ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার:প্রধানমন্ত্রী ২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত, ১০ সরকারি বিল পাস সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চালু হবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ বস্ত্র খাত পুনরুজ্জীবনে গভর্নরকে বিটিএমএ’র ১০ দফা প্রস্তাব থানায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা, উদ্ধার করল পুলিশ কাতারের সাবেক আমিরের স্মরণে রাজধানীতে সড়কের নামকরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জুলাইকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এলো ১৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম হলেই ব্যবস্থা: ত্রাণমন্ত্রী জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, লিখে গেলেন চিরকুট

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন এক শিক্ষার্থী। আত্মহত্যার পূর্বে নিজের বেকারত্বের কথা উল্লেখ করে একটি চিরকুট লিখে গেছেন আবু কালাম (১৯) নামের ওই শিক্ষার্থী। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার গনকপাড়া স্লুইসগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দলদলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহজালাল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আবু কালাম উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের গনকপাড়া এলাকার গোলজার আলীর ছেলে।

এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা জানায়, কালাম স্থানীয় এমএ মতিন কারিগরি ও কৃষি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় কালাম প্রায় অস্বচ্ছলতার কথা স্বজনদের কাছে প্রকাশ করতেন। শনিবার গভীর রাতে অভিমান করে নিজ কক্ষের আড়ার সঙ্গে রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার পূর্বে কালাম একটি চিরকুট লিখে যান।

নিহত আবু কালাম দুই ভাই বোনের মধ্যে বড় ছিলেন। তার পিতা ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন বলে জানা গেছে।

চিরকুটে তিনি লিখেন, ‘প্রিয় পরিবার, আমি অনেক ভাগ্যবান যে তোমাদের মতো পরিবার আমি পেয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয়, আমার মতো ছেলে পেয়ে তোমরা একটুও সুখী না। কারণ আমি বেকার। সারাজীবন শুধু তোমাদের খেয়ে গিয়েছি, কখনো তোমাদেরকে খাওয়াইতে পারি নাই। তোমরা সবাই আমাকে মাফ করে দিও। আমার জন্য দোয়া করিও। আর আমি দোয়া করি, আমার মতো ছেলে যেন কোনো পরিবারে জন্ম না নেয়।’

নিহতের মা কাজলী বেগম (৪০) বলেন, সেহেরির রান্নার জন্য কালামের কক্ষে রাখা চাল নিতে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করি। কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। এ সময় আমার চিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এসে ঘটনা দেখে থানা পুলিশে খবর দেয়। পরে থানা পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও একটি চিরকুট জব্দ করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার:প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, লিখে গেলেন চিরকুট

আপডেট সময় ১০:০৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন এক শিক্ষার্থী। আত্মহত্যার পূর্বে নিজের বেকারত্বের কথা উল্লেখ করে একটি চিরকুট লিখে গেছেন আবু কালাম (১৯) নামের ওই শিক্ষার্থী। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার গনকপাড়া স্লুইসগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দলদলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহজালাল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আবু কালাম উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের গনকপাড়া এলাকার গোলজার আলীর ছেলে।

এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা জানায়, কালাম স্থানীয় এমএ মতিন কারিগরি ও কৃষি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় কালাম প্রায় অস্বচ্ছলতার কথা স্বজনদের কাছে প্রকাশ করতেন। শনিবার গভীর রাতে অভিমান করে নিজ কক্ষের আড়ার সঙ্গে রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার পূর্বে কালাম একটি চিরকুট লিখে যান।

নিহত আবু কালাম দুই ভাই বোনের মধ্যে বড় ছিলেন। তার পিতা ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন বলে জানা গেছে।

চিরকুটে তিনি লিখেন, ‘প্রিয় পরিবার, আমি অনেক ভাগ্যবান যে তোমাদের মতো পরিবার আমি পেয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয়, আমার মতো ছেলে পেয়ে তোমরা একটুও সুখী না। কারণ আমি বেকার। সারাজীবন শুধু তোমাদের খেয়ে গিয়েছি, কখনো তোমাদেরকে খাওয়াইতে পারি নাই। তোমরা সবাই আমাকে মাফ করে দিও। আমার জন্য দোয়া করিও। আর আমি দোয়া করি, আমার মতো ছেলে যেন কোনো পরিবারে জন্ম না নেয়।’

নিহতের মা কাজলী বেগম (৪০) বলেন, সেহেরির রান্নার জন্য কালামের কক্ষে রাখা চাল নিতে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করি। কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। এ সময় আমার চিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এসে ঘটনা দেখে থানা পুলিশে খবর দেয়। পরে থানা পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও একটি চিরকুট জব্দ করা হয়েছে।