আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার, সিলিন্ডার রিফিলিং ও হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবহার খরচসহ দশটি জরুরি পরীক্ষার মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নিদের্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জনস্বার্থে করা একটি রিট মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অগ্রগতি প্রতিবেদন দেখে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ রবিবার এ আদেশ দেয়।
দশটি জরুরি পরীক্ষার মূল্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন করে নির্ধারণ করেছে বলে জানানো হয়েছে হাই কোর্টকে।
পরে আদালত সরকারি-বেসরকারি যেসব হাসাপতাল করোনাভাইরাসের চিকিৎসা দিচ্ছে, সেসব হাসপাতালের সামনে উন্মুক্ত স্থানে নতুন এ মূল্য তালিকা প্রদর্শনে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দেন।
আদেশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
তবে, অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) মো. ফরিদ হোসেন মিঞা অবশ্য বলছেন, তালিকা এখনো মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায়নি। অনুমোদন ছাড়া এ তালিকা এখনই প্রদর্শন করা যাবে না।
আদালতে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কালীপদ মৃধা। আর এ প্রতিবেদনের উপর শুনানি করেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী বশির আহমেদ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) মো. ফরিদ হোসেন মিঞা বলেন, “সপ্তাহ দুয়েক আগে নতুন মূল্য তালিকাটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে সে মূল্য তালিকার অনুমোদন এখনও আমরা পাইনি।”
তাহলে সেটি প্রদর্শন করা যাবে কিনা জানতে চাইলে অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা বলেন, “অনুমোদনের আগে এ মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা যাবে না।”
হাই কোর্টে জমা পড়া প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর এক সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অক্সিজেনের মূল্য নির্ধারণ ও কোভিড-১৯ সম্পর্কিত কিছু পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করে।
সে সভায় বাংলাদেশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং কিছু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পারিচালকরাও উপস্থিত ছিলেন।
যে দশটি পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে সেগুলোর তালিকা দেওয়া হয়েছে হাই কোর্টে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে।
সেখানে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ আক্রান্তদের দশটি সাধারণ পরীক্ষা বার বার করার প্রয়োজন হয়। এর পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের সাধারণ কিছু পরীক্ষার সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণের জন্য হাসপাতালগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি খসড়া মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই মূল্যই সর্বোচ্চ মূল্য বলে বিবেচিত হবে। যারা আগে এর চেয়ে কম খরচ নিতেন, তাদের জন্য আগের কম মূল্যই প্রযোজ্য হবে।
অক্সিজেন সিলিন্ডারের মূল্য :
অক্সিজেন সিলিন্ডার, রিফিলিং ও ব্যবহার মূল্যে নির্ধারণ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত দুটি পরিমাণের অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
বাজারে ১ হাজার ৩৬০ লিটার বা ১ দশমিক ৩৬ কিউবিক মিটারের সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৪০০ টাকা। আর ৬ হাজার ৮০০ লিটার বা ৬ দশমিক ৮ কিউবিক মিটারের সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।
রিফিলিংয়ের মূল্য :
কর ও শুল্কসহ প্রতি কিউবিক মিটার অক্সিজেনের রিফিলিং মূল্য ৬৫ টাকা নির্ধারণের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে অদিদপ্তরের পক্ষ থেকে। তবে সিলিণ্ডার পরিবহন ব্যয় এর বাইরে ধরা হবে।
হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবহার মূল্য :
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একক অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মেনিফোল্ড অক্সিজেন সিলিন্ডার সিস্টেমে ২ থেকে ৫ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য ১০০ টাকা; ৬ থেকে ৯ লিটারের জন্য ১২৫ টাকা; এবং ১০ থেকে ১৫ লিটারের জন্য ১৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।
জেনারেটর ভিত্তিক সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে একজন রোগীর ২ থেকে ৫ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য ১২০ টাকা; ৬ থেকে ৯ লিটারের জন্য ৩০০ টাকা এবং ১০ থেকে ১৫ লিটারের জন্য ৩৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণের অনুমোদন চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
লিক্যুইড অক্সিজেন ট্যাংক ব্যবহার করে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে একজন রোগীর ২ থেকে ৫ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য ১২০টাকা; ৬ থেকে ৯ লিটার ব্যবহারের জন্য ২৫০ টাকা; এবং ১০ থেকে ১৫ লিটার ব্যবহারের জন্য ৩০০ টাকা মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
আর সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে হাইফ্লো নাজাল ক্যানুলা দিয়ে ৬০ থেকে ৮০ লিটার অক্সিজেন ব্যবহার করলে তার মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করার অনুমোদন চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবায় অব্যবস্থাপনা নিয়ে রোগীদের অভিযোগ তদারকির জন্য হেলথ রেগুলেটরি কমিশন গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।
স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালকসহ (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
এর মধ্যে আগের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সকল জেলা সদর হাসপাতালে আইসইউ-সিসিইউ স্থাপন ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি (ইউজার ফি) নির্ধারণ সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে প্রতিবেদন দেখেই রোববার আদেশ দিল হাই কোর্ট।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























