ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ হাসনাত আব্দুল্লাহর আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যা কৌশলের অজুহাতে বিএনপি কোনো গোপন বেশ ধারণ করেনি: তারেক রহমান

মুচলেকা দিয়ে অসুস্থ বাবাকে ঘরে তুলতে বাধ্য হলেন ছেলেরা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অবশেষে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়ে বৃদ্ধ অসুস্থ বাবাকে ঘরে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন ছেলেরা।

‘অসুস্থ বাবার জায়গা হয়নি ছেলেদের ঘরে!’ এ শিরোনামে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে খবর প্রকাশিত হয় ।

এরপর একই ঘটনা নিয়ে খবর প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম। ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অবশেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলা প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়ে অসুস্থ বাবাকে ঘরে তুলে নিতে রাজি হন ছেলেরা।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুনুর রশিদের কাছে মুচেলেকা দেন বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্য ছেলেরা। মুচলেকায় তারা বলেন, ‘আর কোনো দিন এমন আচরণ করবো না। যদি করি তাহলে বাবা-মার ভরণ-পোষণ আইনে শাস্তির আওতায় থাকবো। ’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাউছারুজ্জামান ও কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা।

এর আগে শুক্রবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে সন্তানের ঘরের সামনে অসুস্থ শফিকুল ইসলামকে (৯৫) পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরে স্থানীয়রা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করলে খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) রাসেল ইকবাল ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাটি ঘটে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেঘনা রোড সংলগ্ন স্বপ্ন মহলের সামনে।

স্থানীয়রা জানায়, অসুস্থ শফিকুলের চার ছেলে ও তিন মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। গত দুই বছর আগে তিনি সন্তানদের সম্পদ ভাগ করে দেন। তার এক ছেলে বিজিবিতে চাকরি করেন, আরেক ছেলে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন, একজন মারা গেছেন এবং অন্যজন প্রবাসী।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডে সবারই পাকা বাড়ি রয়েছে। তারপরও বাবার পরিচর্যা করতে অপারগতা প্রকাশ করে তাকে বাড়ির বাইরে উঠানে ফেলে রাখে ছেলেরা। পরে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দিলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি বিস্তারিত শুনে বাবার দায়িত্ব নিতে বলেন।

ছেলেরা কেউ বাবার দায়িত্ব নিতে রাজি না হওয়ায় অসুস্থ শফিকুলের বড় মেয়ে সুরাইয়া তার বাবার দায়িত্ব নিতে ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে করে অসুস্থ শফিকুলকে মেয়ে সুরাইয়ার বাড়িতে পাঠানো হয়।

জাহাঙ্গীর আলম নামে শফিকুলের এক ছেলে জানান, তিনি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। বাবাকে দেখাশুনো করার মতো তার অবস্থা নেই। সে কারণে তিনি বাবাকে ঘরে রাখতে পারছেন না।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল বলেন, বৃদ্ধ লোকটি অসুস্থ হওয়ায় কোনো ছেলে তাকে রাখতে চাচ্ছেন না। তাই তারা বাড়ির বাহিরে ফেলে রেখেছেন। পরে অসুস্থ শফিকুলের এক মেয়ে এসে তাকে নিতে ইচ্ছা পোষণ করেন। আমরা আমাদের ব্যবস্থাপনায় তাকে মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়েছি।

তিনি বলেন, সন্তানরা এত নিষ্ঠুর হয় – কল্পনাও করতে পারিনি। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিলো। বাবা অসুস্থ বলে কোনো সন্তানই বাবাকে ঘরে রাখতে চাইলেন না। সন্তানরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বাবাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমানের পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী

মুচলেকা দিয়ে অসুস্থ বাবাকে ঘরে তুলতে বাধ্য হলেন ছেলেরা

আপডেট সময় ০৭:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অবশেষে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়ে বৃদ্ধ অসুস্থ বাবাকে ঘরে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন ছেলেরা।

‘অসুস্থ বাবার জায়গা হয়নি ছেলেদের ঘরে!’ এ শিরোনামে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে খবর প্রকাশিত হয় ।

এরপর একই ঘটনা নিয়ে খবর প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম। ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অবশেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলা প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়ে অসুস্থ বাবাকে ঘরে তুলে নিতে রাজি হন ছেলেরা।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুনুর রশিদের কাছে মুচেলেকা দেন বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্য ছেলেরা। মুচলেকায় তারা বলেন, ‘আর কোনো দিন এমন আচরণ করবো না। যদি করি তাহলে বাবা-মার ভরণ-পোষণ আইনে শাস্তির আওতায় থাকবো। ’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাউছারুজ্জামান ও কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা।

এর আগে শুক্রবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে সন্তানের ঘরের সামনে অসুস্থ শফিকুল ইসলামকে (৯৫) পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরে স্থানীয়রা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করলে খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) রাসেল ইকবাল ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাটি ঘটে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেঘনা রোড সংলগ্ন স্বপ্ন মহলের সামনে।

স্থানীয়রা জানায়, অসুস্থ শফিকুলের চার ছেলে ও তিন মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। গত দুই বছর আগে তিনি সন্তানদের সম্পদ ভাগ করে দেন। তার এক ছেলে বিজিবিতে চাকরি করেন, আরেক ছেলে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন, একজন মারা গেছেন এবং অন্যজন প্রবাসী।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডে সবারই পাকা বাড়ি রয়েছে। তারপরও বাবার পরিচর্যা করতে অপারগতা প্রকাশ করে তাকে বাড়ির বাইরে উঠানে ফেলে রাখে ছেলেরা। পরে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দিলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি বিস্তারিত শুনে বাবার দায়িত্ব নিতে বলেন।

ছেলেরা কেউ বাবার দায়িত্ব নিতে রাজি না হওয়ায় অসুস্থ শফিকুলের বড় মেয়ে সুরাইয়া তার বাবার দায়িত্ব নিতে ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে করে অসুস্থ শফিকুলকে মেয়ে সুরাইয়ার বাড়িতে পাঠানো হয়।

জাহাঙ্গীর আলম নামে শফিকুলের এক ছেলে জানান, তিনি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। বাবাকে দেখাশুনো করার মতো তার অবস্থা নেই। সে কারণে তিনি বাবাকে ঘরে রাখতে পারছেন না।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল বলেন, বৃদ্ধ লোকটি অসুস্থ হওয়ায় কোনো ছেলে তাকে রাখতে চাচ্ছেন না। তাই তারা বাড়ির বাহিরে ফেলে রেখেছেন। পরে অসুস্থ শফিকুলের এক মেয়ে এসে তাকে নিতে ইচ্ছা পোষণ করেন। আমরা আমাদের ব্যবস্থাপনায় তাকে মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়েছি।

তিনি বলেন, সন্তানরা এত নিষ্ঠুর হয় – কল্পনাও করতে পারিনি। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিলো। বাবা অসুস্থ বলে কোনো সন্তানই বাবাকে ঘরে রাখতে চাইলেন না। সন্তানরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বাবাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন।