ঢাকা ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বিয়ে থেকে বাঁচতে বনবাস, পাতা খেয়েই খান বানালেন ‌‘সিক্স প্যাক’

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে, পরিবারের এই জেদ থেকে বাঁচতে ঘর ছেড়েছিলেন কর্ণাটকের তরুণ বুদান খান হোসামানি। তবে সেই পালানো যে তাঁকে আধুনিক যুগের টারজান বানিয়ে দেবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। গত ১০ বছর ধরে কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলার হেগগোল্লা পাহাড়ি অঞ্চলে সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছেন এই ৩৬ বছর বয়সী যুবক। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই এক দশকে এক দানা শস্য বা রান্না করা খাবার স্পর্শ করেননি তিনি। বনের বানরদের জীবনযাপন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি খাদ্যাভ্যাস হিসেবে বেছে নিয়েছেন গাছের কাঁচা পাতা। বর্তমানে প্রতিদিন অন্তত ছয়বার বিভিন্ন ধরনের ভেষজ পাতা খেয়েই তিনি দিব্যি সুস্থ ও সবল রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বুদান এখন ‘মডার্ন ডে টারজান’ নামে পরিচিত। তিনি জানিয়েছেন, বনের বানররা কীভাবে শুধু পাতা খেয়ে সক্রিয় থাকে, তা দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করেই তিনি এই জীবনধারা রপ্ত করেছেন। তার দাবি, পাহাড়ের প্রায় ২০০ প্রজাতির গাছের মধ্যে কোন পাতাটি সুস্বাদু আর কোনটি পুষ্টিকর, তা এখন তার নখদর্পণে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই দীর্ঘ ১০ বছরে তাকে একবারের জন্যও কোনো অসুখে পড়তে হয়নি বা হাসপাতালের বারান্দা মাড়াতে হয়নি। এমনকি কোনো আধুনিক শরীরচর্চার সরঞ্জাম ছাড়াই শুধুমাত্র প্রাকৃতিক খাবার আর নিয়মিত যোগব্যায়াম করে তিনি তৈরি করেছেন ঈর্ষণীয় ‘সিক্স প্যাক’ শরীর।

বুদানের পরিবার অবশ্য জানিয়েছে, শুরুতে বিয়ের চাপ থাকলেও এখন তারা ছেলেকে ফিরে পেতে উন্মুখ। কিন্তু বুদান নিজের সিদ্ধান্তে অটল। গ্রাম থেকে তার বাবা-মা এবং দুই ভাই বহুবার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তিনি অরণ্যবাস ছাড়তে নারাজ। মাঝেমধ্যে গ্রামে এলে সামান্য চা বা স্যুপ পান করলেও মূল আহার হিসেবে তিনি বনের সবুজ পাতার ওপরেই ভরসা রাখেন। প্রকৃতির কোলেই শান্তি খুঁজে পাওয়া এই তরুণের অস্বাভাবিক অথচ বিস্ময়কর জীবনযাপন এখন ওই এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিয়ে থেকে বাঁচতে বনবাস, পাতা খেয়েই খান বানালেন ‌‘সিক্স প্যাক’

আপডেট সময় ১১:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে, পরিবারের এই জেদ থেকে বাঁচতে ঘর ছেড়েছিলেন কর্ণাটকের তরুণ বুদান খান হোসামানি। তবে সেই পালানো যে তাঁকে আধুনিক যুগের টারজান বানিয়ে দেবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। গত ১০ বছর ধরে কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলার হেগগোল্লা পাহাড়ি অঞ্চলে সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছেন এই ৩৬ বছর বয়সী যুবক। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই এক দশকে এক দানা শস্য বা রান্না করা খাবার স্পর্শ করেননি তিনি। বনের বানরদের জীবনযাপন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি খাদ্যাভ্যাস হিসেবে বেছে নিয়েছেন গাছের কাঁচা পাতা। বর্তমানে প্রতিদিন অন্তত ছয়বার বিভিন্ন ধরনের ভেষজ পাতা খেয়েই তিনি দিব্যি সুস্থ ও সবল রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বুদান এখন ‘মডার্ন ডে টারজান’ নামে পরিচিত। তিনি জানিয়েছেন, বনের বানররা কীভাবে শুধু পাতা খেয়ে সক্রিয় থাকে, তা দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করেই তিনি এই জীবনধারা রপ্ত করেছেন। তার দাবি, পাহাড়ের প্রায় ২০০ প্রজাতির গাছের মধ্যে কোন পাতাটি সুস্বাদু আর কোনটি পুষ্টিকর, তা এখন তার নখদর্পণে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই দীর্ঘ ১০ বছরে তাকে একবারের জন্যও কোনো অসুখে পড়তে হয়নি বা হাসপাতালের বারান্দা মাড়াতে হয়নি। এমনকি কোনো আধুনিক শরীরচর্চার সরঞ্জাম ছাড়াই শুধুমাত্র প্রাকৃতিক খাবার আর নিয়মিত যোগব্যায়াম করে তিনি তৈরি করেছেন ঈর্ষণীয় ‘সিক্স প্যাক’ শরীর।

বুদানের পরিবার অবশ্য জানিয়েছে, শুরুতে বিয়ের চাপ থাকলেও এখন তারা ছেলেকে ফিরে পেতে উন্মুখ। কিন্তু বুদান নিজের সিদ্ধান্তে অটল। গ্রাম থেকে তার বাবা-মা এবং দুই ভাই বহুবার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তিনি অরণ্যবাস ছাড়তে নারাজ। মাঝেমধ্যে গ্রামে এলে সামান্য চা বা স্যুপ পান করলেও মূল আহার হিসেবে তিনি বনের সবুজ পাতার ওপরেই ভরসা রাখেন। প্রকৃতির কোলেই শান্তি খুঁজে পাওয়া এই তরুণের অস্বাভাবিক অথচ বিস্ময়কর জীবনযাপন এখন ওই এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।