ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী যিশুর মূর্তি ভাঙচুর ইসরাইলি সেনার, বিশ্বজুড়ে তোলপাড় নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে উদ্বেগের কথা জানালেন হান্নান মাসুদ কাগজপত্র থাকলে সৌদিতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ ১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে: নুরুল হক পরীক্ষা ভীতি দূর করে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জাপানি প্রধানমন্ত্রীর পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে জনগণকে দেওয়া হবে: তারেক রহমান

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেওয়া নারীকে পিটিয়ে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেওয়ায় এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পরকীয়া প্রেমিক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।

সোমবার দুপুরে সাদিপুর ইউনিয়নের হিনানপুর দেওয়ান বাড়ি গ্রামের মনিরের বাড়িতে ওই নারীকে পিটিয়ে আহত করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহতের নাম রোকসানা আক্তার (৩৮)। পরে লাশ ঢামেকে রেখেই পরকীয়া প্রেমিক মনির হোসেন, তার স্ত্রী ও ছেলে রানা মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।

নিহত নারীর লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফাঁড়ি ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া।

এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এর আগে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় নিহতের মা শাফিয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজু আহম্মেদ জানান, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের হিনানপুর দেওয়ান বাড়ি গ্রামের মৃত রাজু মিয়ার ছেলে মনির হোসেনের সাথে বাইশটেকি গ্রামের মৃত মনু মিয়ার মেয়ে রোকসানা আক্তারের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে এ পরকীয়া সম্পর্কে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার উভয়ের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ বিষয়টি উভয়ের পরিবারসহ এলাকার লোকজন অবগত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সোমবার ভোরে প্রেমিক মনিরের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয় রোকসানা। এ সময় মনিরের বাড়ির লোকজন তাকে একাধিকবার বাড়ির বাইরে বের করে দেয়। রোকসানা তার অবস্থানে অনড় থাকায় দুপুরে মনির হোসেন, তার ভাই গোলজার, খোকন ওরফে খোকা, ছেলে রানা, মনিরের স্ত্রীসহ ৭-৮ জনের একটি দল এসএস পাইপ, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে আহত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় রোকসানাকে মনির হোসেন, তার ছেলে রানা ও মনিরের স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রোকসানাকে মৃত ঘোষণা করে। এ খবর পেয়ে মনির হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন লাশ রেখেই মোবাইল বন্ধ করে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।

এদিকে রোকসানার মৃত্যু সংবাদ মনির হোসেন তার মোবাইল ফোনে জানিয়ে তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ বাইশটেকি গ্রামের একাধিক নারী পুরুষ জানিয়েছেন, মনির হোসেনের বাড়ির লোকজনের একাধিক বিয়ের রেওয়াজ রয়েছে। সকাল থেকে অবস্থান নেয়া ওই নারীকে মনির হোসেন ও তার বাড়ির লোকজন একাধিকবার পিটিয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা নিয়ে গেছে। পরে জানতে পারলাম সে মারা গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফাঁড়ি ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, রোকসানা নামের এক নারীর লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। যারা এ নারীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে তারা মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, এক নারীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ওই নারীর মৃত্যু হওয়ার কারণে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে। হত্যার খবর শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেওয়া নারীকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ০৯:৪০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেওয়ায় এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পরকীয়া প্রেমিক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।

সোমবার দুপুরে সাদিপুর ইউনিয়নের হিনানপুর দেওয়ান বাড়ি গ্রামের মনিরের বাড়িতে ওই নারীকে পিটিয়ে আহত করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহতের নাম রোকসানা আক্তার (৩৮)। পরে লাশ ঢামেকে রেখেই পরকীয়া প্রেমিক মনির হোসেন, তার স্ত্রী ও ছেলে রানা মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।

নিহত নারীর লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফাঁড়ি ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া।

এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এর আগে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় নিহতের মা শাফিয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজু আহম্মেদ জানান, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের হিনানপুর দেওয়ান বাড়ি গ্রামের মৃত রাজু মিয়ার ছেলে মনির হোসেনের সাথে বাইশটেকি গ্রামের মৃত মনু মিয়ার মেয়ে রোকসানা আক্তারের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে এ পরকীয়া সম্পর্কে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার উভয়ের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ বিষয়টি উভয়ের পরিবারসহ এলাকার লোকজন অবগত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সোমবার ভোরে প্রেমিক মনিরের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয় রোকসানা। এ সময় মনিরের বাড়ির লোকজন তাকে একাধিকবার বাড়ির বাইরে বের করে দেয়। রোকসানা তার অবস্থানে অনড় থাকায় দুপুরে মনির হোসেন, তার ভাই গোলজার, খোকন ওরফে খোকা, ছেলে রানা, মনিরের স্ত্রীসহ ৭-৮ জনের একটি দল এসএস পাইপ, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে আহত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় রোকসানাকে মনির হোসেন, তার ছেলে রানা ও মনিরের স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রোকসানাকে মৃত ঘোষণা করে। এ খবর পেয়ে মনির হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন লাশ রেখেই মোবাইল বন্ধ করে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।

এদিকে রোকসানার মৃত্যু সংবাদ মনির হোসেন তার মোবাইল ফোনে জানিয়ে তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ বাইশটেকি গ্রামের একাধিক নারী পুরুষ জানিয়েছেন, মনির হোসেনের বাড়ির লোকজনের একাধিক বিয়ের রেওয়াজ রয়েছে। সকাল থেকে অবস্থান নেয়া ওই নারীকে মনির হোসেন ও তার বাড়ির লোকজন একাধিকবার পিটিয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা নিয়ে গেছে। পরে জানতে পারলাম সে মারা গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফাঁড়ি ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, রোকসানা নামের এক নারীর লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। যারা এ নারীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে তারা মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, এক নারীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ওই নারীর মৃত্যু হওয়ার কারণে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে। হত্যার খবর শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।