ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

মৃত্যুর আগে মুসলিম করোনা রোগীকে পবিত্র কালেমা পড়ে শোনালেন হিন্দু ডাক্তার

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কেরালার তিরুবনন্তপুরমের পলাক্কড় জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রেখা কৃষ্ণা। করোনাকালে ভয়াবহ দুঃসময়ে সম্প্রীতির অনন্য নজির তৈরি করেছেন তিনি। সূত্রের খবর, সেই হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে ভর্তি ছিলেন এক মুসলিম নারী। মৃত্যুপথযাত্রী তিনি। তাকে কার্যত হাতছানি দিয়ে ডাকছে মৃত্যু। কিন্তু চিকিৎসকের মনে হয়েছিল কিছু যেন খুঁজছেন ওই রোগী। আর কালবিলম্ব করেননি ওই চিকিৎসক। ওই রোগীর কানে কানে ডা. কৃষ্ণা শোনালেন ইসলাম ধর্মের পবিত্র কালেমা- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ। তারপর তিনি দেখেন এক সুন্দর প্রশান্তি ওই রোগির মধ্যে। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সময়তেও এই প্রশান্তি লক্ষ্য করেন চিকিৎসক।

এরপরই ওই চিকিৎসক তারই এক সহকর্মীর সঙ্গে গোটা বিষয়টি আলোচনা করেন। ওই সহকর্মী সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সকলের কাছে তুলে ধরেন। ভাইরাল হয় এই ঘটনা। সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেয় নেট দুনিয়া। কিন্তু তারপরেও একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, ওই বিশেষ সময়ে চিকিৎসক জানলেন কী করে যে কলমা পড়তে হবে।

সেই প্রশ্নের উত্তরে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘আমি জন্মেছি ও বড় হয়েছি দুবাইতে। মুসলিমদের নানা প্রথা সম্পর্কে আমি অবহিত। আমি এরকম একটি পরিবেশে বড় হয়েছি যেখানে সমস্ত বিশ্বাসকে মর্যাদা দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি আমার কর্তব্য করেছি। এটা কোনও ধর্মীয় আচার পালন করিনি, শুধু মানবিকতার কাজ করেছি।’ অপর এক চিকিৎসক বলেন, ‘অনেকেই শেষ সময়ে কাছের মানুষদের দেখতে চান। তবে ডা. কৃষ্ণা যা করেছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে।’

বিদ্বজনেদের মতে, সাধারণত রোগীর অন্তিম সময়ে নিকট আত্মীয়রা বা ধর্মীয় শিক্ষকরা এই ধরনের প্রথা পালন করেন। এক্ষেত্রে অনন্য নজির তৈরি করেছেন ওই চিকিৎসক। ইসলামিক স্কলার আব্দুল হামিদ ফয়জল বলেন, ‘মন ছুঁয়ে যাওয়া কাজ করেছেন চিকিৎসক। চিকিৎসকরাই তো সম্প্রীতির প্রতীক। তার এই মহান আচরণ অনেক কিছু শিক্ষা দেবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

মৃত্যুর আগে মুসলিম করোনা রোগীকে পবিত্র কালেমা পড়ে শোনালেন হিন্দু ডাক্তার

আপডেট সময় ০১:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মে ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কেরালার তিরুবনন্তপুরমের পলাক্কড় জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রেখা কৃষ্ণা। করোনাকালে ভয়াবহ দুঃসময়ে সম্প্রীতির অনন্য নজির তৈরি করেছেন তিনি। সূত্রের খবর, সেই হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে ভর্তি ছিলেন এক মুসলিম নারী। মৃত্যুপথযাত্রী তিনি। তাকে কার্যত হাতছানি দিয়ে ডাকছে মৃত্যু। কিন্তু চিকিৎসকের মনে হয়েছিল কিছু যেন খুঁজছেন ওই রোগী। আর কালবিলম্ব করেননি ওই চিকিৎসক। ওই রোগীর কানে কানে ডা. কৃষ্ণা শোনালেন ইসলাম ধর্মের পবিত্র কালেমা- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ। তারপর তিনি দেখেন এক সুন্দর প্রশান্তি ওই রোগির মধ্যে। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সময়তেও এই প্রশান্তি লক্ষ্য করেন চিকিৎসক।

এরপরই ওই চিকিৎসক তারই এক সহকর্মীর সঙ্গে গোটা বিষয়টি আলোচনা করেন। ওই সহকর্মী সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সকলের কাছে তুলে ধরেন। ভাইরাল হয় এই ঘটনা। সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেয় নেট দুনিয়া। কিন্তু তারপরেও একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, ওই বিশেষ সময়ে চিকিৎসক জানলেন কী করে যে কলমা পড়তে হবে।

সেই প্রশ্নের উত্তরে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘আমি জন্মেছি ও বড় হয়েছি দুবাইতে। মুসলিমদের নানা প্রথা সম্পর্কে আমি অবহিত। আমি এরকম একটি পরিবেশে বড় হয়েছি যেখানে সমস্ত বিশ্বাসকে মর্যাদা দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি আমার কর্তব্য করেছি। এটা কোনও ধর্মীয় আচার পালন করিনি, শুধু মানবিকতার কাজ করেছি।’ অপর এক চিকিৎসক বলেন, ‘অনেকেই শেষ সময়ে কাছের মানুষদের দেখতে চান। তবে ডা. কৃষ্ণা যা করেছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে।’

বিদ্বজনেদের মতে, সাধারণত রোগীর অন্তিম সময়ে নিকট আত্মীয়রা বা ধর্মীয় শিক্ষকরা এই ধরনের প্রথা পালন করেন। এক্ষেত্রে অনন্য নজির তৈরি করেছেন ওই চিকিৎসক। ইসলামিক স্কলার আব্দুল হামিদ ফয়জল বলেন, ‘মন ছুঁয়ে যাওয়া কাজ করেছেন চিকিৎসক। চিকিৎসকরাই তো সম্প্রীতির প্রতীক। তার এই মহান আচরণ অনেক কিছু শিক্ষা দেবে।’