ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খামারিদের টিকে রাখতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ট্রল-অপবাদ দিয়ে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী ‘পাঁচ মাসে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার’:মাহদী আমিন স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে চাই : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী স্বাধীন সাংবাদিকতার আড়ালে অপসাংবাদিকতা করবেন না : আতিকুর রহমান রুমন সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান তিতুমীরের জামায়াতের মতো মোনাফেক দল পৃথিবীতে আর জন্ম হয়নি : ফজলুর রহমান তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানবকেন্দ্রিক এআই নীতি প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ: আইসিটি মন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রেস সচিব

বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেওবন্দ

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ। বাইরে থেকে বেশ দৃষ্টিনন্দন। যদিও এর দালানগুলো অনেক দিনের পুরনো। লাল রঙ মাখা পুরো গায়ে। উপরে চমৎকার একটি গম্বুজ। চারদিকে ফুলের বাগান। মাঝখানে দেশ-বিদেশের বিদ্যার্থীরা মৌমাছির মতো ম ম করছে। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মে গোড়াপত্তন হয় দারুল উলুম দেওবন্দের। পড়ালেখার সূচনা হয় একজন ওস্তাদ মোল্লা মাহমুদ ও একজন ছাত্র মাহমুদ হাসানের মাধ্যমে! ঐতিহাসিক সত্তা এ মসজিদের প্রাঙ্গণে ছোট্ট একটি ডালিম গাছের নিচে!

মূল ভবনের পেছনের দিকে দারুণ নওদারা। এটাই সেই ঐতিহাসিক জমিন! যেখানে হজরত মাওলানা শাহ রফিউদ্দীন (রহ.) কে আল্লাহর রাসুল (সা.) স্বপ্নের মধ্যে বলেছিলেন এখানে দ্বীনের বুনিয়াদ স্থাপন করার জন্য। নওদারার সামনে ছোট্ট একটা চত্বর! মাঝ বরাবর অনেক পুরনো বড় বড় দুইটি বকুল গাছ। গাছ দুইটি হোসাইন আহমদ মাদানি (রহ.) রোপণ করেছিলেন। নওদারার চত্বর ঘিরে রয়েছে সারি সারি দেয়ালিকা। আরবি, উর্দু, হিন্দি, ইংরেজি, অসমিয়া ইত্যাদি ভাষায়।

নওদারার কিছু দক্ষিণে বাবে কাসেম অর্থাৎ কাসেমি গেট! গেটের উপরের কামরায় সংরক্ষিত রয়েছে হুজুর (সা.) এর রুমাল মোবারক। অনেকেই হয়তো রুমালটির কথা আগে কখনও শোনেননি। তুর্কির বাদশা উসমানি খেলাফতের সময় সেখানের অবস্থা খুব খারাপ চলছিল। তখন এ রুমালটিকে এখানে নিরাপদ মনে করে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ গেট হলো বাবে কাসেম। তার সামনে দিয়ে কিছুদূর এগোতেই রাস্তার ডান দিকে পড়ে সেই ঐতিহাসিক সাত্তা মসজিদ, যেখানে বসে মোল্লা মাহমুদ তার সুযোগ্য ছাত্র মাহমুদ হাসানকে হাদিসের দরস দিয়েছিলেন।

দারুল উলুম দেওবন্দের উল্লেখযোগ্য গেটের আরেকটি হলো মাদানি গেট। এ গেট দিয়ে হজরত হোসাইন আহমদ মাদানি (রহ.) আসা-যাওয়া করতেন। তার পাশেই হজরত হোসাইন আহমদ মাদানি (রহ.) এর বাড়ি। বর্তমানে সে বাড়িতে হজরত মাদানি (রহ.) এর মেজো ছেলে মাওলানা আরশাদ মাদানি (দা. বা.) এর পরিবার থাকে।

মাদানি গেট দিয়ে দারুল উলুমে প্রবেশ করতেই সামনে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল একটি খেজুর গাছ। গাছটি হজরত হোসাইন আহমদ মাদানির (রহ.) লাগানো।
গাছটির সামনে বিরাট এক গেট, যার নাম বাবুজ জাহের। বাইরে থেকে ছোট দেখা গেলেও ভেতরটা প্রশস্ত। এর মধ্যে কিছু কামরাও আছে, যেখানে ছাত্ররা থাকে। এ গেটটি আফগানিস্তানের বাদশাহ সুলতান জাহিরের অবদান। তাই তার নামেই নামকরণ করা হয়। এমনকি বাংলাদেশের বিখ্যাত বুজুর্গ হজরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) বাবুজ জাহিরে থাকতেন।

বাবুজ জাহির গেট দিয়ে প্রবেশ করলে তার সামনে দেখা যায় এক বিশাল লাইব্রেরি। নাম মাকতাবায়ে শাইখুল হিন্দ। সুবিশাল মাকতাবাটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড়, বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ বলে মনে করা হয়। এর উপরে উঠলে দেওবন্দের পুরো শহর দেখা যায়। লাইব্রেরির নিচের তালায় রয়েছে পরীক্ষার হল রুম। যেখানে হাজার হাজার ছাত্র পরীক্ষা দিতে পারে। এর দ্বিতীয় তলায় দাওরায়ে হাদিসের ক্লাস। উপরের তলাগুলো বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক প্রোগ্রাম, পুরস্কার ভিতরণ অনুষ্ঠান, তারবিয়তি জলসা ও দেশ-বিদেশের খাস মেহমানদের নিয়ে বিশেষ মজলিস করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। বাকিটা কুতুবখানা। এক লাখ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে অবস্থিত দারুল উলুম দেওবন্দের রয়েছে প্রায় ২০টিরও বেশি দালান।

দেওবন্দে রয়েছে এক বিরাট কবরস্থান, যেটা মাকবারায়ে কাসেমি নামে প্রসিদ্ধ। যেখানে শায়িত আছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজর্গান ওলামায়ে কেরাম। বর্তমানে দারুল উলুম দেওবন্দের মোহতামিম হলেন মুফতি আবুল কাসেম নোমানি (দা. বা.)। দারুল উলুমে ছাত্রসংখ্যা হলো প্রায় সাড়ে চার হাজার। ভারতের সব প্রদেশের ছাত্ররাই এখানে পড়তে আসে। তাছাড়া বাংলাদেশ, মায়ানমার, আফগানিস্তান, মিসর, নেপালের ছাত্রও আসে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সাইড স্ট্রেইন’ ইনজুরিতে নাহিদ রানা

বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেওবন্দ

আপডেট সময় ০৫:১৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ। বাইরে থেকে বেশ দৃষ্টিনন্দন। যদিও এর দালানগুলো অনেক দিনের পুরনো। লাল রঙ মাখা পুরো গায়ে। উপরে চমৎকার একটি গম্বুজ। চারদিকে ফুলের বাগান। মাঝখানে দেশ-বিদেশের বিদ্যার্থীরা মৌমাছির মতো ম ম করছে। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মে গোড়াপত্তন হয় দারুল উলুম দেওবন্দের। পড়ালেখার সূচনা হয় একজন ওস্তাদ মোল্লা মাহমুদ ও একজন ছাত্র মাহমুদ হাসানের মাধ্যমে! ঐতিহাসিক সত্তা এ মসজিদের প্রাঙ্গণে ছোট্ট একটি ডালিম গাছের নিচে!

মূল ভবনের পেছনের দিকে দারুণ নওদারা। এটাই সেই ঐতিহাসিক জমিন! যেখানে হজরত মাওলানা শাহ রফিউদ্দীন (রহ.) কে আল্লাহর রাসুল (সা.) স্বপ্নের মধ্যে বলেছিলেন এখানে দ্বীনের বুনিয়াদ স্থাপন করার জন্য। নওদারার সামনে ছোট্ট একটা চত্বর! মাঝ বরাবর অনেক পুরনো বড় বড় দুইটি বকুল গাছ। গাছ দুইটি হোসাইন আহমদ মাদানি (রহ.) রোপণ করেছিলেন। নওদারার চত্বর ঘিরে রয়েছে সারি সারি দেয়ালিকা। আরবি, উর্দু, হিন্দি, ইংরেজি, অসমিয়া ইত্যাদি ভাষায়।

নওদারার কিছু দক্ষিণে বাবে কাসেম অর্থাৎ কাসেমি গেট! গেটের উপরের কামরায় সংরক্ষিত রয়েছে হুজুর (সা.) এর রুমাল মোবারক। অনেকেই হয়তো রুমালটির কথা আগে কখনও শোনেননি। তুর্কির বাদশা উসমানি খেলাফতের সময় সেখানের অবস্থা খুব খারাপ চলছিল। তখন এ রুমালটিকে এখানে নিরাপদ মনে করে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ গেট হলো বাবে কাসেম। তার সামনে দিয়ে কিছুদূর এগোতেই রাস্তার ডান দিকে পড়ে সেই ঐতিহাসিক সাত্তা মসজিদ, যেখানে বসে মোল্লা মাহমুদ তার সুযোগ্য ছাত্র মাহমুদ হাসানকে হাদিসের দরস দিয়েছিলেন।

দারুল উলুম দেওবন্দের উল্লেখযোগ্য গেটের আরেকটি হলো মাদানি গেট। এ গেট দিয়ে হজরত হোসাইন আহমদ মাদানি (রহ.) আসা-যাওয়া করতেন। তার পাশেই হজরত হোসাইন আহমদ মাদানি (রহ.) এর বাড়ি। বর্তমানে সে বাড়িতে হজরত মাদানি (রহ.) এর মেজো ছেলে মাওলানা আরশাদ মাদানি (দা. বা.) এর পরিবার থাকে।

মাদানি গেট দিয়ে দারুল উলুমে প্রবেশ করতেই সামনে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল একটি খেজুর গাছ। গাছটি হজরত হোসাইন আহমদ মাদানির (রহ.) লাগানো।
গাছটির সামনে বিরাট এক গেট, যার নাম বাবুজ জাহের। বাইরে থেকে ছোট দেখা গেলেও ভেতরটা প্রশস্ত। এর মধ্যে কিছু কামরাও আছে, যেখানে ছাত্ররা থাকে। এ গেটটি আফগানিস্তানের বাদশাহ সুলতান জাহিরের অবদান। তাই তার নামেই নামকরণ করা হয়। এমনকি বাংলাদেশের বিখ্যাত বুজুর্গ হজরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) বাবুজ জাহিরে থাকতেন।

বাবুজ জাহির গেট দিয়ে প্রবেশ করলে তার সামনে দেখা যায় এক বিশাল লাইব্রেরি। নাম মাকতাবায়ে শাইখুল হিন্দ। সুবিশাল মাকতাবাটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড়, বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ বলে মনে করা হয়। এর উপরে উঠলে দেওবন্দের পুরো শহর দেখা যায়। লাইব্রেরির নিচের তালায় রয়েছে পরীক্ষার হল রুম। যেখানে হাজার হাজার ছাত্র পরীক্ষা দিতে পারে। এর দ্বিতীয় তলায় দাওরায়ে হাদিসের ক্লাস। উপরের তলাগুলো বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক প্রোগ্রাম, পুরস্কার ভিতরণ অনুষ্ঠান, তারবিয়তি জলসা ও দেশ-বিদেশের খাস মেহমানদের নিয়ে বিশেষ মজলিস করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। বাকিটা কুতুবখানা। এক লাখ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে অবস্থিত দারুল উলুম দেওবন্দের রয়েছে প্রায় ২০টিরও বেশি দালান।

দেওবন্দে রয়েছে এক বিরাট কবরস্থান, যেটা মাকবারায়ে কাসেমি নামে প্রসিদ্ধ। যেখানে শায়িত আছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজর্গান ওলামায়ে কেরাম। বর্তমানে দারুল উলুম দেওবন্দের মোহতামিম হলেন মুফতি আবুল কাসেম নোমানি (দা. বা.)। দারুল উলুমে ছাত্রসংখ্যা হলো প্রায় সাড়ে চার হাজার। ভারতের সব প্রদেশের ছাত্ররাই এখানে পড়তে আসে। তাছাড়া বাংলাদেশ, মায়ানমার, আফগানিস্তান, মিসর, নেপালের ছাত্রও আসে।