকর উল্লেখ করে বিজয় বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে সেটা বের করতে এক-দুই সপ্তাহ লাগার কথা। দুই বছর ধরে কেউ কিছু বের করতে পারছে না মানে সে কিছু করেনি। আমি তো আর নাসায় চাকরি করি না যে নীরবে এমন কিছু করব যা কেউ ধরতে পারবে না! আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলছি, আমি কিছু করিনি। প্রমাণ দেখাতে পারলে আমি আর ক্রিকেট খেলব না।’

অভিযোগের কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) গত আসরে শুরুতে দল পাননি, পরে পেলেও খেলতে হয়েছে কম পারিশ্রমিকে। এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চান না তিনি। ক্রিকেটে ফেরার শর্ত হিসেবে বিজয় বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত না বিসিবি সসম্মানে সবাইকে জানাচ্ছে যে বিজয় অপরাধী নয়, তার পেমেন্ট ক্লিয়ার করছে এবং সন্দেহের তালিকা থেকে নাম কাটছে ততক্ষণ আমি খেলব না। সম্মানের জন্যই ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলে আসছি, টাকার জন্য নয়। সেই সম্মান আমি ফেরত চাই।’

এই সমস্যার সমাধানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বিজয়। তবে সভাপতির কাছ থেকে কোনো সাড়াই পাননি তিনি।

হতাশ বিজয় বলেন, ‘আমি বুলবুল ভাইকে কল করে পাইনি। এসএমএস করে কথা বলার অনুরোধ করলেও তিনি রিপ্লাই দেননি। ফারুক ভাই ও মিঠু ভাই শুধু বলেছেন, ‘দেখছি, হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’ বিষয়টা এভাবেই ঝুলে আছে। এখন সব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নুরকে মন্ত্রীত্ব থেকে সরাতে ষড়যন্ত্র করছে দলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জামায়াত-শিবির:অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

সম্মান না পেলে আর ক্রিকেটে ফিরবেন না বিজয়

আপডেট সময় ০৮:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক : 

বিসিএলের ফাইনালের দিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন এনামুল হক বিজয়। স্টেডিয়াম চত্বরে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের খেলা দেখলেও নিজের না খেলতে পারার আক্ষেপ লুকাতে পারেননি তিনি। স্টেডিয়াম ছাড়ার আগে বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সম্মান ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তিনি আর ক্রিকেটে ফিরবেন না।

২০২৫ বিপিএলে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলেছিলেন বিজয়। দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পাশাপাশি দলটির নেতৃত্বও ছিল তার কাঁধে। কিন্তু টুর্নামেন্টের মাঝপথেই তাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আসর শেষে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শালের পরামর্শে ৯ জন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে বিজয় ছাড়াও ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, সানজামুল ইসলামরা। বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও এই অভিযোগের কারণে সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে খেলা হয়নি তাদের।

বিপিএলে না থাকলেও ঘরোয়া অন্যান্য টুর্নামেন্টে খেলতে বাধা ছিল না তাদের। তবে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপে সুযোগ পাননি বিজয়। সর্বশেষ বিসিএলের স্কোয়াডে থাকলেও খেলেননি তিনি। এক টুর্নামেন্টে খেলতে দেওয়া হবে আর অন্যটিতে হবে না, এমন দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

বিজয় বলেন, ‘আমাকে একটা টুর্নামেন্ট খেলতে দেওয়া হবে, আরেকটাতে দেওয়া হবে না। এভাবে চলতে পারে না। আমি পেশাদার ক্রিকেটার, ১০-১২ বছর ধরে জাতীয় দলে খেলেছি, ৫১টা সেঞ্চুরি করেছি। অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি তো উড়ে এসে জুড়ে বসিনি যে আমাকে যা ইচ্ছা তাই বলা যাবে। বিষয়টি এত দীর্ঘ হওয়া উচিত নয়।’

অভিযোগ ওঠার পর ফেসবুক লাইভে এসে বিসিবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন বিজয়। প্রমাণ পেলে আজীবন বহিষ্কারের দাবিও তুলেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিসিবি কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।

বিষয়টিকে হাস্যকর উল্লেখ করে বিজয় বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে সেটা বের করতে এক-দুই সপ্তাহ লাগার কথা। দুই বছর ধরে কেউ কিছু বের করতে পারছে না মানে সে কিছু করেনি। আমি তো আর নাসায় চাকরি করি না যে নীরবে এমন কিছু করব যা কেউ ধরতে পারবে না! আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলছি, আমি কিছু করিনি। প্রমাণ দেখাতে পারলে আমি আর ক্রিকেট খেলব না।’

অভিযোগের কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) গত আসরে শুরুতে দল পাননি, পরে পেলেও খেলতে হয়েছে কম পারিশ্রমিকে। এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চান না তিনি। ক্রিকেটে ফেরার শর্ত হিসেবে বিজয় বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত না বিসিবি সসম্মানে সবাইকে জানাচ্ছে যে বিজয় অপরাধী নয়, তার পেমেন্ট ক্লিয়ার করছে এবং সন্দেহের তালিকা থেকে নাম কাটছে ততক্ষণ আমি খেলব না। সম্মানের জন্যই ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলে আসছি, টাকার জন্য নয়। সেই সম্মান আমি ফেরত চাই।’

এই সমস্যার সমাধানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বিজয়। তবে সভাপতির কাছ থেকে কোনো সাড়াই পাননি তিনি।

হতাশ বিজয় বলেন, ‘আমি বুলবুল ভাইকে কল করে পাইনি। এসএমএস করে কথা বলার অনুরোধ করলেও তিনি রিপ্লাই দেননি। ফারুক ভাই ও মিঠু ভাই শুধু বলেছেন, ‘দেখছি, হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’ বিষয়টা এভাবেই ঝুলে আছে। এখন সব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।’