ঢাকা ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল রাষ্ট্র পরিচালানার জন্য অভিজ্ঞতার দরকার আছে: নজরুল ইসলাম একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

মহাবিশ্বের ডার্ক ম্যাটারের সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র প্রকাশ

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বে ডার্ক ম্যাটার (অদৃশ্য পদার্থ) কীভাবে ছড়িয়ে আছে, তার সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে। এটি করতে যেয়ে আকাশের এমন একটি অংশ নিয়ে কাজ করা হয়েছে, যার আয়তন পূর্ণ চাঁদের প্রায় তিন গুণ।

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় ৮৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার। বাকি ১৫ শতাংশ হলো সাধারণ পদার্থ—যা দিয়ে তারা, গ্রহ, মানুষসহ চোখে দেখা সবকিছু তৈরি। ডার্ক ম্যাটার আলো ছড়ায় না বা প্রতিফলিত করে না, তাই এটি সরাসরি দেখা যায় না।

ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব বোঝা যায় এর মাধ্যাকর্ষণ প্রভাব থেকে। যেমন—গ্যালাক্সি কত দ্রুত ঘোরে, গ্যালাক্সির দল কীভাবে একসঙ্গে থাকে, কিংবা দূরের আলোর পথ বড় কোনো কাঠামোর কাছে গিয়ে কীভাবে বাঁক নেয়। এই আলো বাঁকানোর ঘটনাকে কাজে লাগিয়েই বিজ্ঞানীরা মানচিত্রটি তৈরি করেছেন।

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে প্রায় আড়াই লাখ দূরবর্তী গ্যালাক্সির আকারে সূক্ষ্ম বিকৃতি ধরা পড়ে। এসব বিকৃতি বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, আলোর পথে কোথায় কতটা ডার্ক ম্যাটার রয়েছে। আগে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে এমন মানচিত্র তৈরি হয়েছিল। নতুন মানচিত্রটি তার চেয়ে দ্বিগুণ স্পষ্ট, বেশি অঞ্চল জুড়ে এবং আরও পেছনের সময় —প্রায় ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন বছর আগের মহাবিশ্ব পর্যন্ত দেখা যায়।

এই মানচিত্রে মহাবিশ্বের ‘কসমিক ওয়েব’ (মহাজাগতিক জাল) আরও পরিষ্কারভাবে ধরা পড়েছে। এতে রয়েছে গ্যালাক্সির বড় বড় দল, ডার্ক ম্যাটার দিয়ে তৈরি দীর্ঘ ফিলামেন্ট বা সুতোসদৃশ কাঠামো, আর তুলনামূলক কম ঘনত্বের অঞ্চল।

গবেষকেরা জানান, এই ফলাফল বর্তমান স্বীকৃত মহাবিশ্ব মডেলের সঙ্গে মিল রয়েছে। ওই মডেল অনুযায়ী, বিগ ব্যাংয়ের পর মহাবিশ্বের গঠন ও বিকাশে ডার্ক ম্যাটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন মানচিত্র ভবিষ্যতে গ্যালাক্সির জন্ম ও বিবর্তন বোঝার গবেষণায় বড় সহায়তা দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না

মহাবিশ্বের ডার্ক ম্যাটারের সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র প্রকাশ

আপডেট সময় ১০:১৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বে ডার্ক ম্যাটার (অদৃশ্য পদার্থ) কীভাবে ছড়িয়ে আছে, তার সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে। এটি করতে যেয়ে আকাশের এমন একটি অংশ নিয়ে কাজ করা হয়েছে, যার আয়তন পূর্ণ চাঁদের প্রায় তিন গুণ।

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় ৮৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার। বাকি ১৫ শতাংশ হলো সাধারণ পদার্থ—যা দিয়ে তারা, গ্রহ, মানুষসহ চোখে দেখা সবকিছু তৈরি। ডার্ক ম্যাটার আলো ছড়ায় না বা প্রতিফলিত করে না, তাই এটি সরাসরি দেখা যায় না।

ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব বোঝা যায় এর মাধ্যাকর্ষণ প্রভাব থেকে। যেমন—গ্যালাক্সি কত দ্রুত ঘোরে, গ্যালাক্সির দল কীভাবে একসঙ্গে থাকে, কিংবা দূরের আলোর পথ বড় কোনো কাঠামোর কাছে গিয়ে কীভাবে বাঁক নেয়। এই আলো বাঁকানোর ঘটনাকে কাজে লাগিয়েই বিজ্ঞানীরা মানচিত্রটি তৈরি করেছেন।

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে প্রায় আড়াই লাখ দূরবর্তী গ্যালাক্সির আকারে সূক্ষ্ম বিকৃতি ধরা পড়ে। এসব বিকৃতি বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, আলোর পথে কোথায় কতটা ডার্ক ম্যাটার রয়েছে। আগে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে এমন মানচিত্র তৈরি হয়েছিল। নতুন মানচিত্রটি তার চেয়ে দ্বিগুণ স্পষ্ট, বেশি অঞ্চল জুড়ে এবং আরও পেছনের সময় —প্রায় ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন বছর আগের মহাবিশ্ব পর্যন্ত দেখা যায়।

এই মানচিত্রে মহাবিশ্বের ‘কসমিক ওয়েব’ (মহাজাগতিক জাল) আরও পরিষ্কারভাবে ধরা পড়েছে। এতে রয়েছে গ্যালাক্সির বড় বড় দল, ডার্ক ম্যাটার দিয়ে তৈরি দীর্ঘ ফিলামেন্ট বা সুতোসদৃশ কাঠামো, আর তুলনামূলক কম ঘনত্বের অঞ্চল।

গবেষকেরা জানান, এই ফলাফল বর্তমান স্বীকৃত মহাবিশ্ব মডেলের সঙ্গে মিল রয়েছে। ওই মডেল অনুযায়ী, বিগ ব্যাংয়ের পর মহাবিশ্বের গঠন ও বিকাশে ডার্ক ম্যাটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন মানচিত্র ভবিষ্যতে গ্যালাক্সির জন্ম ও বিবর্তন বোঝার গবেষণায় বড় সহায়তা দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।