ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বালিশচাপায় শিশুকে হত্যার পর ‘জিনের ওপর’ দায় চাপানোর চেষ্টা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাবার সহযোগিতায় সৎমা মুক্তা বেগমই বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে রাজশাহীর বাগমারার শিশু মারুফকে (৭)। তবে জিনে মেরে ফেলেছে বলে প্রচার করে তড়িঘড়ি মরদেহ দাফনের চেষ্টা করা হয়।

জানতে পেরে মারুফের মা মারুফা বেগম মরদেহ দাফনে বাধা প্রদান করেন। অভিযোগ দেন পুলিশে। পুলিশ এসে শিশু মারুফের লাশ উদ্ধার করে রামেক মর্গে পাঠায়।

গত ৩০ এপ্রিল সকালের ঘটনা। জেলার বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামে ঘটে এ নৃশংস ঘটনা। শিশু মারুফকে হত্যার দায় স্বীকার করায় পুলিশ সৎমা মুক্তা বেগম (৩০) ও বাবা শাজাহানকে (৩৮) গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।

বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ জানান, গত ৩০ এপ্রিল সকালে সৎমা মুক্তা বেগম ও বাবা শাজাহান পরিকল্পিতভাবে শিশু মারুফকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে সৎমা ও বাবা জানান মারুফ খুব দুষ্টামি করত। এই ক্ষোভ থেকেই সৎমা ও বাবা মিলে তাকে হত্যা করি।

তবে তারা পাড়াপ্রতিবেশীকে জানায়, জিনে হত্যা করেছে মারুফকে। এই বলে তড়িঘড়ি করে মারুফের মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাফন পরিয়ে কবরস্থ করার সময় মারুফের নিজের মা মারুফা বেগম ছুটে এসে লাশ দাফনে বাধা দেন। ডাকেন পুলিশ। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৎমা ও বাবাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মারুফকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার আগে ৩০ এপ্রিল রাতে মারুফের মা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন স্বামী শাজাহান ও শাজাহানের বর্তমান স্ত্রী মুক্তা বেগমকে আসামি করে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, দিনমজুর শাজাহানের তিনটি বিয়ে। প্রথম স্ত্রী মারা গেলে মারুফের মা মারুফা বেগমকে বিয়ে করেন। তবে মারুফের জন্মের তিন বছর পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে যায়। শাজাহান তৃতীয়বার বিয়ে করেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের মুক্তা বেগমকে। মুক্তাকে বিয়ের পর মারুফকে তার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে আসেন শাজাহান।

মারুফ বাবা ও সৎমায়ের কাছেই থাকত। মারুফ দুষ্টুমি করত। এতে ক্ষোভ জন্মে সৎমায়ের। স্বামীর সঙ্গে যুক্তি করে মারুফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুক্তা বেগম। ৩০ এপ্রিল স্বামী-স্ত্রী মিলে শিশু মারুফকে হত্যা করেন বালিশচাপা দিয়ে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সৈয়বুর রহমান জানান, ঘটনার দিনই সৎমা মুক্তা ও বাবা শাজাহানকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা মারুফকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

শনিবার হত্যা মামলা রেকর্ডের পর সৎমা ও বাবাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মারুফের মা সন্তানের মরদেহ গ্রহণ করে নিজের গ্রামে দাফন করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বালিশচাপায় শিশুকে হত্যার পর ‘জিনের ওপর’ দায় চাপানোর চেষ্টা

আপডেট সময় ০১:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাবার সহযোগিতায় সৎমা মুক্তা বেগমই বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে রাজশাহীর বাগমারার শিশু মারুফকে (৭)। তবে জিনে মেরে ফেলেছে বলে প্রচার করে তড়িঘড়ি মরদেহ দাফনের চেষ্টা করা হয়।

জানতে পেরে মারুফের মা মারুফা বেগম মরদেহ দাফনে বাধা প্রদান করেন। অভিযোগ দেন পুলিশে। পুলিশ এসে শিশু মারুফের লাশ উদ্ধার করে রামেক মর্গে পাঠায়।

গত ৩০ এপ্রিল সকালের ঘটনা। জেলার বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামে ঘটে এ নৃশংস ঘটনা। শিশু মারুফকে হত্যার দায় স্বীকার করায় পুলিশ সৎমা মুক্তা বেগম (৩০) ও বাবা শাজাহানকে (৩৮) গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।

বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ জানান, গত ৩০ এপ্রিল সকালে সৎমা মুক্তা বেগম ও বাবা শাজাহান পরিকল্পিতভাবে শিশু মারুফকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে সৎমা ও বাবা জানান মারুফ খুব দুষ্টামি করত। এই ক্ষোভ থেকেই সৎমা ও বাবা মিলে তাকে হত্যা করি।

তবে তারা পাড়াপ্রতিবেশীকে জানায়, জিনে হত্যা করেছে মারুফকে। এই বলে তড়িঘড়ি করে মারুফের মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাফন পরিয়ে কবরস্থ করার সময় মারুফের নিজের মা মারুফা বেগম ছুটে এসে লাশ দাফনে বাধা দেন। ডাকেন পুলিশ। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৎমা ও বাবাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মারুফকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার আগে ৩০ এপ্রিল রাতে মারুফের মা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন স্বামী শাজাহান ও শাজাহানের বর্তমান স্ত্রী মুক্তা বেগমকে আসামি করে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, দিনমজুর শাজাহানের তিনটি বিয়ে। প্রথম স্ত্রী মারা গেলে মারুফের মা মারুফা বেগমকে বিয়ে করেন। তবে মারুফের জন্মের তিন বছর পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে যায়। শাজাহান তৃতীয়বার বিয়ে করেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের মুক্তা বেগমকে। মুক্তাকে বিয়ের পর মারুফকে তার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে আসেন শাজাহান।

মারুফ বাবা ও সৎমায়ের কাছেই থাকত। মারুফ দুষ্টুমি করত। এতে ক্ষোভ জন্মে সৎমায়ের। স্বামীর সঙ্গে যুক্তি করে মারুফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুক্তা বেগম। ৩০ এপ্রিল স্বামী-স্ত্রী মিলে শিশু মারুফকে হত্যা করেন বালিশচাপা দিয়ে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সৈয়বুর রহমান জানান, ঘটনার দিনই সৎমা মুক্তা ও বাবা শাজাহানকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা মারুফকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

শনিবার হত্যা মামলা রেকর্ডের পর সৎমা ও বাবাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মারুফের মা সন্তানের মরদেহ গ্রহণ করে নিজের গ্রামে দাফন করেন।