ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৩০ ‘ডাকসু ছিল মাদকের আড্ডা-বেশ্যাখানা’:জামায়াত নেতার পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি হতে দেখা যাচ্ছে: তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি : জামায়াত আমির বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিট দেওয়ার মালিক আল্লাহ ও জনগণ : মির্জা আব্বাস

‘বিদ্যুৎ নিয়ে যারা দুর্নীতির কথা বলেন, তারাই প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিদ্যুৎ নিয়ে যারা দুর্নীতির কথা বলেন, তারাই প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ‘বিদ্যুৎ নিয়ে বিএনপির অব্যাহত মিথ্যাচারের জবাবে’ তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে দুর্নীতি করলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব হতো না, শিল্পায়নের বিকাশ ঘটত না, অর্থনীতির সমৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধি ঘটত না বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বরং শেখ হাসিনা সরকার বিএনপির বেসামাল দুর্নীতি ও লুটপাটের পথ বন্ধ করে দেশের জন্য এনার্জি সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন বিদ্যুতের আলো।

বিএনপি নেতারা সহজেই তাদের অতীত ভুলে যেতে চাইলেও জনগণ ঠিকই তা মনে রাখেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের সময়কালে দেশে দিনে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং চলত।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরে শেখ হাসিনা সরকার বৈপ্লবিক সাফল্য দেখিয়েছেন— এমন দাবি করে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে দেশে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ২২০ কিলোওয়াট, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ কিলোওয়াট।

মন্ত্রী তার বিবৃতিতে আরও বলেন, ২০০৯ সালের শুরুতে দেশে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতাভুক্ত ছিল মোট জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশ, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে শতভাগ।

২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬৭ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষমতা ২৫ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বিবৃতিতে বলেন, শুধু তাই নয়; ২০০৯ সালের শুরুতে দেশে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ।

তিনি জানান, ২০২২ সালের এপ্রিলে এসে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২৭ লাখ। সরকারের এ সাফল্যে বিএনপি ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কা কাটাতে আগাম ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশকেও কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এর অংশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে রেশনিং করা হচ্ছে, যা একটি সাময়িক পদক্ষেপ।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটি মহল ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ভুয়া জিগির তুলছেন। প্রকৃতপক্ষে ভারত থেকে দেশে আমদানিকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ মোটের ওপর মাত্র ১০ শতাংশ। আবার কেউ কেউ বলছেন, দেশে নাকি ১৩ দিনের অকটেন এবং ১৭ দিনের পেট্রলের রিজার্ভ আছে। অথচ প্রকৃত সত্য হচ্ছে— সামান্য পরিমাণে বুস্টার ছাড়া দেশে অকটেন ও পেট্রল আমদানিই করা হয় না। প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের কনডেনসেট থেকে রিফাইন করে পেট্রল ও অকটেন তৈরি করা হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিএনপি যে অব্যাহত অপপ্রচার আর মিথ্যাচার করছে, তা নিজেদের ব্যর্থতা আড়ালের অপপ্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়— এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের সময়ে দেশ ছিল অন্ধকারে নিমজ্জিত। তারা দেশের মূল্যবান খনিজসম্পদ ক্ষমতায় আসার জন্য বিদেশি প্রভুদের হাতে তুলে দিয়েছিল।বিদ্যুতের পরিবর্তে স্থাপন করেছিল খাম্বা।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র হাওয়া ভবন আর খোয়াব ভবন আলোকিত রাখতে গিয়ে সারা দেশকে অন্ধকারে রেখেছিল বিএনপি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বিদ্যুৎ নিয়ে যারা দুর্নীতির কথা বলেন, তারাই প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক’

আপডেট সময় ০৪:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিদ্যুৎ নিয়ে যারা দুর্নীতির কথা বলেন, তারাই প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ‘বিদ্যুৎ নিয়ে বিএনপির অব্যাহত মিথ্যাচারের জবাবে’ তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে দুর্নীতি করলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব হতো না, শিল্পায়নের বিকাশ ঘটত না, অর্থনীতির সমৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধি ঘটত না বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বরং শেখ হাসিনা সরকার বিএনপির বেসামাল দুর্নীতি ও লুটপাটের পথ বন্ধ করে দেশের জন্য এনার্জি সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন বিদ্যুতের আলো।

বিএনপি নেতারা সহজেই তাদের অতীত ভুলে যেতে চাইলেও জনগণ ঠিকই তা মনে রাখেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের সময়কালে দেশে দিনে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং চলত।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরে শেখ হাসিনা সরকার বৈপ্লবিক সাফল্য দেখিয়েছেন— এমন দাবি করে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে দেশে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ২২০ কিলোওয়াট, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ কিলোওয়াট।

মন্ত্রী তার বিবৃতিতে আরও বলেন, ২০০৯ সালের শুরুতে দেশে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতাভুক্ত ছিল মোট জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশ, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে শতভাগ।

২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬৭ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষমতা ২৫ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বিবৃতিতে বলেন, শুধু তাই নয়; ২০০৯ সালের শুরুতে দেশে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ।

তিনি জানান, ২০২২ সালের এপ্রিলে এসে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২৭ লাখ। সরকারের এ সাফল্যে বিএনপি ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কা কাটাতে আগাম ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশকেও কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এর অংশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে রেশনিং করা হচ্ছে, যা একটি সাময়িক পদক্ষেপ।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটি মহল ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ভুয়া জিগির তুলছেন। প্রকৃতপক্ষে ভারত থেকে দেশে আমদানিকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ মোটের ওপর মাত্র ১০ শতাংশ। আবার কেউ কেউ বলছেন, দেশে নাকি ১৩ দিনের অকটেন এবং ১৭ দিনের পেট্রলের রিজার্ভ আছে। অথচ প্রকৃত সত্য হচ্ছে— সামান্য পরিমাণে বুস্টার ছাড়া দেশে অকটেন ও পেট্রল আমদানিই করা হয় না। প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের কনডেনসেট থেকে রিফাইন করে পেট্রল ও অকটেন তৈরি করা হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিএনপি যে অব্যাহত অপপ্রচার আর মিথ্যাচার করছে, তা নিজেদের ব্যর্থতা আড়ালের অপপ্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়— এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের সময়ে দেশ ছিল অন্ধকারে নিমজ্জিত। তারা দেশের মূল্যবান খনিজসম্পদ ক্ষমতায় আসার জন্য বিদেশি প্রভুদের হাতে তুলে দিয়েছিল।বিদ্যুতের পরিবর্তে স্থাপন করেছিল খাম্বা।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র হাওয়া ভবন আর খোয়াব ভবন আলোকিত রাখতে গিয়ে সারা দেশকে অন্ধকারে রেখেছিল বিএনপি।