ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিনিয়োগের নামে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, মা-ছেলে গ্রেফতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে শেরপুর জেলায় প্রায় ৩ শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক দুই আসামি মা ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতার দুই আসামি হলেন কামরুজ্জামান সুজন (৪০) ও তার মা কামরুন নাহার হাসেম (৬১)।

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর তুরাগ থানাধীন উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টের হাসনাহেনা বিল্ডিংয়ের ৬০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাবর অ্যান্ড কোং (প্রা.) লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান আসামি কামরুজ্জামান সুজনের নামে আদালত থেকে ৩২টি গ্রেফতারি ও ৩টি সাজা পরোয়ানাসহ মোট ৩৫টি গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং আসামি কামরুন নাহার হাসেমকে গ্রেফতারের জন্য আদালত থেকে মোট ৩টি গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়।

শেরপুরে বাবর অ্যান্ড কোং (প্রা.) লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কামরুজ্জামান সুজনের বাবা মৃত আবুল হাসেম। আবুল হাসেম জীবিত থাকাবস্থায় সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ব্যবসার জন্য প্রলুব্ধ করে তাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেন। মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একপর্যায়ে আবুল হাসেমের মৃত্যুর পর তার ছেলে কামরুজ্জামান সুজনও মানুষের সঙ্গে একই প্রতারণা করে ভুল বুঝিয়ে তাদের বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে টাকা নেন। এক পর্যায়ে কামরুজ্জামান সুজন ব্যবসার জন্য অগ্রিম ইট বিক্রির ৪৫ কোটি টাকা ও চাল বিক্রির ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে আসেন।

সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমেদ আরও বলেন, এই বিষয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রায় ৩৬ একর জমির ওপর ২টি অটো ব্রিকফিল্ড, ৩টি ফিলিং স্টেশন, ১টি অটো রাইস মিল, পোলট্রি ফার্মসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে কামরুজ্জামান সুজনের মালিকানাধীন বাবর অ্যান্ড কোম্পানির এবং জেলা হাসপাতাল সড়কের নারায়ণপুরে একটি তিনতলা বাড়ি রয়েছে তাদের। এসব সম্পদ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে নেওয়া হতো।

তিনি বলেন, কামরুজ্জামান সুজন ঢাকায় পালিয়ে আসার পর ভুক্তভোগীরা তাকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধনসহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন এবং আদালতে একাধিক মামলা করেন। সুজনের বিরুদ্ধে আদালতে থেকে ৩২টি গ্রেফতারি ও ৩টি সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয় এবং আসামির মা মিসেস কামরুন নাহার হাসেমের নামে ৩টি মামলায় মোট ৩টি গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়।

গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বিনিয়োগের নামে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, মা-ছেলে গ্রেফতার

আপডেট সময় ১১:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে শেরপুর জেলায় প্রায় ৩ শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক দুই আসামি মা ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতার দুই আসামি হলেন কামরুজ্জামান সুজন (৪০) ও তার মা কামরুন নাহার হাসেম (৬১)।

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর তুরাগ থানাধীন উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টের হাসনাহেনা বিল্ডিংয়ের ৬০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাবর অ্যান্ড কোং (প্রা.) লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান আসামি কামরুজ্জামান সুজনের নামে আদালত থেকে ৩২টি গ্রেফতারি ও ৩টি সাজা পরোয়ানাসহ মোট ৩৫টি গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং আসামি কামরুন নাহার হাসেমকে গ্রেফতারের জন্য আদালত থেকে মোট ৩টি গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়।

শেরপুরে বাবর অ্যান্ড কোং (প্রা.) লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কামরুজ্জামান সুজনের বাবা মৃত আবুল হাসেম। আবুল হাসেম জীবিত থাকাবস্থায় সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ব্যবসার জন্য প্রলুব্ধ করে তাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেন। মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একপর্যায়ে আবুল হাসেমের মৃত্যুর পর তার ছেলে কামরুজ্জামান সুজনও মানুষের সঙ্গে একই প্রতারণা করে ভুল বুঝিয়ে তাদের বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে টাকা নেন। এক পর্যায়ে কামরুজ্জামান সুজন ব্যবসার জন্য অগ্রিম ইট বিক্রির ৪৫ কোটি টাকা ও চাল বিক্রির ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে আসেন।

সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমেদ আরও বলেন, এই বিষয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রায় ৩৬ একর জমির ওপর ২টি অটো ব্রিকফিল্ড, ৩টি ফিলিং স্টেশন, ১টি অটো রাইস মিল, পোলট্রি ফার্মসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে কামরুজ্জামান সুজনের মালিকানাধীন বাবর অ্যান্ড কোম্পানির এবং জেলা হাসপাতাল সড়কের নারায়ণপুরে একটি তিনতলা বাড়ি রয়েছে তাদের। এসব সম্পদ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে নেওয়া হতো।

তিনি বলেন, কামরুজ্জামান সুজন ঢাকায় পালিয়ে আসার পর ভুক্তভোগীরা তাকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধনসহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন এবং আদালতে একাধিক মামলা করেন। সুজনের বিরুদ্ধে আদালতে থেকে ৩২টি গ্রেফতারি ও ৩টি সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয় এবং আসামির মা মিসেস কামরুন নাহার হাসেমের নামে ৩টি মামলায় মোট ৩টি গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়।

গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।