ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন যার ডাকে এতদিন আন্দোলন করেছি সেদিন তিনিই আমাকে তাড়িয়ে দিলেন: ইসহাক সরকার আগুন নিয়ে খেলবেন না: হিজবুল্লাহকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করলেন ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য রাশিয়া সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করবে: পুতিন ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প ভুল সংশোধনীর মাধ্যমে জোরদার হবে: অর্থমন্ত্রী হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জামায়াত কর্মীকে হত্যা সংসদে শক্ত প্রভাবের চেষ্টায় এনসিপি, দুর্বল জামায়াত: রুমিন ফারহানা আমেরিকা অপমানিত, ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: জার্মানি ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি চায় না শিক্ষার্থীরা : হুইপ বকুল

আদালতের মধ্যেই স্যান্ডেল নিয়ে মারতে গেল আসামিরা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

আসামিদের ছবি তোলায় পুলিশের সামনে আদালতের মধ্যেই মারতে তেড়ে আসে আসামিরা।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের খালপাড় এলাকায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার মামলায় আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন মামলার বাদী ভুক্তভোগী ওই নারী।

এ সময় আদালতে মামলার আসামিরা উপস্থিত ছিল। আদালতে বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত থেকে বের হয়ে আসার সময় ভিডিও ধারণ করার অপরাধে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হয় আসামিরা। এ সময় আসামিরা পুলিশের উপস্থিতিতে গণমাধ্যমকর্মীদের গালমন্দ, স্যান্ডেল নিয়ে মারতে উদ্যত ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জয়নাল আবেদিনের আদালতে নির্যাতিতার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতে বিচার কার্যের শুরুতেই প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী ওই নির্যাতিতা নারী। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আদালতে মামলার ৯ জন আসামি উপস্থিত ছিল। ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর রাতে ওই নারী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পরে পুলিশ ৯ জনকে গ্রেফতার করলেও এ মামলার অপর ৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। ইতোমধ্যে মামলায় ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পিবিআই। অভিযোপত্র দাখিলের পর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এখন। এর মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে মামলার বিচার কার্য শুরু হলো।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সিনিয়র অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ লাবলু। বাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন ও আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন বাদল, অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম ও অ্যাডভোকেট আব্দুস শহিদ।

পাবলিক প্রসিকিউটর সিনিয়র অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ লাবলু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ আগামী সোমবার ধার্য করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারীর আগের স্বামী তার সঙ্গে দেখা করতে তার বাবার বাড়ি একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে এসে তাদের ঘরে ঢুকেন। বিষয়টি দেখতে পায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন দেলু। রাত ১০টার দিকে দেলোয়ারের লোকজন ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে পরপুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কাজ ও তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে পিটিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন

আদালতের মধ্যেই স্যান্ডেল নিয়ে মারতে গেল আসামিরা

আপডেট সময় ০৭:১১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

আসামিদের ছবি তোলায় পুলিশের সামনে আদালতের মধ্যেই মারতে তেড়ে আসে আসামিরা।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের খালপাড় এলাকায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার মামলায় আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন মামলার বাদী ভুক্তভোগী ওই নারী।

এ সময় আদালতে মামলার আসামিরা উপস্থিত ছিল। আদালতে বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত থেকে বের হয়ে আসার সময় ভিডিও ধারণ করার অপরাধে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হয় আসামিরা। এ সময় আসামিরা পুলিশের উপস্থিতিতে গণমাধ্যমকর্মীদের গালমন্দ, স্যান্ডেল নিয়ে মারতে উদ্যত ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জয়নাল আবেদিনের আদালতে নির্যাতিতার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতে বিচার কার্যের শুরুতেই প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী ওই নির্যাতিতা নারী। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আদালতে মামলার ৯ জন আসামি উপস্থিত ছিল। ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর রাতে ওই নারী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পরে পুলিশ ৯ জনকে গ্রেফতার করলেও এ মামলার অপর ৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। ইতোমধ্যে মামলায় ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পিবিআই। অভিযোপত্র দাখিলের পর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এখন। এর মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে মামলার বিচার কার্য শুরু হলো।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সিনিয়র অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ লাবলু। বাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন ও আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন বাদল, অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম ও অ্যাডভোকেট আব্দুস শহিদ।

পাবলিক প্রসিকিউটর সিনিয়র অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ লাবলু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ আগামী সোমবার ধার্য করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারীর আগের স্বামী তার সঙ্গে দেখা করতে তার বাবার বাড়ি একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে এসে তাদের ঘরে ঢুকেন। বিষয়টি দেখতে পায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন দেলু। রাত ১০টার দিকে দেলোয়ারের লোকজন ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে পরপুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কাজ ও তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে পিটিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে।