আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দেশের সীমান্তগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কঠোর অবস্থানে থাকায় এবং টহল ও নজরদারি জোরদার করায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে পুশইন করতে ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
এদিকে টানটান উত্তেজনার পর বিজিবির বাধা এবং সীমান্তবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে অবশেষে ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে পুশইন চেষ্টার শিকার ২১ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।
বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবি তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। সদস্য সংখ্যা বাড়িয়েছে এবং নিশ্ছিদ্র টহল নিশ্চিত করেছে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
ঠাকুরগাঁও : টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ৪ জন শিশু রয়েছে। নারীদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা রয়েছেন। সোমবার সকাল ৮টার দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান।
পঞ্চগড় : অবশেষে ৭০ ঘন্টা পর পঞ্চগড়ের প্রধানপাড়া বড়বাড়ি সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করা পুশইন চেষ্টার শিকার সেই ১০ নারী, শিশু ও পুরুষকে সরিয়ে নিল বিএসএফ। রোববার রাত ২.৩০ মিনিটে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয়। এর মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ের প্রধানপাড়া সীমান্তে পুশইনের চেষ্টাকে ঘিরে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়েছে।
কুড়িগ্রাম : ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলা ভাষাভাষি লোকজনকে বাংলাদেশে পুশইন করার ঘটনায় সীমান্ত লাগোয়া কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি। কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়ে যৌথ টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে জোর করে পাঠানোর চেষ্টা প্রতিহতের জন্য ফুলবাড়ী সীমান্ত এলাকায় রাতদিন ২৯ বিজিবি কড়া নজরদারি করছে। বিএসএফ গত কয়েকদিনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, হিলি, বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুদেরকে জোর করে পুশইনের চেষ্টা করছে। তবে বিজিবি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করায় ও তাদের বাধার মুখে পুশইন করতে পারেনি বিএসএফ। ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্ণেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান (পিএসসি) সোমবার জানান, বিজিবি কড়া নজর রাখছে, যাতে ভারতীয় কোনো নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে। সেই সাথে চোরাচালান দমনে কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার, চোরাচালান ও যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি। সোমবার জেলার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের নলগড়িয়া সীমান্ত এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫ বিজিবির সিঙ্গারবিল ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তজুড়ে কঠোর টহল ও নজরদারি চলাচ্ছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন। এদিকে সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন চলাচল ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















