ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

মা মেয়ে ও ছেলে হত্যা: শ্যালিকার বিয়ে নিয়ে ঝগড়া হয় স্বামী-স্ত্রীর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হিফজুর পরিবারে কলহ ছিল। গত দুই মাসে দুবার সালিশ করেছেন তিনি। আগামীকাল শুক্রবার তার শ্যালিকার বিয়ে হওয়ার কথা। সেই বিয়েতে যাওয়া না যাওয়া নিয়েও অন্তঃসত্ত্বা আলেয়া বেগমের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই শিশুসহ তাদের মাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানায় পুলিশ।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রাম থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তবে মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতরা হলেন— উপজেলার বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিফজুর রহমানের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা আলেয়া বেগম (২৭), ছেলে মিজান আহমদ (১১) ও মেয়ে তানিসা (৫)।

আহত হিফজুর রহমানকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকৎসকরা।

সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ তিনটি একই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এবং হিফজুর রহমানই পুলিশের প্রধান সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন।

ইসলাম নামে এক প্রতিবেশী জানান, হিফজুর পরিবারে কলহ ছিল। গত দুই মাসে দুবার সালিশ করেছেন তিনি। শুক্রবার হিফজুরের শ্যালিকার বিয়ে হওয়ার কথা। সেই বিয়েতে যাওয়া না যাওয়া নিয়েও তাদের মধ্যে সোমবার ঝগড়া হয়।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ জানান, বুধবার ভোরে আত্মীয় ফয়েজ মিয়াকে মোবাইলে কল দিয়ে হিফজুর বলেন, আমি অসুস্থ হাসপাতালে নিতে হবে, টাকা-পয়সা নিয়ে দ্রুত চলে আসেন।

এ খবর পেয়ে তিনি (ফয়েজ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওই বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন তিনি (ফয়েজ)। পরে কাঁচাঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একই বিছানায় চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় চারজনকেই মৃত মনে হয়।

স্থানীয়রা ছবি তুলতে গেলে ক্যামেরার ফ্লাশে চোখ খুলে আবারও চোখ বন্ধ করে ফেলেন হিফজুর। স্থানীয়রা তখন তার কাছে গিয়ে দেখেন শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক। তার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন আছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশি প্রহরায় তার চিকিৎসা চলছে। হিফজুর শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত নেই। কিন্তু তার জ্ঞান ফেরেনি।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশ দুটি বিষয় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয় দুটি হলো— জমি ও পারিবারিক কলহ।

তবে ঘটনাস্থলের আলামত, হিফজুরের শরীরের আঘাত এবং ফোনকলের বিষয়গুলো দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে— পারিবারিক কলহের কারণেই হিফজুর স্ত্রী-সন্তানদের বঁটি দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে খুন করেন। এর পর নিজের শরীরে কিছু আঘাত করে মৃতের মতো পড়ে থাকার ভান ধরেন।

স্থানীয় বিরোধের বিষয়েও বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখনও কাউকে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। জ্ঞান ফিরলে হিফজুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন বলেন, শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

মা মেয়ে ও ছেলে হত্যা: শ্যালিকার বিয়ে নিয়ে ঝগড়া হয় স্বামী-স্ত্রীর

আপডেট সময় ১২:৩৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হিফজুর পরিবারে কলহ ছিল। গত দুই মাসে দুবার সালিশ করেছেন তিনি। আগামীকাল শুক্রবার তার শ্যালিকার বিয়ে হওয়ার কথা। সেই বিয়েতে যাওয়া না যাওয়া নিয়েও অন্তঃসত্ত্বা আলেয়া বেগমের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই শিশুসহ তাদের মাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানায় পুলিশ।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রাম থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তবে মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতরা হলেন— উপজেলার বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিফজুর রহমানের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা আলেয়া বেগম (২৭), ছেলে মিজান আহমদ (১১) ও মেয়ে তানিসা (৫)।

আহত হিফজুর রহমানকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকৎসকরা।

সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ তিনটি একই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এবং হিফজুর রহমানই পুলিশের প্রধান সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন।

ইসলাম নামে এক প্রতিবেশী জানান, হিফজুর পরিবারে কলহ ছিল। গত দুই মাসে দুবার সালিশ করেছেন তিনি। শুক্রবার হিফজুরের শ্যালিকার বিয়ে হওয়ার কথা। সেই বিয়েতে যাওয়া না যাওয়া নিয়েও তাদের মধ্যে সোমবার ঝগড়া হয়।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ জানান, বুধবার ভোরে আত্মীয় ফয়েজ মিয়াকে মোবাইলে কল দিয়ে হিফজুর বলেন, আমি অসুস্থ হাসপাতালে নিতে হবে, টাকা-পয়সা নিয়ে দ্রুত চলে আসেন।

এ খবর পেয়ে তিনি (ফয়েজ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওই বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন তিনি (ফয়েজ)। পরে কাঁচাঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একই বিছানায় চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় চারজনকেই মৃত মনে হয়।

স্থানীয়রা ছবি তুলতে গেলে ক্যামেরার ফ্লাশে চোখ খুলে আবারও চোখ বন্ধ করে ফেলেন হিফজুর। স্থানীয়রা তখন তার কাছে গিয়ে দেখেন শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক। তার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন আছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশি প্রহরায় তার চিকিৎসা চলছে। হিফজুর শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত নেই। কিন্তু তার জ্ঞান ফেরেনি।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশ দুটি বিষয় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয় দুটি হলো— জমি ও পারিবারিক কলহ।

তবে ঘটনাস্থলের আলামত, হিফজুরের শরীরের আঘাত এবং ফোনকলের বিষয়গুলো দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে— পারিবারিক কলহের কারণেই হিফজুর স্ত্রী-সন্তানদের বঁটি দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে খুন করেন। এর পর নিজের শরীরে কিছু আঘাত করে মৃতের মতো পড়ে থাকার ভান ধরেন।

স্থানীয় বিরোধের বিষয়েও বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখনও কাউকে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। জ্ঞান ফিরলে হিফজুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন বলেন, শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।