ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমি আমেরিকাবিরোধী নই, তবে নতজানুও হবো না: ইতালির প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আউটলেট, ১০৮ হটস্পট চিহ্নিত ধন্যবাদ বাংলাদেশ, আমাদের সমর্থনের জন্য : আলিসন বিলিয়ন ডলারের প্রতারণা: চীনা ধনকুবেরকে কারাদণ্ড দিল যুক্তরাষ্ট্র ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে অ্যাম্বুলেন্সে ট্রাইব্যুনালে আনা হলো সাবেক এমপি ফজলে করিমকে শিবির কি শেখ মুজিবের স্থলে ওসমান হাদিকে জাতির পিতা হিসেবে দাঁড় করাতে চায়?প্রশ্ন রাশেদ খানের চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল মাদ্রাসাসহ বেতন বঞ্চিত শিক্ষকদের সমস্যার সমাধান শিগগিরই : শিক্ষামন্ত্রী বৃহস্পতিবার শুরু এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা

ছেলের জন্য নিজের আইসিইউ শয্যা ছেড়ে দিয়ে মারা গেলেন মা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনায় (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন ছিলেন মা। একই হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তার ছেলে। একপর্যায়ে ছেলের অবস্থারও অবনতি ঘটে, প্রয়োজন হয় আইসিইউয়ের।

কিন্তু ছেলের জন্য সারা চট্টগ্রামের কোথাও মেলেনি আইসিইউ শয্যা। মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে শুয়ে থাকা মায়ের কানে খবরটা যেতেই ছটফট করতে থাকেন মা। নিজের শয্যায় ছেলেকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের ইশারা করেন মা।

চিকিৎসকরা বোঝানোর চেষ্টা করেও মাকে ওই অবস্থান থেকে সরাতে পারেননি। বাধ্য হয়ে মাকে নামিয়ে আইসিইউ বেডে তোলা হয় ছেলেকে। এর এক ঘণ্টার মাথায় করোনার কাছে হার মানেন মা। মায়ের জীবন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আইসিইউ শয্যা মিললেও এখন ছেলের প্রাণও যায় যায়। তবে মুমুর্ষু অবস্থায় এখনো বেঁচে আছেন ছেলে।

গত ২৭ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায় ছেলের জন্য চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ছাড়েন কানন প্রভাপাল (৬৫) নামের ওই মা। তার বদলে আইসিইউ শয্যায় ওঠেন ছেলে শিমুল পাল (৪৩)। তবে আইসিইউ পেলেও সংকটমুক্ত নন শিমুল পাল। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম বলেন, ‘মা ছেলের জন্য আইসিইউ ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণ বাদে মা মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর ছেলের অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি এখনও আইসিইউ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তবে খুবই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন।’

কানন প্রভা পাল করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এসেছিলেন ১৫ জুলাই। শুরুতে তিনি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছিলেন। পরে ২২ জুলাই হাসপাতালটির আইসিইউ ওয়ার্ডে নেওয়া হয় তাকে। এর একদিন আগে ২১ জুলাই করোনা আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে আসেন তার ছেলে শিমুল পাল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমি আমেরিকাবিরোধী নই, তবে নতজানুও হবো না: ইতালির প্রধানমন্ত্রী

ছেলের জন্য নিজের আইসিইউ শয্যা ছেড়ে দিয়ে মারা গেলেন মা

আপডেট সময় ০১:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনায় (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন ছিলেন মা। একই হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তার ছেলে। একপর্যায়ে ছেলের অবস্থারও অবনতি ঘটে, প্রয়োজন হয় আইসিইউয়ের।

কিন্তু ছেলের জন্য সারা চট্টগ্রামের কোথাও মেলেনি আইসিইউ শয্যা। মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে শুয়ে থাকা মায়ের কানে খবরটা যেতেই ছটফট করতে থাকেন মা। নিজের শয্যায় ছেলেকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের ইশারা করেন মা।

চিকিৎসকরা বোঝানোর চেষ্টা করেও মাকে ওই অবস্থান থেকে সরাতে পারেননি। বাধ্য হয়ে মাকে নামিয়ে আইসিইউ বেডে তোলা হয় ছেলেকে। এর এক ঘণ্টার মাথায় করোনার কাছে হার মানেন মা। মায়ের জীবন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আইসিইউ শয্যা মিললেও এখন ছেলের প্রাণও যায় যায়। তবে মুমুর্ষু অবস্থায় এখনো বেঁচে আছেন ছেলে।

গত ২৭ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায় ছেলের জন্য চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ছাড়েন কানন প্রভাপাল (৬৫) নামের ওই মা। তার বদলে আইসিইউ শয্যায় ওঠেন ছেলে শিমুল পাল (৪৩)। তবে আইসিইউ পেলেও সংকটমুক্ত নন শিমুল পাল। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম বলেন, ‘মা ছেলের জন্য আইসিইউ ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণ বাদে মা মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর ছেলের অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি এখনও আইসিইউ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তবে খুবই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন।’

কানন প্রভা পাল করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এসেছিলেন ১৫ জুলাই। শুরুতে তিনি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছিলেন। পরে ২২ জুলাই হাসপাতালটির আইসিইউ ওয়ার্ডে নেওয়া হয় তাকে। এর একদিন আগে ২১ জুলাই করোনা আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে আসেন তার ছেলে শিমুল পাল।