ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে স্বামীকে হত্যা করে স্ত্রী ও আপন ভাই

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চারদিন আগে পাবনার ঈশ্বরদীতে নিজ শয়নকক্ষে বিছানার ওপর পড়ে থাকা শাকিল প্রমাণিক (৩০) নামে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়ে বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আপন ভাই ও নিহতের সহধর্মিণী।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশ হত্যার মূলরহস্য উদঘাটন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজন আসামিকে আটক করে। আটক আসামিদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে রের্কড করা হয়েছে। বুধবার (২ জুন) দুপুরে পাবনার সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) ফিরোজ কবির বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শুক্রবার (২৮ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার রুপনগর কলেজপাড়া আহসান হাবিবের ভাড়া বাড়ির নিজ শয়নকক্ষে বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। রোববার (৩০ মে) সকালে নিহত শাকিলের মামা কোরবান মালিথা ঈশ্বরদী থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত শাকিল প্রামানিক উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের পতিরাজপুরের দুবলাচারা গ্রামের ইব্রাহিম প্রামাণিকের ছেলে। তিনি ঈশ্বরদী বাজারের শাকিল ক্লথ স্টোরের মালিক ছিলেন।

পাবনার অতিরিক্ত সিনিয়র পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) ফিরোজ কবির জানান, শুক্রবার (২৮ মে) রাত অনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে থানা পুলিশের কাছে খবর আসে ঈশ্বরদী শহরের কলেজপাড়া রূপনগর মহল্লায় জনৈক আহসান হাবীবের বাড়ির দ্বিতীয় তলার এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুু হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, শাকিলের মরদেহ তার ঘরের বিছানার উপরে এবং তার স্ত্রী মিম খাতুন (২০) শাকিলের মরদেহের পাশে বসে কান্নাকাটি করছে।

জিজ্ঞাসাবাদে মিম পুলিশকে জানান, রাত ৮টার দিকে অচেনা দুইজন ব্যক্তি বাড়ি এসে শাকিলকে ডাকাডাকি করছিল। শাকিলের স্ত্রী মিম ঘরের দরজা খুলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে অচেনা ২ জন ঘরের মধ্যে ঢুকে মিমকে চড় থাপ্পড় মারে এবং বুকে লাথি মারিলে মিম অজ্ঞান হয়ে যায়। রাত ৯টার দিকে জ্ঞান ফিরে মীম দেখতে পায় তার হাত-পা মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং ঘরের দরজা বাহির থেকে আটকানো। মিম তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় প্রতিবেশিদের সাহায্য পাওয়ার জন্য ঘণ্টাখানেক দুই পা দিয়ে ঘরের দরজা ও ওয়ারড্রপে লাথি মেরে শব্দ করতে থাকে।

রাত ১০টার দিকে বাড়ির মালিকের স্ত্রী নাজমা বেগম শব্দ শুনে শাকিলের দরজার কাছে এসে দেখেন, দরজা বাহির থেকে ছিটকিনি লাগানো রয়েছে। নাজমা বেগম শাকিলের ঘরের দরজার ছিটকিনি খুলে দরজার পাশে শাকিলের স্ত্রী মিমের হাত,পা মুখ বাঁধা অবস্থায় থাকতে দেখে বাঁধন খুলে দিয়ে প্রতিবেশিদের ডাকেন। শাকিলের ঘরে খাটের বিছানার উপর শাকিলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেন।

শনিবার (২৯ মে) সকালে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী মীমকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে নিহত শাকিলের ছোট ভাই সাব্বির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।

শাকিলকে হত্যার রহস্য উদঘাটনে পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খানের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলমসহ আমরা পুলিশে চৌকস দল কাজ শুরু করে বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে দুই আসামিকে আটক দেখানো হয়।

তিনি আরও জানান, তদন্তকালে জানা যায়, মৃত শাকিলের স্ত্রী মিমের সঙ্গে শাকিলের ছোট ভাই সাব্বিরের অবৈধ পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাছাড়া শাকিলের সঙ্গে মা-বাবা-ভাইয়ের জমিজমা ও পুকুরে মাছ চাষের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ার কারণে শাকিল একই বাড়িতে অবস্থান করলেও আলাদা সংসার শুরু করে। শাকিল তার স্ত্রী মিম ও সাব্বিরের পরকিয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে শাকিল তার স্ত্রী মিমকে দেবর সাব্বিরের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে দেন। কিন্তু সাব্বির গোপনে একটি মোবাইল ফোন মিমকে দেয় যা মিম লুকিয়ে রেখে শুধুমাত্র সাব্বিরের সঙ্গে গোপনে কথা বলতেন এবং প্রায় সময়ে তারা বাড়ি ফাঁকা পেলে ঘনিষ্টভাবে মিশতেন। এছাড়া কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাকিল ১৯ মে স্ত্রীকে নিয়ে ঈশ্বরদী শহরের কলেজপাড়া রুপনগর মহল্লায় আহসান হাবীবের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠে।

এতে মিম এবং সাব্বির একে অপরের থেকে কিছুটা দূরে চলে যাওয়ায় উভয়ই শাকিলের প্রতি মনেমনে ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শাকিলের স্ত্রী মিম বৃহস্পতিবার (২৭ মে) রাত ১০টার দিকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ গুড়া করে মিশিয়ে শাকিলকে খাওয়ান। শুক্রবার ( ২৮ মে) শাকিল সারাদিন ঘরের মধ্যে শুধু ঘুমাতে থাকে। ওইদিন সন্ধ্যার পর সাব্বির গোপনে শাকিলের বাসায় যান। শাকিল ঘুমের ওষুধের প্রভাবে তখনো খাটের উপর শুয়ে ঘুমাচ্ছিল। সাব্বির এবং মিম পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শোফাসেটের কুশন বালিশ নিয়ে শাকিলের শয়ন কক্ষে ঢুকে শাকিলকে ঘুমন্ত অবস্থায় নাকে-মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামি সাব্বির ওড়না দিয়ে মিমের দুই পা, শাকিলের পাঞ্জাবি দিয়ে মিমের দুই হাত এবং ওড়না দিয়ে মিমের মুখ বেঁধে বাহির দরজার কাছে রেখে ঘরের দরজাটি বাহির থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়ে চলে যান।

এ সময় সাব্বির মিমের সঙ্গে গোপনে কথা বলার জন্য তাকে দেওয়া মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান এবং বাসার মেইন গেইটের চাবি বাসা থেকে নিয়ে গিয়ে মেইন গেইট খুলে বের হয়ে যাওয়ার সময় চাবিটি একবাসা পরে প্রাচীরের দেওয়ালের উপর রেখে দেন। এই সংক্রান্তে আসামি মিম ও সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়। সাব্বিরের কাছ থেকে মিমের কথা বলার গোপন মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

আসামি মিমের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রের্কড করে ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো আসামি জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আসামি সাব্বিরকে চারদিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দ্রুততম সময়ে মামলাটির তদন্ত শেষ করে বিজ্ঞ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে স্বামীকে হত্যা করে স্ত্রী ও আপন ভাই

আপডেট সময় ০৮:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চারদিন আগে পাবনার ঈশ্বরদীতে নিজ শয়নকক্ষে বিছানার ওপর পড়ে থাকা শাকিল প্রমাণিক (৩০) নামে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়ে বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আপন ভাই ও নিহতের সহধর্মিণী।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশ হত্যার মূলরহস্য উদঘাটন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজন আসামিকে আটক করে। আটক আসামিদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে রের্কড করা হয়েছে। বুধবার (২ জুন) দুপুরে পাবনার সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) ফিরোজ কবির বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শুক্রবার (২৮ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার রুপনগর কলেজপাড়া আহসান হাবিবের ভাড়া বাড়ির নিজ শয়নকক্ষে বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। রোববার (৩০ মে) সকালে নিহত শাকিলের মামা কোরবান মালিথা ঈশ্বরদী থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত শাকিল প্রামানিক উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের পতিরাজপুরের দুবলাচারা গ্রামের ইব্রাহিম প্রামাণিকের ছেলে। তিনি ঈশ্বরদী বাজারের শাকিল ক্লথ স্টোরের মালিক ছিলেন।

পাবনার অতিরিক্ত সিনিয়র পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) ফিরোজ কবির জানান, শুক্রবার (২৮ মে) রাত অনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে থানা পুলিশের কাছে খবর আসে ঈশ্বরদী শহরের কলেজপাড়া রূপনগর মহল্লায় জনৈক আহসান হাবীবের বাড়ির দ্বিতীয় তলার এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুু হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, শাকিলের মরদেহ তার ঘরের বিছানার উপরে এবং তার স্ত্রী মিম খাতুন (২০) শাকিলের মরদেহের পাশে বসে কান্নাকাটি করছে।

জিজ্ঞাসাবাদে মিম পুলিশকে জানান, রাত ৮টার দিকে অচেনা দুইজন ব্যক্তি বাড়ি এসে শাকিলকে ডাকাডাকি করছিল। শাকিলের স্ত্রী মিম ঘরের দরজা খুলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে অচেনা ২ জন ঘরের মধ্যে ঢুকে মিমকে চড় থাপ্পড় মারে এবং বুকে লাথি মারিলে মিম অজ্ঞান হয়ে যায়। রাত ৯টার দিকে জ্ঞান ফিরে মীম দেখতে পায় তার হাত-পা মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং ঘরের দরজা বাহির থেকে আটকানো। মিম তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় প্রতিবেশিদের সাহায্য পাওয়ার জন্য ঘণ্টাখানেক দুই পা দিয়ে ঘরের দরজা ও ওয়ারড্রপে লাথি মেরে শব্দ করতে থাকে।

রাত ১০টার দিকে বাড়ির মালিকের স্ত্রী নাজমা বেগম শব্দ শুনে শাকিলের দরজার কাছে এসে দেখেন, দরজা বাহির থেকে ছিটকিনি লাগানো রয়েছে। নাজমা বেগম শাকিলের ঘরের দরজার ছিটকিনি খুলে দরজার পাশে শাকিলের স্ত্রী মিমের হাত,পা মুখ বাঁধা অবস্থায় থাকতে দেখে বাঁধন খুলে দিয়ে প্রতিবেশিদের ডাকেন। শাকিলের ঘরে খাটের বিছানার উপর শাকিলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেন।

শনিবার (২৯ মে) সকালে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী মীমকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে নিহত শাকিলের ছোট ভাই সাব্বির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।

শাকিলকে হত্যার রহস্য উদঘাটনে পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খানের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলমসহ আমরা পুলিশে চৌকস দল কাজ শুরু করে বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে দুই আসামিকে আটক দেখানো হয়।

তিনি আরও জানান, তদন্তকালে জানা যায়, মৃত শাকিলের স্ত্রী মিমের সঙ্গে শাকিলের ছোট ভাই সাব্বিরের অবৈধ পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাছাড়া শাকিলের সঙ্গে মা-বাবা-ভাইয়ের জমিজমা ও পুকুরে মাছ চাষের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ার কারণে শাকিল একই বাড়িতে অবস্থান করলেও আলাদা সংসার শুরু করে। শাকিল তার স্ত্রী মিম ও সাব্বিরের পরকিয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে শাকিল তার স্ত্রী মিমকে দেবর সাব্বিরের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে দেন। কিন্তু সাব্বির গোপনে একটি মোবাইল ফোন মিমকে দেয় যা মিম লুকিয়ে রেখে শুধুমাত্র সাব্বিরের সঙ্গে গোপনে কথা বলতেন এবং প্রায় সময়ে তারা বাড়ি ফাঁকা পেলে ঘনিষ্টভাবে মিশতেন। এছাড়া কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাকিল ১৯ মে স্ত্রীকে নিয়ে ঈশ্বরদী শহরের কলেজপাড়া রুপনগর মহল্লায় আহসান হাবীবের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠে।

এতে মিম এবং সাব্বির একে অপরের থেকে কিছুটা দূরে চলে যাওয়ায় উভয়ই শাকিলের প্রতি মনেমনে ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শাকিলের স্ত্রী মিম বৃহস্পতিবার (২৭ মে) রাত ১০টার দিকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ গুড়া করে মিশিয়ে শাকিলকে খাওয়ান। শুক্রবার ( ২৮ মে) শাকিল সারাদিন ঘরের মধ্যে শুধু ঘুমাতে থাকে। ওইদিন সন্ধ্যার পর সাব্বির গোপনে শাকিলের বাসায় যান। শাকিল ঘুমের ওষুধের প্রভাবে তখনো খাটের উপর শুয়ে ঘুমাচ্ছিল। সাব্বির এবং মিম পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শোফাসেটের কুশন বালিশ নিয়ে শাকিলের শয়ন কক্ষে ঢুকে শাকিলকে ঘুমন্ত অবস্থায় নাকে-মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামি সাব্বির ওড়না দিয়ে মিমের দুই পা, শাকিলের পাঞ্জাবি দিয়ে মিমের দুই হাত এবং ওড়না দিয়ে মিমের মুখ বেঁধে বাহির দরজার কাছে রেখে ঘরের দরজাটি বাহির থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়ে চলে যান।

এ সময় সাব্বির মিমের সঙ্গে গোপনে কথা বলার জন্য তাকে দেওয়া মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান এবং বাসার মেইন গেইটের চাবি বাসা থেকে নিয়ে গিয়ে মেইন গেইট খুলে বের হয়ে যাওয়ার সময় চাবিটি একবাসা পরে প্রাচীরের দেওয়ালের উপর রেখে দেন। এই সংক্রান্তে আসামি মিম ও সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়। সাব্বিরের কাছ থেকে মিমের কথা বলার গোপন মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

আসামি মিমের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রের্কড করে ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো আসামি জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আসামি সাব্বিরকে চারদিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দ্রুততম সময়ে মামলাটির তদন্ত শেষ করে বিজ্ঞ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।