ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশসহ জরুরি সেবায় জ্বালানি রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনার আড়ালে ঢাকাকে কী বার্তা দিল দিল্লি বিএনপির সাংবাদিক হইয়েন না, সাংবাদিক হোন একটু : অর্থমন্ত্রী কামরাঙ্গীচরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, ১৪ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড মুক্তিযুদ্ধকে কৌশলে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা সফল হবে না: রিজভী মশক নিধনে বর্তমান ওষুধ কার্যকরী হলেও বিকল্প ভাবছি: আবদুস সালাম ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, মুখ খুললেন হামলাকারী ‘গুপ্তদের কারণেই ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, এটি আমাদের অহংকার’ প্রশ্নফাঁস রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে সরকার: মাহদী আমিন বেকারত্ব দূর করতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে আছে: শিক্ষামন্ত্রী

ঋণ পরিশোধ করতেই বকুলকে হত্যা করে শাকিল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঝালকাঠির রাজাপুরে পাঁচ সন্তানের জননী হোসনেয়ারা বেগম বকুল হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। রিমান্ডে হত্যাকারী মো. শাকিল জানায়- ঋণ পরিশোধ করতেই বকুলকে হত্যা করে তার স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় সে।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে মো. শাকিলকে বুধবার আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তাকে ফের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

শাকিল নারায়ণগঞ্জ সদরের গোগনগর মুর্শিদাবাদ বড় মসজিদ এলাকার মো. শাহিনের ছেলে ও রাজাপুর উপজেলা সদরের টিএন্ডটি সড়কের মতিউর রহমান মামুনের ভাড়াটিয়া।

পুলিশ জানায়, শাকিলের সঙ্গে বকুলের পূর্ব থেকেই পরিচয় ছিল। শাকিল দিনমজুরের কাজ করতো। করোনার কারণে কোনো কাজ না থাকায় সে অনেক ঋণী হয়ে পড়ে। ওই সময় বকুলের শরীরে অনেক স্বর্ণালঙ্কার দেখে শাকিলের লোভ হয় এবং ওইগুলো হাতিয়ে নিয়ে ঋণ পরিশোধ করার পরিকল্পনা করে।

ঘটনার দিন ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় সঙ্গে ছুরি নিয়ে ভাড়ার ঘর দেখানোর কথা বলে বকুলকে তার শয়ন কক্ষ থেকে ডেকে আনে শাকিল। এরপর তালা খুলে ভাড়ার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে শাকিল বকুলের গলা চেপে ধরে মেঝেতে ফেলে শ্বাসরোধে হত্যা করে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে বকুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে বকুলের শরীরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়ে শাকিল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বকুলের বড়ছেলে শফিকুল ইসলাম লিটন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ১৮ আগস্ট পুলিশ সন্দেহভাজন শাকিলকে নারায়ণগঞ্জ সদরের ভূইয়াপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

২০ আগস্ট শাকিলকে আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিন রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শাহআলম। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শাকিল পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

শাকিল পুলিশকে জানায়, বকুলের সঙ্গে ছেলে-মেয়েদের সম্পর্ক খারাপ থাকায় হত্যার দায় তাদের ওপর পড়বে বলেই শাকিল বকুলকে নির্ভয়ে হত্যা করেছে। শাকিলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, ঘরের চাবি ও হাতিয়ে নেয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বকুলকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে শাকিল। নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় শাকিলের বিরুদ্ধে একটি হত্যা ও দুইটি মাদকের মামলা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

পুলিশসহ জরুরি সেবায় জ্বালানি রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ঋণ পরিশোধ করতেই বকুলকে হত্যা করে শাকিল

আপডেট সময় ১১:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঝালকাঠির রাজাপুরে পাঁচ সন্তানের জননী হোসনেয়ারা বেগম বকুল হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। রিমান্ডে হত্যাকারী মো. শাকিল জানায়- ঋণ পরিশোধ করতেই বকুলকে হত্যা করে তার স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় সে।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে মো. শাকিলকে বুধবার আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তাকে ফের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

শাকিল নারায়ণগঞ্জ সদরের গোগনগর মুর্শিদাবাদ বড় মসজিদ এলাকার মো. শাহিনের ছেলে ও রাজাপুর উপজেলা সদরের টিএন্ডটি সড়কের মতিউর রহমান মামুনের ভাড়াটিয়া।

পুলিশ জানায়, শাকিলের সঙ্গে বকুলের পূর্ব থেকেই পরিচয় ছিল। শাকিল দিনমজুরের কাজ করতো। করোনার কারণে কোনো কাজ না থাকায় সে অনেক ঋণী হয়ে পড়ে। ওই সময় বকুলের শরীরে অনেক স্বর্ণালঙ্কার দেখে শাকিলের লোভ হয় এবং ওইগুলো হাতিয়ে নিয়ে ঋণ পরিশোধ করার পরিকল্পনা করে।

ঘটনার দিন ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় সঙ্গে ছুরি নিয়ে ভাড়ার ঘর দেখানোর কথা বলে বকুলকে তার শয়ন কক্ষ থেকে ডেকে আনে শাকিল। এরপর তালা খুলে ভাড়ার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে শাকিল বকুলের গলা চেপে ধরে মেঝেতে ফেলে শ্বাসরোধে হত্যা করে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে বকুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে বকুলের শরীরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়ে শাকিল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বকুলের বড়ছেলে শফিকুল ইসলাম লিটন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ১৮ আগস্ট পুলিশ সন্দেহভাজন শাকিলকে নারায়ণগঞ্জ সদরের ভূইয়াপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

২০ আগস্ট শাকিলকে আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিন রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শাহআলম। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শাকিল পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

শাকিল পুলিশকে জানায়, বকুলের সঙ্গে ছেলে-মেয়েদের সম্পর্ক খারাপ থাকায় হত্যার দায় তাদের ওপর পড়বে বলেই শাকিল বকুলকে নির্ভয়ে হত্যা করেছে। শাকিলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, ঘরের চাবি ও হাতিয়ে নেয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বকুলকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে শাকিল। নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় শাকিলের বিরুদ্ধে একটি হত্যা ও দুইটি মাদকের মামলা রয়েছে।