ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তিগুলো খতিয়ে দেখা উচিত: দেবপ্রিয়

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশের সঙ্গে যেসব জানা-অজানা চুক্তি করেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি বলেন, ডকুমেন্টসে দায়-দেনা পরিস্থিতি, বিগত সরকার যে সমস্ত ক্রয় চুক্তি করে গেছে সেগুলোকে আরও ভালো করে পর্যালোচনা করে দেখা উচিত। যে এই চুক্তিতে কোনো নিয়ম-নীতির ব্যত্যয় ঘটেছে কী না। বিগত সরকার যাওয়ার আগে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করেছে। সেসব বৈদেশিক চুক্তি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হয়নি, শুধু আমাদের বন্দর দিয়ে দেওয়ার জন্য হয়নি। আরও অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়েছে যেগুলো হয়ত আমরা অবহিত না।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ঋণ ও দায়–দেনা পরিস্থিতি যেভাবে পেয়েছিলো, তার আরেকটু খারাপ অবস্থায় রেখে গেছে। এটিই হলো সত্য। এটা হতে পারে রাজস্ব আদায়ের অভাব কিংবা চলতি ব্যয়কে সংকোচন না করতে পারা অথবা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সামঞ্জস্য বিধান না করার কারণে। কিন্তু বাস্তবতা হলো– অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ পরিস্থিতি যে অবস্থায় পেয়েছিলো, তার চেয়ে আরও দুর্বল ও নাজুক বিএনপি সরকার পাবে।

দেবপ্রিয় বলেন, এই সমস্ত বৈদেশিক চুক্তিকেও আবার পুনরায় বিবেচনা করা উচিত, যাতে নতুন সরকারের কাছে এর কী ধরনের দায়-দায়িত্ব বর্তায়; যেহেতু এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে পুনর্মূল্যায়ন করতে রাজি আছেন। তাহলে সেগুলো পুনরায় বিবেচনার ভেতরে নিয়ে আসতে হবে বলে আমরা মনে করি। ট্র্যানজিশন দল যদি এই ময়নাতদন্তগুলো করে যেতে পারে, তাহলে অন্য অনেক কাজ সরকার করে যেতে পারবে।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, কিছুটা দম নিতে হবে সরকারকে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে- তারা কি স্প্রিন্ট করবে, নাকি ম্যারাথনে দৌড়াবে? ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আগে ধৈর্য ধরতে হবে। এই অর্থবছরে কিছু করা ঠিক হবে না। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের বড় ব্যর্থতা, তারা তাদের অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো কৌশলপত্র দেখাতে পারেনি। শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনামন্ত্রী একটি প্রতিবেদন তৈরির কথা বলে বিদায় নিয়েছেন।

এই মুহূর্তে জনতুষ্টিবাদী কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই– বলে মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনি কৃচ্ছতা না করেন, সংযম দেখাতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কৃচ্ছতা না দেখান, সংযম না দেখান– তাহলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি থেকে শুরু করে অন্যান্য অসুবিধাগুলো খুবই পরিষ্কারভাবে ভাগ হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। আরও বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

মূল প্রবন্ধে তৌফিকুল ইসলাম বলেন, এই সরকারের প্রথম পরীক্ষা হবে যে, তারা কতখানি বাস্তবসম্মতভাবে বাজেট সংশোধন করতে পারে। একইসঙ্গে আগামী বছরের বাজেট তৈরির কাঠামোটা একটা শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপি অনেকগুলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের দিকে এগোনো উচিত। একবারে বাস্তবায়নের দিকে যাওয়া উচিত হবে না। কারণ, আর্থিক সক্ষমতা বড় একটা চ্যালেঞ্জ হবে এই সরকারের জন্য।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছখ্যাত বিজয়

অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তিগুলো খতিয়ে দেখা উচিত: দেবপ্রিয়

আপডেট সময় ০৬:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশের সঙ্গে যেসব জানা-অজানা চুক্তি করেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি বলেন, ডকুমেন্টসে দায়-দেনা পরিস্থিতি, বিগত সরকার যে সমস্ত ক্রয় চুক্তি করে গেছে সেগুলোকে আরও ভালো করে পর্যালোচনা করে দেখা উচিত। যে এই চুক্তিতে কোনো নিয়ম-নীতির ব্যত্যয় ঘটেছে কী না। বিগত সরকার যাওয়ার আগে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করেছে। সেসব বৈদেশিক চুক্তি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হয়নি, শুধু আমাদের বন্দর দিয়ে দেওয়ার জন্য হয়নি। আরও অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়েছে যেগুলো হয়ত আমরা অবহিত না।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ঋণ ও দায়–দেনা পরিস্থিতি যেভাবে পেয়েছিলো, তার আরেকটু খারাপ অবস্থায় রেখে গেছে। এটিই হলো সত্য। এটা হতে পারে রাজস্ব আদায়ের অভাব কিংবা চলতি ব্যয়কে সংকোচন না করতে পারা অথবা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সামঞ্জস্য বিধান না করার কারণে। কিন্তু বাস্তবতা হলো– অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ পরিস্থিতি যে অবস্থায় পেয়েছিলো, তার চেয়ে আরও দুর্বল ও নাজুক বিএনপি সরকার পাবে।

দেবপ্রিয় বলেন, এই সমস্ত বৈদেশিক চুক্তিকেও আবার পুনরায় বিবেচনা করা উচিত, যাতে নতুন সরকারের কাছে এর কী ধরনের দায়-দায়িত্ব বর্তায়; যেহেতু এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে পুনর্মূল্যায়ন করতে রাজি আছেন। তাহলে সেগুলো পুনরায় বিবেচনার ভেতরে নিয়ে আসতে হবে বলে আমরা মনে করি। ট্র্যানজিশন দল যদি এই ময়নাতদন্তগুলো করে যেতে পারে, তাহলে অন্য অনেক কাজ সরকার করে যেতে পারবে।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, কিছুটা দম নিতে হবে সরকারকে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে- তারা কি স্প্রিন্ট করবে, নাকি ম্যারাথনে দৌড়াবে? ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আগে ধৈর্য ধরতে হবে। এই অর্থবছরে কিছু করা ঠিক হবে না। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের বড় ব্যর্থতা, তারা তাদের অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো কৌশলপত্র দেখাতে পারেনি। শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনামন্ত্রী একটি প্রতিবেদন তৈরির কথা বলে বিদায় নিয়েছেন।

এই মুহূর্তে জনতুষ্টিবাদী কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই– বলে মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনি কৃচ্ছতা না করেন, সংযম দেখাতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কৃচ্ছতা না দেখান, সংযম না দেখান– তাহলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি থেকে শুরু করে অন্যান্য অসুবিধাগুলো খুবই পরিষ্কারভাবে ভাগ হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। আরও বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

মূল প্রবন্ধে তৌফিকুল ইসলাম বলেন, এই সরকারের প্রথম পরীক্ষা হবে যে, তারা কতখানি বাস্তবসম্মতভাবে বাজেট সংশোধন করতে পারে। একইসঙ্গে আগামী বছরের বাজেট তৈরির কাঠামোটা একটা শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপি অনেকগুলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের দিকে এগোনো উচিত। একবারে বাস্তবায়নের দিকে যাওয়া উচিত হবে না। কারণ, আর্থিক সক্ষমতা বড় একটা চ্যালেঞ্জ হবে এই সরকারের জন্য।