ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ঘুরে আসুন ‘দামতুয়া জলপ্রপাত’ থেকে

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

দেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় দেশের উঁচু সড়ক বান্দরবানের থানচি-আলীকদমের পাহাড়। প্রকৃতির অনাবিল সৌর্ন্দয আর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা নিয়ে বান্দরবানের থানচি-আলীকদম পাহাড়। এই পাহাড়ের অবস্থান আলীকদম এবং থানচি থানার ঠিক মাঝখানে। এই পাহাড় দিয়েই দুই থানার সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। খুব দুর্গম এই পাহাড়ে যাওয়ার কোনো উপায় এতদিন ছিল না। তবুও আবিষ্কারের নেশায় উদ্দম ছুটে চলে অভিযাত্রী।

জানা যায়, আলীকদম-থানচি সড়ক সংলগ্ন সুউচ্চ পাহাড় থেকে স্থানীয় ব্যাঙঝিরি নামক ঝিরিটি দক্ষিণ-পূর্ব থেকে আলীকদম উপজেলার স্বাভাবিক ভূমিঢালের রূপরেখা নিয়ে বয়ে গেছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। এ ঝিরি বেয়ে মাছেরা উজানের দিকে আসতে থাকে। কিন্তু দামতুয়া বা মাছকুম পর্যন্ত আসার পর ঝরনার উচ্চতার কারণে মাছেরা আর উজান আসতে পারে না। সুউচ্চ ঝরনাজলের বিক্ষিপ্ত আচরণে ঝরনাতলায় সৃষ্টি হয় গভীর কুম। এই কুমে মাছেরা আবাস গড়ে বলেই এর নাম ‘দামতুয়া ঝরনা’।

বিশাল বিশাল পাথরের গা বেয়ে পাহাড়ের পাদদেশের দিকে ধেয়ে আসা শীতল জলরাশি যেন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়।

এ পথের পাহাড়গুলো একটু অন্য রকম, বান্দরবানের অন্য পাহাড়গুলোর মতো ঢাল নেই এখানে, এক্কেবারে খাড়া, পাথুরে শরীর। দেখলেই মনে হয় অতিকায় দানব হাঁ করে আছে! একপাশে জুমের খেত আর একপাশে ঢাল নিয়ে পথ চলতে চলতে হঠাৎ পানির শব্দ। যারা পাহাড়ে হাঁটেন, তারা জানেন ঝরনার শব্দের চেয়ে মধুর কিছু আর নেই! এই শব্দ গলার ভেতর না ভেজালেও মুহূর্তেই কলিজাটা ভিজিয়ে দেয়। একসঙ্গে চার-পাঁচটি পানির ধারা পাশের পাহাড় থেকে হুমহাম করে নেমে আসছে। দেখে মনে হচ্ছে চেরাপুঞ্জির সেভেন সিস্টার ওয়াটারফলসের খুদে সংস্করণ!

আলীকদম যেতে হলে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে কক্সবাজারের গাড়িতে এসে চকরিয়া নামতে হয়। চকরিয়া থেকে কোস্টার অথবা জিপ (চাঁদের গাড়ি) যোগে প্রায় দেড় ঘণ্টায় আলীকদম। সেখান থেকে জিপ গাড়িতে (রিজার্ভ) অথবা মোটরসাইকেলে ১৭ কিলোমিটার দূরে আলীকদম-থানচি সড়কের যাওয়ার পর পায়ে হেঁটে যেতে হবে আরো দুই ঘণ্টা। দামতুয়া জলপ্রপাত দেখার পর ৫ থেকে ৭ মিনিট পায়ে হেঁটেই পেয়ে যেতে হয় দামতুয়া তুম বা দামতুয়া ঝরনা।

এখানে রাত্রীযাপনের একমাত্র ব্যবস্থা জিয়া বোর্ডিং। এ ছাড়াও সরকারি একটি রেস্ট হাউস আছে কিন্তু তা বর্তমানে বিজিবির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আলীকদমের খাবার হোটেলগুলো মাঝারি মানের। অভিযাত্রীদের দাবি, সেখানে সরকারি রেস্ট হাউসের ব্যবস্থা করা হলে অনেক পর্যটক আসবেন। তখন এটি হবে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ঘুরে আসুন ‘দামতুয়া জলপ্রপাত’ থেকে

আপডেট সময় ১১:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

দেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় দেশের উঁচু সড়ক বান্দরবানের থানচি-আলীকদমের পাহাড়। প্রকৃতির অনাবিল সৌর্ন্দয আর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা নিয়ে বান্দরবানের থানচি-আলীকদম পাহাড়। এই পাহাড়ের অবস্থান আলীকদম এবং থানচি থানার ঠিক মাঝখানে। এই পাহাড় দিয়েই দুই থানার সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। খুব দুর্গম এই পাহাড়ে যাওয়ার কোনো উপায় এতদিন ছিল না। তবুও আবিষ্কারের নেশায় উদ্দম ছুটে চলে অভিযাত্রী।

জানা যায়, আলীকদম-থানচি সড়ক সংলগ্ন সুউচ্চ পাহাড় থেকে স্থানীয় ব্যাঙঝিরি নামক ঝিরিটি দক্ষিণ-পূর্ব থেকে আলীকদম উপজেলার স্বাভাবিক ভূমিঢালের রূপরেখা নিয়ে বয়ে গেছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। এ ঝিরি বেয়ে মাছেরা উজানের দিকে আসতে থাকে। কিন্তু দামতুয়া বা মাছকুম পর্যন্ত আসার পর ঝরনার উচ্চতার কারণে মাছেরা আর উজান আসতে পারে না। সুউচ্চ ঝরনাজলের বিক্ষিপ্ত আচরণে ঝরনাতলায় সৃষ্টি হয় গভীর কুম। এই কুমে মাছেরা আবাস গড়ে বলেই এর নাম ‘দামতুয়া ঝরনা’।

বিশাল বিশাল পাথরের গা বেয়ে পাহাড়ের পাদদেশের দিকে ধেয়ে আসা শীতল জলরাশি যেন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়।

এ পথের পাহাড়গুলো একটু অন্য রকম, বান্দরবানের অন্য পাহাড়গুলোর মতো ঢাল নেই এখানে, এক্কেবারে খাড়া, পাথুরে শরীর। দেখলেই মনে হয় অতিকায় দানব হাঁ করে আছে! একপাশে জুমের খেত আর একপাশে ঢাল নিয়ে পথ চলতে চলতে হঠাৎ পানির শব্দ। যারা পাহাড়ে হাঁটেন, তারা জানেন ঝরনার শব্দের চেয়ে মধুর কিছু আর নেই! এই শব্দ গলার ভেতর না ভেজালেও মুহূর্তেই কলিজাটা ভিজিয়ে দেয়। একসঙ্গে চার-পাঁচটি পানির ধারা পাশের পাহাড় থেকে হুমহাম করে নেমে আসছে। দেখে মনে হচ্ছে চেরাপুঞ্জির সেভেন সিস্টার ওয়াটারফলসের খুদে সংস্করণ!

আলীকদম যেতে হলে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে কক্সবাজারের গাড়িতে এসে চকরিয়া নামতে হয়। চকরিয়া থেকে কোস্টার অথবা জিপ (চাঁদের গাড়ি) যোগে প্রায় দেড় ঘণ্টায় আলীকদম। সেখান থেকে জিপ গাড়িতে (রিজার্ভ) অথবা মোটরসাইকেলে ১৭ কিলোমিটার দূরে আলীকদম-থানচি সড়কের যাওয়ার পর পায়ে হেঁটে যেতে হবে আরো দুই ঘণ্টা। দামতুয়া জলপ্রপাত দেখার পর ৫ থেকে ৭ মিনিট পায়ে হেঁটেই পেয়ে যেতে হয় দামতুয়া তুম বা দামতুয়া ঝরনা।

এখানে রাত্রীযাপনের একমাত্র ব্যবস্থা জিয়া বোর্ডিং। এ ছাড়াও সরকারি একটি রেস্ট হাউস আছে কিন্তু তা বর্তমানে বিজিবির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আলীকদমের খাবার হোটেলগুলো মাঝারি মানের। অভিযাত্রীদের দাবি, সেখানে সরকারি রেস্ট হাউসের ব্যবস্থা করা হলে অনেক পর্যটক আসবেন। তখন এটি হবে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র।