ঢাকা ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি একাত্তরে দেশ চায়নি জামায়াত, ইশতেহারেও ইসলাম নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রের পক্ষে অবদান রাখা বুদ্ধিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি:সংসদে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন: বিরোধীদলীয় নেতা হাসিনাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে পুরো বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ: নাসীরুদ্দীন ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কের অভিযোগে মাগুরায় কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার

থানায় ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে ৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পটুয়াখালীর বাউফলে লিটন হাওলাদার (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে থানায় ৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুট পায়ে লাথি, কিল-ঘুষি আর চড়-থাপ্পড়ের সঙ্গে লাঠি দিয়ে পেটানো হয় তাকে। এতটা সময় নির্যাতনের ফাঁকে ১ গ্লাস পানি পর্যন্তও খেতে দেয়া হয়নি লিটনকে।

লিটন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, আমি পৌরশহরের বাংলাবাজার এলাকায় ফার্মেসির ব্যবসা করি। ২০১৭ সালে বিভিন্ন সময় আমি নাজিরপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী খাদিজার কাছ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ধার নেই। এখন পর্যন্ত সুদে আসলে আমি খাদিজাকে মোট ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করি।

এত টাকা পরিশোধের পরও খাদিজা আমার কাছে আসল ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি জমি বিক্রি করে ওই টাকা দেওয়ার কথা বলার পরও খাদিজা আমাকে পুলিশের ভয়ভীতি দেখায়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাউফল থানার এসআই বাশার মুঠোফোনে আমাকে কল দিয়ে থানায় যেতে বলেন।

আমি যাওয়ার পর খাদিজাকে খবর দেন এসআই বাশার। পরে আমাকে থানায় বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আটকে দফায় দফায় লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। চড়-থাপ্পড় আর বুট পায়ে দিয়ে আমাকে লাথি মারা হয়। এতটা নির্যাতনের পরও দুপুরে আমাকে কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ১ গ্লাস পানিও না। বিকালে আমার স্ত্রীকে খবর দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিয়ে একটি সাদা কাগজে আমার সই রাখা হয়। এরপর কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি বলে আমার স্বীকারোক্তি ভিডিও রেকর্ড করে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ৮ ঘণ্টা আটকে রাখার সময় নির্যাতনের ফাঁকে আমাকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়।

লিটন বলেন, এসআই বাশারকে এ সময় সহযোগিতা করেন আরেক পুলিশ সদস্য আবদুর রহমান। দুই পুলিশ মিলে আমাকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আটকে রেখে টর্চার করেছে। আমি এর বিচার চাই।

অবশ্য এরকম নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই বাশার বলেন, খাদিজা নামের এক নারী থানায় অভিযোগ করেছেন। এরপর লিটন নিজেই থানায় এসে নগদ ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরিশোধ করার মুচলেকা দিয়েছেন। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এভাবে আপনি বিচার করতে পারেন কিনা- এমন প্রশ্নে এসআই বাশার এড়িয়ে যান।

বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, খাদিজা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে লিটনকে খবর দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ায় লিটনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি

থানায় ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে ৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন

আপডেট সময় ১১:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পটুয়াখালীর বাউফলে লিটন হাওলাদার (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে থানায় ৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুট পায়ে লাথি, কিল-ঘুষি আর চড়-থাপ্পড়ের সঙ্গে লাঠি দিয়ে পেটানো হয় তাকে। এতটা সময় নির্যাতনের ফাঁকে ১ গ্লাস পানি পর্যন্তও খেতে দেয়া হয়নি লিটনকে।

লিটন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, আমি পৌরশহরের বাংলাবাজার এলাকায় ফার্মেসির ব্যবসা করি। ২০১৭ সালে বিভিন্ন সময় আমি নাজিরপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী খাদিজার কাছ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ধার নেই। এখন পর্যন্ত সুদে আসলে আমি খাদিজাকে মোট ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করি।

এত টাকা পরিশোধের পরও খাদিজা আমার কাছে আসল ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি জমি বিক্রি করে ওই টাকা দেওয়ার কথা বলার পরও খাদিজা আমাকে পুলিশের ভয়ভীতি দেখায়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাউফল থানার এসআই বাশার মুঠোফোনে আমাকে কল দিয়ে থানায় যেতে বলেন।

আমি যাওয়ার পর খাদিজাকে খবর দেন এসআই বাশার। পরে আমাকে থানায় বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আটকে দফায় দফায় লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। চড়-থাপ্পড় আর বুট পায়ে দিয়ে আমাকে লাথি মারা হয়। এতটা নির্যাতনের পরও দুপুরে আমাকে কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ১ গ্লাস পানিও না। বিকালে আমার স্ত্রীকে খবর দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিয়ে একটি সাদা কাগজে আমার সই রাখা হয়। এরপর কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি বলে আমার স্বীকারোক্তি ভিডিও রেকর্ড করে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ৮ ঘণ্টা আটকে রাখার সময় নির্যাতনের ফাঁকে আমাকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়।

লিটন বলেন, এসআই বাশারকে এ সময় সহযোগিতা করেন আরেক পুলিশ সদস্য আবদুর রহমান। দুই পুলিশ মিলে আমাকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আটকে রেখে টর্চার করেছে। আমি এর বিচার চাই।

অবশ্য এরকম নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই বাশার বলেন, খাদিজা নামের এক নারী থানায় অভিযোগ করেছেন। এরপর লিটন নিজেই থানায় এসে নগদ ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরিশোধ করার মুচলেকা দিয়েছেন। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এভাবে আপনি বিচার করতে পারেন কিনা- এমন প্রশ্নে এসআই বাশার এড়িয়ে যান।

বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, খাদিজা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে লিটনকে খবর দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ায় লিটনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।