ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে পৌঁছালেই পোস্টাল ব্যালট গণনা হবে: ইসি বিএনপিকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: মাহদী আমিন আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ভয়াবহ হামলা রাশিয়ার ডিআরসির কাছে করা বিসিবির আপিল বাতিল মধ্যরাতে বরিশালে আগুনে পুড়ল ৭ দোকান তাদের জনসমর্থনের জোয়ার দেখে,ভয় পেয়ে একটি বড় দল আতঙ্ক ছড়াচ্ছে: নাহিদ ইন্দোনেশিয়ায় পাহাড় ধসে নিহত ৭, নিখোঁজ ৮২ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এনসিপির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা,এটাকে হাইপার প্রোপাগান্ডা বলে : রিজভী আমরা কথা দিচ্ছি, জীবন যাবে কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না: জামায়াত আমির ‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত

খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত ৪ যুদ্ধজাহাজ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সমুদ্র সীমানায় নিরাপত্তা, সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চারটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শেষ হয়েছে। নিষাণ, দুর্গম, হালদা ও পশুর নামে জাহাজগুলো নির্মাণে ৯শ’ ৪২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। খুলনা শিপইয়ার্ড আন্তর্জাতিকমানের এ যুদ্ধজাহাজগুলো নির্মাণ করে। নির্মিত যুদ্ধজাহাজগুলো পরীক্ষামূলকভাবে ভৈরব ও রূপসা নদে চলাচল করেছে।

মঙ্গলবার যুদ্ধজাহাজ বিএন দুর্গম বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এটি পরীক্ষামূলক চলাচলের অংশ। খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (উৎপাদন) ক্যাপ্টেন এম নুরুল ইসলাম শরীফ জানান, প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বঙ্গোপসাগরের বিশাল সমুদ্র এলাকা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখছে।

সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা, সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষে নৌ বাহিনীর দায়িত্ব পালনের জন্য যুদ্ধজাহাজের বিকল্প নেই। সে কারণে ৬৪ দশমিক ২ মিটার দৈর্ঘ্য, ৯ মিটার প্রস্থ করে বিএন নিশান ও দুর্গম নামে দু’টি যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ করা হয়েছে। জাহাজ দু’টি নির্মাণে আটশ’ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এ মানের জাহাজ বিদেশে তৈরি করতে এক হাজার কোটি টাকা খরচ হতো। জাহাজ দু’টি নির্মাণে ২৪ মাস সময় লাগে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। নৌ বাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ গত ৩১ ডিসেম্বর বিএম দুর্গমের লাঞ্চিং (পানিতে ভাসানো) প্রোগ্রামের সুচনা করেন। যুদ্ধজাহাজ দু’টি নির্মাণে চীন কারিগরি সহায়তা দেয়। যুদ্ধজাহাজ দু’টির প্রত্যেকটির ঘন্টায় গতি বেগ ২৫ নোটিকেল মাইল। বিএন নিশান নামক যুদ্ধজাহাজটি পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য শুক্রবার বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একই সঙ্গে ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দু’টি টাগ বোট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই জাহাজগুলো সাবমেরিন চলাচলে সহায়তা করবে। হালদা ও পশুর নামের প্রতিটি জাহাজের দৈর্ঘ্য ৩২ মিটার। মালয়েশিয়া এতে কারিগরি সহায়তা দেয়। যুদ্ধজাহাজ দু’টিতে আধুনিক সামরিক সক্ষমতা এবং সাবমেরিনের বিরুদ্ধে সংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে।

প্রকৌশলী বিভাগের সূত্র জানায়, এর আগে খুলনা শিপইয়ার্ড পদ্মা, সুরমা, অতন্ত্র, অদম্য ও অপরাজেয় নামে পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে শিপইয়ার্ড ৬৪ কোটি ৬২ লাখ এবং গত অর্থ বছরের ৭৯ কোটি টাকা লাভ করে। শিপইয়ার্ড এ পর্যন্ত ৭২৫টি জাহাজ নির্মাণ ও দুই হাজার ২২৪টি জাহাজের মেরামত কাজ সম্পন্ন করেছে। মৃতপ্রায় শিপইয়ার্ড ১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। রূপসা নদীর তীরে লবণচরা মৌজায় স্থাপিত শিপইয়ার্ডের বয়স ৬০ বছর।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত ৪ যুদ্ধজাহাজ

আপডেট সময় ০১:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সমুদ্র সীমানায় নিরাপত্তা, সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চারটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শেষ হয়েছে। নিষাণ, দুর্গম, হালদা ও পশুর নামে জাহাজগুলো নির্মাণে ৯শ’ ৪২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। খুলনা শিপইয়ার্ড আন্তর্জাতিকমানের এ যুদ্ধজাহাজগুলো নির্মাণ করে। নির্মিত যুদ্ধজাহাজগুলো পরীক্ষামূলকভাবে ভৈরব ও রূপসা নদে চলাচল করেছে।

মঙ্গলবার যুদ্ধজাহাজ বিএন দুর্গম বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এটি পরীক্ষামূলক চলাচলের অংশ। খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (উৎপাদন) ক্যাপ্টেন এম নুরুল ইসলাম শরীফ জানান, প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বঙ্গোপসাগরের বিশাল সমুদ্র এলাকা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখছে।

সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা, সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষে নৌ বাহিনীর দায়িত্ব পালনের জন্য যুদ্ধজাহাজের বিকল্প নেই। সে কারণে ৬৪ দশমিক ২ মিটার দৈর্ঘ্য, ৯ মিটার প্রস্থ করে বিএন নিশান ও দুর্গম নামে দু’টি যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ করা হয়েছে। জাহাজ দু’টি নির্মাণে আটশ’ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এ মানের জাহাজ বিদেশে তৈরি করতে এক হাজার কোটি টাকা খরচ হতো। জাহাজ দু’টি নির্মাণে ২৪ মাস সময় লাগে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। নৌ বাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ গত ৩১ ডিসেম্বর বিএম দুর্গমের লাঞ্চিং (পানিতে ভাসানো) প্রোগ্রামের সুচনা করেন। যুদ্ধজাহাজ দু’টি নির্মাণে চীন কারিগরি সহায়তা দেয়। যুদ্ধজাহাজ দু’টির প্রত্যেকটির ঘন্টায় গতি বেগ ২৫ নোটিকেল মাইল। বিএন নিশান নামক যুদ্ধজাহাজটি পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য শুক্রবার বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একই সঙ্গে ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দু’টি টাগ বোট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই জাহাজগুলো সাবমেরিন চলাচলে সহায়তা করবে। হালদা ও পশুর নামের প্রতিটি জাহাজের দৈর্ঘ্য ৩২ মিটার। মালয়েশিয়া এতে কারিগরি সহায়তা দেয়। যুদ্ধজাহাজ দু’টিতে আধুনিক সামরিক সক্ষমতা এবং সাবমেরিনের বিরুদ্ধে সংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে।

প্রকৌশলী বিভাগের সূত্র জানায়, এর আগে খুলনা শিপইয়ার্ড পদ্মা, সুরমা, অতন্ত্র, অদম্য ও অপরাজেয় নামে পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে শিপইয়ার্ড ৬৪ কোটি ৬২ লাখ এবং গত অর্থ বছরের ৭৯ কোটি টাকা লাভ করে। শিপইয়ার্ড এ পর্যন্ত ৭২৫টি জাহাজ নির্মাণ ও দুই হাজার ২২৪টি জাহাজের মেরামত কাজ সম্পন্ন করেছে। মৃতপ্রায় শিপইয়ার্ড ১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। রূপসা নদীর তীরে লবণচরা মৌজায় স্থাপিত শিপইয়ার্ডের বয়স ৬০ বছর।