ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

রোহিঙ্গা সঙ্কট জাতিসংঘে তুলবো: শেখ হাসিনা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার গর্জনদিয়া, সারাপাড়া, বড়ডিল ও খোনাকারাপাড়া গ্রামগুলো সোমবার দুপুর থেকে জ্বলতে দেখা গেছে । রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আবার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এই সঙ্কটের বিষয়টি জাতিসংঘের আসছে সাধারণ অধিবেশনে তুলবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন রাখা সম্ভব নয়, ফেরত নিতে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দেওয়ার উপর সংসদে গৃহীত প্রস্তাবের উপর আলোচনায় একথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি জাতিসংঘ অধিবেশনে যাচ্ছি। সেখানে সাধারণ অধিবেশনের বক্তব্যে মিয়ানমারের বিষয়টি তুলে ধরব।”

মুসলিম দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্বব্যাপী যেন মুসলমানদের উপর আক্রমণ করার একটা মানসিকতা দেখতে পাচ্ছি। মুসলমানরা সব রিফিউজি হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে সেখানে। আইলানের লাশ দেখেছি সাগর পাড়ে, নাফ নদীতে দেখি শিশুদের লাশ। কেন?

“সমস্ত মুসলিম উন্মাহ যদি এটা পারত, তাহলে মুসলমানদের উপর এই অত্যাচারটা কেউ করতে পারত না।” রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ অধিবেশনে আলোচনা প্রত্যাশা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসাও করছে।

সংসদে শেখ হাসিনা বলেন, “এ সমস্যা মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে, তাদেরকেই সমাধান করতে হবে।” সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের কোনো সহযোগিতার দরকার হলে প্রতিবেশী দেশ ‍হিসেবে বাংলাদেশ তা করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

আগের এবং এবার আসা সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। মুসলিম রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবসনের ব্যবস্থা করা এবং তাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারে ‘সেইফ জোন’ প্রতিষ্ঠা করতে বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এক্ষেত্রে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের উপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন “আমরা রোহিঙ্গাদের যে আশ্রয় দিয়েছি; এটা সাময়িক ব্যবস্থা। মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নিতে হবে।”

মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের শত বছরের ইতিহাস তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “রোহিঙ্গারা তাদেরই নাগরিক। ধাপে ধাপে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে। এখন তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করছে।” মানবিক কারণে তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “ছোট ছোট শিশু-নারী….আমরা তো অমানুষ হতে পারি না, অমানবিক হতে পারি না।”

সংসদে সাধারণ আলোচনায় অনেকেই অং সান সু চির সমালোচনা করেন, নোবেলবিজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী এখন রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সারাবিশ্বেই সমালোচনার মুখে রয়েছেন। তিনি বলেন, “তিনি যে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন.. ওখানে সংসদেও কিন্তু মিলিটারি প্রতিনিধি বেশি। পলিসি মেকিংয়ে তারা যেটা বলবে সেটাই।”

সু চির পক্ষে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “এখানে অনেকে অং সান সু চির কথা বলেছেন। মিয়ানমারে দীর্ঘদিন সামরিক জান্তা ক্ষমতায় ছিল। মিয়ানমারে এখন কেবল গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু। সেখানে আইন করে সু চিকে কিন্তু রাষ্ট্রপতি বা সরকার প্রধান হতে দেয়নি। তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনকে অমানবিক বললেও এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটানোর জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দুই সপ্তাহ আগে রাখাইনে সেনা ও পুলিশ চৌকিকে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির হামলার পর শুরু হয় সেনা অভিযান। এই দলটিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে মিয়ানমার সরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, “তারা (রোহিঙ্গা বিদ্রোহী) ১০ জন পুলিশ আর পাঁচ জন আর্মি মেরে কী অর্জন করল? এতে করে তাদের মা-বোনরাই তো অত্যাচারিত হচ্ছে। অত্যাচারের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে; কী অর্জন করতে পেরেছে তারা?” এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান তিনি।

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালাতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানালেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ার কথাও সংসদে জানান শেখ হাসিনা।

শরণার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশের কেউ যেন রাজনৈতিক বা আর্থিক ফায়দা লুটতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “সাহায্য নেই সহযোগিতা নেই- এক একখানা বড় বড় স্টেটমেন্ট দেবে, সেটা আমরা চাই না। ১৬ কোটি মানুষকে আমরা খাবার দিই। তার সাথে এরকম আরো দুই, চার, পাঁচ লাখ লোককে খাবার দেওয়ার মতো শক্তি বাংলাদেশের রয়েছে।”

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

রোহিঙ্গা সঙ্কট জাতিসংঘে তুলবো: শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ০৯:৩০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার গর্জনদিয়া, সারাপাড়া, বড়ডিল ও খোনাকারাপাড়া গ্রামগুলো সোমবার দুপুর থেকে জ্বলতে দেখা গেছে । রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আবার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এই সঙ্কটের বিষয়টি জাতিসংঘের আসছে সাধারণ অধিবেশনে তুলবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন রাখা সম্ভব নয়, ফেরত নিতে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দেওয়ার উপর সংসদে গৃহীত প্রস্তাবের উপর আলোচনায় একথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি জাতিসংঘ অধিবেশনে যাচ্ছি। সেখানে সাধারণ অধিবেশনের বক্তব্যে মিয়ানমারের বিষয়টি তুলে ধরব।”

মুসলিম দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্বব্যাপী যেন মুসলমানদের উপর আক্রমণ করার একটা মানসিকতা দেখতে পাচ্ছি। মুসলমানরা সব রিফিউজি হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে সেখানে। আইলানের লাশ দেখেছি সাগর পাড়ে, নাফ নদীতে দেখি শিশুদের লাশ। কেন?

“সমস্ত মুসলিম উন্মাহ যদি এটা পারত, তাহলে মুসলমানদের উপর এই অত্যাচারটা কেউ করতে পারত না।” রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ অধিবেশনে আলোচনা প্রত্যাশা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসাও করছে।

সংসদে শেখ হাসিনা বলেন, “এ সমস্যা মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে, তাদেরকেই সমাধান করতে হবে।” সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের কোনো সহযোগিতার দরকার হলে প্রতিবেশী দেশ ‍হিসেবে বাংলাদেশ তা করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

আগের এবং এবার আসা সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। মুসলিম রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবসনের ব্যবস্থা করা এবং তাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারে ‘সেইফ জোন’ প্রতিষ্ঠা করতে বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এক্ষেত্রে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের উপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন “আমরা রোহিঙ্গাদের যে আশ্রয় দিয়েছি; এটা সাময়িক ব্যবস্থা। মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নিতে হবে।”

মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের শত বছরের ইতিহাস তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “রোহিঙ্গারা তাদেরই নাগরিক। ধাপে ধাপে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে। এখন তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করছে।” মানবিক কারণে তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “ছোট ছোট শিশু-নারী….আমরা তো অমানুষ হতে পারি না, অমানবিক হতে পারি না।”

সংসদে সাধারণ আলোচনায় অনেকেই অং সান সু চির সমালোচনা করেন, নোবেলবিজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী এখন রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সারাবিশ্বেই সমালোচনার মুখে রয়েছেন। তিনি বলেন, “তিনি যে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন.. ওখানে সংসদেও কিন্তু মিলিটারি প্রতিনিধি বেশি। পলিসি মেকিংয়ে তারা যেটা বলবে সেটাই।”

সু চির পক্ষে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “এখানে অনেকে অং সান সু চির কথা বলেছেন। মিয়ানমারে দীর্ঘদিন সামরিক জান্তা ক্ষমতায় ছিল। মিয়ানমারে এখন কেবল গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু। সেখানে আইন করে সু চিকে কিন্তু রাষ্ট্রপতি বা সরকার প্রধান হতে দেয়নি। তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনকে অমানবিক বললেও এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটানোর জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দুই সপ্তাহ আগে রাখাইনে সেনা ও পুলিশ চৌকিকে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির হামলার পর শুরু হয় সেনা অভিযান। এই দলটিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে মিয়ানমার সরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, “তারা (রোহিঙ্গা বিদ্রোহী) ১০ জন পুলিশ আর পাঁচ জন আর্মি মেরে কী অর্জন করল? এতে করে তাদের মা-বোনরাই তো অত্যাচারিত হচ্ছে। অত্যাচারের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে; কী অর্জন করতে পেরেছে তারা?” এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান তিনি।

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালাতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানালেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ার কথাও সংসদে জানান শেখ হাসিনা।

শরণার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশের কেউ যেন রাজনৈতিক বা আর্থিক ফায়দা লুটতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “সাহায্য নেই সহযোগিতা নেই- এক একখানা বড় বড় স্টেটমেন্ট দেবে, সেটা আমরা চাই না। ১৬ কোটি মানুষকে আমরা খাবার দিই। তার সাথে এরকম আরো দুই, চার, পাঁচ লাখ লোককে খাবার দেওয়ার মতো শক্তি বাংলাদেশের রয়েছে।”