ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৭ বছ‌রের গুম-খুন-কান্না, রিমান্ড অত‌্যাচার সহ্য ক‌রে‌ছি: পার্থ একটি দল টাকা দিয়ে ভোট কিনছে : সেলিমা রহমান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই: আবু সাঈদের বাবা ‘ঘুম থেকে উঠে মানুষ আল্লাহর নাম নেয়, একজন আছে জেগেই আমার নাম নেন’:মির্জা আব্বাস সরকারি কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না: ইসি সানাউল্লাহ গরিবের টিন-কম্বল কেউ আত্মসাৎ করতে পারবে না : মুফতি ফয়জুল করিম রাজধানীতে আবাসিক ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে চারটি ইউনিট কিশোরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন আমরা অনেক অপরচুনিটি মিস করেছি: নাহিদ হেলমেট না থাকায় ‘সেনাসদস্যের মারধরে’ যুবকের মৃত্যু

খালেদাকে মুক্ত করতে ‘ব্যর্থতায়’ ক্ষমা চাইলেন আব্বাস

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো ব্যবস্থা করতে না পারার ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমরা এতই দুর্ভাগা, এতই ব্যর্থ যে আপনাদেরকে মুক্ত করার কোনো ব্যবস্থা করতে পারিনি।’

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাবন্দির তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তবে খালেদা জিয়াকে পুরোপুরি মুক্ত এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘তাই বলে সারাজীবন খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকবেন, এটা সত্যি নয়। আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করেছে আমাদের বন্ধন ধীরে ধীরে বাড়বে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইনশাআল্লাহ দেশে ফিরে আসবেন।’

একটি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। ওইদিনই তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তার আইনজীবীরা বারবার জামিন আবেদন করলেও তা আদালতে নাকচ হয়ে যায়। দলের পক্ষ থেকেও পালিত হয় নানা কর্মসূচি। শেষ পর্যন্ত গত বছর মার্চে দেশে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবার আবেদন করা হলে সরকার তার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে। খালেদা জিয়া বর্তমানে গুলশানের বাসাতেই রয়েছেন। তবে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন না।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজকের এই দিনে অন্যায়ভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়েছিল।’তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি করা হয়েছে। তাকে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করার মামলা দেয়া হয়েছে। আত্মসাতের ঘটনা প্রমাণ করতে পারেনি। দুই কোটি টাকার জন্য খালেদা জিয়ার যদি সাজা হয়, দুই কোটি টাকা তো আট কোটি টাকা হয়ে গেছে, তার জন্য খালেদা জিয়ার পুরস্কার কী হবে জানতে চাই।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন কারাবন্দি ছিলেন তখন আমরাও কারাবন্দি ছিলাম। তখন আমরা অনেকেই জেলে ছিলাম। ওই সময় তারেক রহমানও জেলে ছিলেন। সুস্থ তারেক রহমানকে জেলে নিয়ে যাওয়া হলো, অসুস্থ তারেক রহমান ফেরত এলেন।’

কারাবন্দি থাকা অবস্থার কথা স্মরণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ওই সময় আমার সঙ্গে কারাগারে একরুমে ছিলেন আমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বন্দি অবস্থায় আমাদের সঙ্গে আরও ছিলেন ওবায়দুল কাদের, শেখ সেলিমের মতো আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতা। সবাই বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ছিলেন। ওবায়দুল কাদের এখন লম্বা লম্বা কথা বলেন।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এখন দেখা যাচ্ছে সেই মামলাগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের যারা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও নেই। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ সবার মামলা চলমান। এত বড় অন্যায় অপরাধ করে যাচ্ছে খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘জিয়াউর রহমান অনেক সাহসিকতার সঙ্গে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, দেশ স্বাধীন করেছি এই কথা শোনার জন্য নয়, বাংলাদেশ মাফিয়া দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি মাফিয়া রাষ্ট্র। এই কথা আমরা আর কখনো শুনতে চাই না।’

এসময় তিনি সম্প্রতি আল জাজিরা টেলিভিশনে বাংলাদেশ নিয়ে যে তথ্যচিত্র প্রচারিত হয়েছে তা মিথ্যা প্রমাণ করতে সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। সরকারের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকারকে বলতে চাই, আপনারা প্রমাণ করুন আল জাজিরায় যা কিছু আছে সব মিথ্যা। আমরা আপনাদের সমর্থন দেব।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদাকে মুক্ত করতে ‘ব্যর্থতায়’ ক্ষমা চাইলেন আব্বাস

আপডেট সময় ০৮:৩০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো ব্যবস্থা করতে না পারার ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমরা এতই দুর্ভাগা, এতই ব্যর্থ যে আপনাদেরকে মুক্ত করার কোনো ব্যবস্থা করতে পারিনি।’

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাবন্দির তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তবে খালেদা জিয়াকে পুরোপুরি মুক্ত এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘তাই বলে সারাজীবন খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকবেন, এটা সত্যি নয়। আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করেছে আমাদের বন্ধন ধীরে ধীরে বাড়বে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইনশাআল্লাহ দেশে ফিরে আসবেন।’

একটি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। ওইদিনই তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তার আইনজীবীরা বারবার জামিন আবেদন করলেও তা আদালতে নাকচ হয়ে যায়। দলের পক্ষ থেকেও পালিত হয় নানা কর্মসূচি। শেষ পর্যন্ত গত বছর মার্চে দেশে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবার আবেদন করা হলে সরকার তার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে। খালেদা জিয়া বর্তমানে গুলশানের বাসাতেই রয়েছেন। তবে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন না।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজকের এই দিনে অন্যায়ভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়েছিল।’তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি করা হয়েছে। তাকে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করার মামলা দেয়া হয়েছে। আত্মসাতের ঘটনা প্রমাণ করতে পারেনি। দুই কোটি টাকার জন্য খালেদা জিয়ার যদি সাজা হয়, দুই কোটি টাকা তো আট কোটি টাকা হয়ে গেছে, তার জন্য খালেদা জিয়ার পুরস্কার কী হবে জানতে চাই।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন কারাবন্দি ছিলেন তখন আমরাও কারাবন্দি ছিলাম। তখন আমরা অনেকেই জেলে ছিলাম। ওই সময় তারেক রহমানও জেলে ছিলেন। সুস্থ তারেক রহমানকে জেলে নিয়ে যাওয়া হলো, অসুস্থ তারেক রহমান ফেরত এলেন।’

কারাবন্দি থাকা অবস্থার কথা স্মরণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ওই সময় আমার সঙ্গে কারাগারে একরুমে ছিলেন আমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বন্দি অবস্থায় আমাদের সঙ্গে আরও ছিলেন ওবায়দুল কাদের, শেখ সেলিমের মতো আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতা। সবাই বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ছিলেন। ওবায়দুল কাদের এখন লম্বা লম্বা কথা বলেন।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এখন দেখা যাচ্ছে সেই মামলাগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের যারা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও নেই। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ সবার মামলা চলমান। এত বড় অন্যায় অপরাধ করে যাচ্ছে খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘জিয়াউর রহমান অনেক সাহসিকতার সঙ্গে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, দেশ স্বাধীন করেছি এই কথা শোনার জন্য নয়, বাংলাদেশ মাফিয়া দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি মাফিয়া রাষ্ট্র। এই কথা আমরা আর কখনো শুনতে চাই না।’

এসময় তিনি সম্প্রতি আল জাজিরা টেলিভিশনে বাংলাদেশ নিয়ে যে তথ্যচিত্র প্রচারিত হয়েছে তা মিথ্যা প্রমাণ করতে সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। সরকারের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকারকে বলতে চাই, আপনারা প্রমাণ করুন আল জাজিরায় যা কিছু আছে সব মিথ্যা। আমরা আপনাদের সমর্থন দেব।’