ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন যার ডাকে এতদিন আন্দোলন করেছি সেদিন তিনিই আমাকে তাড়িয়ে দিলেন: ইসহাক সরকার আগুন নিয়ে খেলবেন না: হিজবুল্লাহকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করলেন ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য রাশিয়া সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করবে: পুতিন ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প ভুল সংশোধনীর মাধ্যমে জোরদার হবে: অর্থমন্ত্রী হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জামায়াত কর্মীকে হত্যা সংসদে শক্ত প্রভাবের চেষ্টায় এনসিপি, দুর্বল জামায়াত: রুমিন ফারহানা আমেরিকা অপমানিত, ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: জার্মানি ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি চায় না শিক্ষার্থীরা : হুইপ বকুল

নিষিদ্ধপল্লীর কবিতার স্বপ্ন ভাঙার কথা শুনে কাঁদছে লন্ডন

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

লন্ডন: ইচ্ছে ছিল সঙ্গীতশিল্পী হওয়ার৷ সুফি গানের ছন্দে মেতে উঠবে গোটা বিশ্ব৷মুম্বইয়ের এক চিলতে ঘরে শুয়ে এমন স্বপ্নই দেখতো কবিতা হোসমানি৷কিন্তু কবিতার মা ছিলেন পেশায় একজন যৌনকর্মী৷তাই শিল্পী হয়ে ওঠার স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছে৷ এই সমাজ তাকে মেনে নেয়নি৷মায়ের ‘দোষে’ অপরাধী সে৷ নিষিদ্ধপল্লীতে বড় হয়ে ওঠার যন্ত্রণা ঠিক কতটা, লন্ডনের এক অনুষ্ঠানে শোনালেন ৷

তবে, তার এই ‘শাস্তি’ একেবারেই মাথা পেতে মেনে নিয়েছে কবিতা৷ এরজন্য তার কোনও আফসোস নেই৷ তার কথায়, তার বাবা মারা যাওয়ার পরই সংসার চালানোর জন্যই তার মা’কে যৌনপেশা গ্রহণ করতে হয়৷কারো কাছে হাত পেতে নয়৷ বরং নিজের রোজগারের অর্থেই মেয়েকে বড় করতে চেয়েছিলেন কবিতার মা৷এই অনুষ্ঠানে কবিতার মতো আরও ১৪জন উপস্থিত ছিল৷এদের প্রত্যেকেরই বয়স ১৫ থেকে ২২বছরের মধ্যে৷ যারা প্রত্যেকেই নিষিদ্ধপল্লীতেই বড় হয়ে উঠেছে৷ তবে, এর জন্য তারা কেউই অনুতপ্ত নন৷ বরং সমাজের এই কঠিন বাস্তবকে মেনে নিয়েছেন সকলেই৷

নিষিদ্ধপল্লীর ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে একাধিক নাটক তৈরি করেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন৷সেই নাটকগুলিই লন্ডনের বিভিন্ন প্রান্তে মঞ্চস্থ হচ্ছে৷ সম্প্রতি লন্ডনের এডিনবার্গ ফ্রিঞ্জের মঞ্চে ‘লাল বাতি এক্সপ্রেস’ নামের একটি নৃত্যনাট্য মঞ্চস্থ হয়৷বাস্তবের মূল সমস্যা অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তোলে কবিতা ও তার অন্যান্য সঙ্গীরা৷যার চিত্রনাট্যের প্রতিটি লাইনে ছিল কবিতার মায়ের মতো অন্যান্য যৌনকর্মীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা৷ জীবনে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে আজও ‘যৌনকর্মী’দের কতটা লাঞ্চনা বঞ্চনার শিকার হতে হয় তাই অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে দেখিয়ে দিল কবিতার মতো এক ঝাঁক কিশোর-কিশোরী৷মুম্বইয়ের রেড লাইনের রোজনামচা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না দর্শকরাও৷ অনুষ্ঠান শেষে কবিতা জানালেন, ‘‘মাত্র ন’বছর বয়সে একটি বালিকা ধর্ষণের শিকার হয়৷সেই ছবিই আমরা তুলে ধরেছিলাম৷’’পাশাপাশি সে আরও বলে, একজন সাধারণ মেয়ে কোন পথে নিষিদ্ধপল্লীতে যায় সেই কথাই বলার চেষ্টা করা হয়েছে নাটকের মাধ্যমে৷‘‘আমরা যখন মঞ্চে অনুষ্ঠান করছিলাম তখন প্রায় সকলের চোখেই জল ছিল৷’’ চোখের জল মুছতে মুছতে এমনটাই জানায় কবিতা৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন দেখছে ভারত৷ স্বচ্ছ ভারতের স্বপ্নে বিভর দেশবাসী৷ কিন্তু কবিতার মতো কিশোরীদের স্বপ্ন যে অচিরেই নষ্ট হয়ে যায়, লন্ডন তা বুঝলেও হয়তো বোঝে না এদেশের মুম্বই, চেন্নাই, দিল্লি এমনকী কলকাতা৷ আর তাই বিদেশের মাটিতে চোখের জল ফেলতে হয় নিজেদের বেড়ে ওঠার কথা বলতে গিয়ে কবিতার মতো মেয়েদের৷

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন

নিষিদ্ধপল্লীর কবিতার স্বপ্ন ভাঙার কথা শুনে কাঁদছে লন্ডন

আপডেট সময় ১১:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

লন্ডন: ইচ্ছে ছিল সঙ্গীতশিল্পী হওয়ার৷ সুফি গানের ছন্দে মেতে উঠবে গোটা বিশ্ব৷মুম্বইয়ের এক চিলতে ঘরে শুয়ে এমন স্বপ্নই দেখতো কবিতা হোসমানি৷কিন্তু কবিতার মা ছিলেন পেশায় একজন যৌনকর্মী৷তাই শিল্পী হয়ে ওঠার স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছে৷ এই সমাজ তাকে মেনে নেয়নি৷মায়ের ‘দোষে’ অপরাধী সে৷ নিষিদ্ধপল্লীতে বড় হয়ে ওঠার যন্ত্রণা ঠিক কতটা, লন্ডনের এক অনুষ্ঠানে শোনালেন ৷

তবে, তার এই ‘শাস্তি’ একেবারেই মাথা পেতে মেনে নিয়েছে কবিতা৷ এরজন্য তার কোনও আফসোস নেই৷ তার কথায়, তার বাবা মারা যাওয়ার পরই সংসার চালানোর জন্যই তার মা’কে যৌনপেশা গ্রহণ করতে হয়৷কারো কাছে হাত পেতে নয়৷ বরং নিজের রোজগারের অর্থেই মেয়েকে বড় করতে চেয়েছিলেন কবিতার মা৷এই অনুষ্ঠানে কবিতার মতো আরও ১৪জন উপস্থিত ছিল৷এদের প্রত্যেকেরই বয়স ১৫ থেকে ২২বছরের মধ্যে৷ যারা প্রত্যেকেই নিষিদ্ধপল্লীতেই বড় হয়ে উঠেছে৷ তবে, এর জন্য তারা কেউই অনুতপ্ত নন৷ বরং সমাজের এই কঠিন বাস্তবকে মেনে নিয়েছেন সকলেই৷

নিষিদ্ধপল্লীর ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে একাধিক নাটক তৈরি করেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন৷সেই নাটকগুলিই লন্ডনের বিভিন্ন প্রান্তে মঞ্চস্থ হচ্ছে৷ সম্প্রতি লন্ডনের এডিনবার্গ ফ্রিঞ্জের মঞ্চে ‘লাল বাতি এক্সপ্রেস’ নামের একটি নৃত্যনাট্য মঞ্চস্থ হয়৷বাস্তবের মূল সমস্যা অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তোলে কবিতা ও তার অন্যান্য সঙ্গীরা৷যার চিত্রনাট্যের প্রতিটি লাইনে ছিল কবিতার মায়ের মতো অন্যান্য যৌনকর্মীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা৷ জীবনে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে আজও ‘যৌনকর্মী’দের কতটা লাঞ্চনা বঞ্চনার শিকার হতে হয় তাই অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে দেখিয়ে দিল কবিতার মতো এক ঝাঁক কিশোর-কিশোরী৷মুম্বইয়ের রেড লাইনের রোজনামচা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না দর্শকরাও৷ অনুষ্ঠান শেষে কবিতা জানালেন, ‘‘মাত্র ন’বছর বয়সে একটি বালিকা ধর্ষণের শিকার হয়৷সেই ছবিই আমরা তুলে ধরেছিলাম৷’’পাশাপাশি সে আরও বলে, একজন সাধারণ মেয়ে কোন পথে নিষিদ্ধপল্লীতে যায় সেই কথাই বলার চেষ্টা করা হয়েছে নাটকের মাধ্যমে৷‘‘আমরা যখন মঞ্চে অনুষ্ঠান করছিলাম তখন প্রায় সকলের চোখেই জল ছিল৷’’ চোখের জল মুছতে মুছতে এমনটাই জানায় কবিতা৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন দেখছে ভারত৷ স্বচ্ছ ভারতের স্বপ্নে বিভর দেশবাসী৷ কিন্তু কবিতার মতো কিশোরীদের স্বপ্ন যে অচিরেই নষ্ট হয়ে যায়, লন্ডন তা বুঝলেও হয়তো বোঝে না এদেশের মুম্বই, চেন্নাই, দিল্লি এমনকী কলকাতা৷ আর তাই বিদেশের মাটিতে চোখের জল ফেলতে হয় নিজেদের বেড়ে ওঠার কথা বলতে গিয়ে কবিতার মতো মেয়েদের৷