ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

হৃদরোগের অস্বাভাবিক আচরণ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

হৃৎপিন্ডে অক্সিজেনের চাহিদা বিশ্রামকালীন সময়ের চাহিদার চেয়ে অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। সুতরাং যারা হৃদরোগে ভুগছেন তাদের রক্ত সরবরাহের অপ্রতুলতা থাকায় পরিশ্রমকালীন সময় প্রয়োজনীয় পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে হৃৎপিন্ডের ব্যথা বা বুক ব্যথা যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এনজিনা বলা হয়ে থাকে তা পরিলক্ষিত হয়। আবার বিশ্রামকালীন বা পরিশ্রম করা থেকে বিরত হলে হৃৎপিন্ডে অক্সিজেনের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরবরাহের ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়।

ফলে উপসর্গগুলো দ্রুত কমে যেতে থাকে। এত গেল হৃদরোগের স্বাভাবিক বর্ণনা যা শতকরা ৮০ জন হৃদরোগীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তবে শতকরা ২০ জন রোগীর ক্ষেত্রে হৃদরোগের স্বাভাবিক আচরণ পরিলক্ষিত না হয়ে অন্য ধরনের উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। এসব রোগী প্রাথমিক অবস্থায় নিজেও বুঝতে পারেন না যে, তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সাধারণ চিকিৎসকরাও প্রায় ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয়ে জটিলতার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। যার ফলে রোগীরা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। কেউ কেউ কবিরাজি বা হোমিও চিকিৎসকেরও শরণাপন্ন হয়ে রোগমুক্তির চেষ্টা করতে থাকেন। অনেক ডায়াবেটিস রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, অনেক বয়োবৃদ্ধ রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে অস্বাভাবিক উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

যেমন- পরিশ্রম করতে গেলে তারা খুব তাড়াতাড়ি হাঁপিয়ে উঠেন, তাদের হাঁটা চলাফেরার যোগ্যতা খুব তাড়াতাড়ি কমে যায়, অনেকের চোয়ালে ব্যথা অনুভব করেন, অনেকে মনে করেন দাঁতে ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছেন। কারও কারও ঘাড় বা পিঠে ব্যথা হয়ে থাকে, কেউ কেউ খাবার পরে শ্বাসকষ্টে বা অস্থিরতায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কেউ কেউ রাতে শুতে গেলে শ্বাসকষ্ট, শুকনো কাশি অথবা অস্থিরতা বোধ করে থাকেন। কারও শ্বাসকষ্টের জন্য রাতে ঘুম ভেঙে যায় এবং প্রায়ই বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত হয়।

আবার অনেকে শুধু হাত বা বাহু বা কাঁধের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কেউ কেউ পেটের উপরের অংশের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং এসব ব্যথার জন্য গ্যাসের ঔষধ সেবন করেও কোনো পরিত্রাণ লাভ করেন না। কারও কারও মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। এ জন্য নিজের শরীরের প্রতি যত্নবান হতে হবে। প্রতিকার নয় প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম।

লেখক: চিফ কনসালটেন্ট, শমশের হার্ট কেয়ার, শ্যামলী, ঢাকা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

হৃদরোগের অস্বাভাবিক আচরণ

আপডেট সময় ১০:৩২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

হৃৎপিন্ডে অক্সিজেনের চাহিদা বিশ্রামকালীন সময়ের চাহিদার চেয়ে অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। সুতরাং যারা হৃদরোগে ভুগছেন তাদের রক্ত সরবরাহের অপ্রতুলতা থাকায় পরিশ্রমকালীন সময় প্রয়োজনীয় পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে হৃৎপিন্ডের ব্যথা বা বুক ব্যথা যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এনজিনা বলা হয়ে থাকে তা পরিলক্ষিত হয়। আবার বিশ্রামকালীন বা পরিশ্রম করা থেকে বিরত হলে হৃৎপিন্ডে অক্সিজেনের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরবরাহের ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়।

ফলে উপসর্গগুলো দ্রুত কমে যেতে থাকে। এত গেল হৃদরোগের স্বাভাবিক বর্ণনা যা শতকরা ৮০ জন হৃদরোগীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তবে শতকরা ২০ জন রোগীর ক্ষেত্রে হৃদরোগের স্বাভাবিক আচরণ পরিলক্ষিত না হয়ে অন্য ধরনের উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। এসব রোগী প্রাথমিক অবস্থায় নিজেও বুঝতে পারেন না যে, তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সাধারণ চিকিৎসকরাও প্রায় ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয়ে জটিলতার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। যার ফলে রোগীরা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। কেউ কেউ কবিরাজি বা হোমিও চিকিৎসকেরও শরণাপন্ন হয়ে রোগমুক্তির চেষ্টা করতে থাকেন। অনেক ডায়াবেটিস রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, অনেক বয়োবৃদ্ধ রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে অস্বাভাবিক উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

যেমন- পরিশ্রম করতে গেলে তারা খুব তাড়াতাড়ি হাঁপিয়ে উঠেন, তাদের হাঁটা চলাফেরার যোগ্যতা খুব তাড়াতাড়ি কমে যায়, অনেকের চোয়ালে ব্যথা অনুভব করেন, অনেকে মনে করেন দাঁতে ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছেন। কারও কারও ঘাড় বা পিঠে ব্যথা হয়ে থাকে, কেউ কেউ খাবার পরে শ্বাসকষ্টে বা অস্থিরতায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কেউ কেউ রাতে শুতে গেলে শ্বাসকষ্ট, শুকনো কাশি অথবা অস্থিরতা বোধ করে থাকেন। কারও শ্বাসকষ্টের জন্য রাতে ঘুম ভেঙে যায় এবং প্রায়ই বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত হয়।

আবার অনেকে শুধু হাত বা বাহু বা কাঁধের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কেউ কেউ পেটের উপরের অংশের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং এসব ব্যথার জন্য গ্যাসের ঔষধ সেবন করেও কোনো পরিত্রাণ লাভ করেন না। কারও কারও মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। এ জন্য নিজের শরীরের প্রতি যত্নবান হতে হবে। প্রতিকার নয় প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম।

লেখক: চিফ কনসালটেন্ট, শমশের হার্ট কেয়ার, শ্যামলী, ঢাকা।