ঢাকা ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘মৌলিক জ্ঞান না থাকলে কোচিংয়ে আসা উচিত নয়’:তামিম ইকবাল আপসকামিতা নয়, স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার ইতিহাস বিএনপির: জাহিদ হোসেন পটিয়া থানার ২শ গজ সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো দুর্নীতি গুম খুন হয়নি হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে

ঘুরে আসুন ‘দামতুয়া জলপ্রপাত’ থেকে

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

দেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় দেশের উঁচু সড়ক বান্দরবানের থানচি-আলীকদমের পাহাড়। প্রকৃতির অনাবিল সৌর্ন্দয আর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা নিয়ে বান্দরবানের থানচি-আলীকদম পাহাড়। এই পাহাড়ের অবস্থান আলীকদম এবং থানচি থানার ঠিক মাঝখানে। এই পাহাড় দিয়েই দুই থানার সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। খুব দুর্গম এই পাহাড়ে যাওয়ার কোনো উপায় এতদিন ছিল না। তবুও আবিষ্কারের নেশায় উদ্দম ছুটে চলে অভিযাত্রী।

জানা যায়, আলীকদম-থানচি সড়ক সংলগ্ন সুউচ্চ পাহাড় থেকে স্থানীয় ব্যাঙঝিরি নামক ঝিরিটি দক্ষিণ-পূর্ব থেকে আলীকদম উপজেলার স্বাভাবিক ভূমিঢালের রূপরেখা নিয়ে বয়ে গেছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। এ ঝিরি বেয়ে মাছেরা উজানের দিকে আসতে থাকে। কিন্তু দামতুয়া বা মাছকুম পর্যন্ত আসার পর ঝরনার উচ্চতার কারণে মাছেরা আর উজান আসতে পারে না। সুউচ্চ ঝরনাজলের বিক্ষিপ্ত আচরণে ঝরনাতলায় সৃষ্টি হয় গভীর কুম। এই কুমে মাছেরা আবাস গড়ে বলেই এর নাম ‘দামতুয়া ঝরনা’।

বিশাল বিশাল পাথরের গা বেয়ে পাহাড়ের পাদদেশের দিকে ধেয়ে আসা শীতল জলরাশি যেন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়।

এ পথের পাহাড়গুলো একটু অন্য রকম, বান্দরবানের অন্য পাহাড়গুলোর মতো ঢাল নেই এখানে, এক্কেবারে খাড়া, পাথুরে শরীর। দেখলেই মনে হয় অতিকায় দানব হাঁ করে আছে! একপাশে জুমের খেত আর একপাশে ঢাল নিয়ে পথ চলতে চলতে হঠাৎ পানির শব্দ। যারা পাহাড়ে হাঁটেন, তারা জানেন ঝরনার শব্দের চেয়ে মধুর কিছু আর নেই! এই শব্দ গলার ভেতর না ভেজালেও মুহূর্তেই কলিজাটা ভিজিয়ে দেয়। একসঙ্গে চার-পাঁচটি পানির ধারা পাশের পাহাড় থেকে হুমহাম করে নেমে আসছে। দেখে মনে হচ্ছে চেরাপুঞ্জির সেভেন সিস্টার ওয়াটারফলসের খুদে সংস্করণ!

আলীকদম যেতে হলে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে কক্সবাজারের গাড়িতে এসে চকরিয়া নামতে হয়। চকরিয়া থেকে কোস্টার অথবা জিপ (চাঁদের গাড়ি) যোগে প্রায় দেড় ঘণ্টায় আলীকদম। সেখান থেকে জিপ গাড়িতে (রিজার্ভ) অথবা মোটরসাইকেলে ১৭ কিলোমিটার দূরে আলীকদম-থানচি সড়কের যাওয়ার পর পায়ে হেঁটে যেতে হবে আরো দুই ঘণ্টা। দামতুয়া জলপ্রপাত দেখার পর ৫ থেকে ৭ মিনিট পায়ে হেঁটেই পেয়ে যেতে হয় দামতুয়া তুম বা দামতুয়া ঝরনা।

এখানে রাত্রীযাপনের একমাত্র ব্যবস্থা জিয়া বোর্ডিং। এ ছাড়াও সরকারি একটি রেস্ট হাউস আছে কিন্তু তা বর্তমানে বিজিবির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আলীকদমের খাবার হোটেলগুলো মাঝারি মানের। অভিযাত্রীদের দাবি, সেখানে সরকারি রেস্ট হাউসের ব্যবস্থা করা হলে অনেক পর্যটক আসবেন। তখন এটি হবে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুরে আসুন ‘দামতুয়া জলপ্রপাত’ থেকে

আপডেট সময় ১১:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

দেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় দেশের উঁচু সড়ক বান্দরবানের থানচি-আলীকদমের পাহাড়। প্রকৃতির অনাবিল সৌর্ন্দয আর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা নিয়ে বান্দরবানের থানচি-আলীকদম পাহাড়। এই পাহাড়ের অবস্থান আলীকদম এবং থানচি থানার ঠিক মাঝখানে। এই পাহাড় দিয়েই দুই থানার সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। খুব দুর্গম এই পাহাড়ে যাওয়ার কোনো উপায় এতদিন ছিল না। তবুও আবিষ্কারের নেশায় উদ্দম ছুটে চলে অভিযাত্রী।

জানা যায়, আলীকদম-থানচি সড়ক সংলগ্ন সুউচ্চ পাহাড় থেকে স্থানীয় ব্যাঙঝিরি নামক ঝিরিটি দক্ষিণ-পূর্ব থেকে আলীকদম উপজেলার স্বাভাবিক ভূমিঢালের রূপরেখা নিয়ে বয়ে গেছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। এ ঝিরি বেয়ে মাছেরা উজানের দিকে আসতে থাকে। কিন্তু দামতুয়া বা মাছকুম পর্যন্ত আসার পর ঝরনার উচ্চতার কারণে মাছেরা আর উজান আসতে পারে না। সুউচ্চ ঝরনাজলের বিক্ষিপ্ত আচরণে ঝরনাতলায় সৃষ্টি হয় গভীর কুম। এই কুমে মাছেরা আবাস গড়ে বলেই এর নাম ‘দামতুয়া ঝরনা’।

বিশাল বিশাল পাথরের গা বেয়ে পাহাড়ের পাদদেশের দিকে ধেয়ে আসা শীতল জলরাশি যেন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়।

এ পথের পাহাড়গুলো একটু অন্য রকম, বান্দরবানের অন্য পাহাড়গুলোর মতো ঢাল নেই এখানে, এক্কেবারে খাড়া, পাথুরে শরীর। দেখলেই মনে হয় অতিকায় দানব হাঁ করে আছে! একপাশে জুমের খেত আর একপাশে ঢাল নিয়ে পথ চলতে চলতে হঠাৎ পানির শব্দ। যারা পাহাড়ে হাঁটেন, তারা জানেন ঝরনার শব্দের চেয়ে মধুর কিছু আর নেই! এই শব্দ গলার ভেতর না ভেজালেও মুহূর্তেই কলিজাটা ভিজিয়ে দেয়। একসঙ্গে চার-পাঁচটি পানির ধারা পাশের পাহাড় থেকে হুমহাম করে নেমে আসছে। দেখে মনে হচ্ছে চেরাপুঞ্জির সেভেন সিস্টার ওয়াটারফলসের খুদে সংস্করণ!

আলীকদম যেতে হলে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে কক্সবাজারের গাড়িতে এসে চকরিয়া নামতে হয়। চকরিয়া থেকে কোস্টার অথবা জিপ (চাঁদের গাড়ি) যোগে প্রায় দেড় ঘণ্টায় আলীকদম। সেখান থেকে জিপ গাড়িতে (রিজার্ভ) অথবা মোটরসাইকেলে ১৭ কিলোমিটার দূরে আলীকদম-থানচি সড়কের যাওয়ার পর পায়ে হেঁটে যেতে হবে আরো দুই ঘণ্টা। দামতুয়া জলপ্রপাত দেখার পর ৫ থেকে ৭ মিনিট পায়ে হেঁটেই পেয়ে যেতে হয় দামতুয়া তুম বা দামতুয়া ঝরনা।

এখানে রাত্রীযাপনের একমাত্র ব্যবস্থা জিয়া বোর্ডিং। এ ছাড়াও সরকারি একটি রেস্ট হাউস আছে কিন্তু তা বর্তমানে বিজিবির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আলীকদমের খাবার হোটেলগুলো মাঝারি মানের। অভিযাত্রীদের দাবি, সেখানে সরকারি রেস্ট হাউসের ব্যবস্থা করা হলে অনেক পর্যটক আসবেন। তখন এটি হবে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র।