ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

লিবিয়ায় অপহরণ, দেশে মুক্তিপণ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে অপহরণ করছেন সেখানে অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি যুবক। এরপর তাঁদের নির্যাতনের ভিডিও দেশে থাকা স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে তাঁদের কাছ থেকে আদায় করছেন মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। এমনই একটি চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো অফিস। গতকাল রোববার তাদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. কামাল উদ্দিন (৪৫), নাজনীন বেগম (৩৫), আবু কাশেম (৩৫), বেবী আক্তার (৩৫), মামুন মিয়া (৪২) ও মো. নূরুল হক (৪৫)। এর মধ্যে কামাল, কাশেম এবং মামুন বিকাশের এজেন্ট। ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের ভৈরবপুর ও নরসিংদীর রায়পুরার মাহমুদাবাদ পাগলাবাজার এবং জংলি শিবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নওগাঁর রায়নগরের ভুক্তভোগী তছলিম প্রামাণিক সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর ছেলে আইয়ুব আলী ২০১২ সালে বৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়ে একটি পেট্রলপাম্পে কাজ শুরু করেন। গত ২১ জুলাই তাঁর ছেলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাঁকে অপহরণ করে অজ্ঞানামা স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে জানান। অপহরণকারীরা মোবাইল অ্যাপস ইমোতে তাঁর ছেলেকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র পাঠিয়ে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। এরপর তিনি অপহরণকারীদের দেওয়া বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু তারপরও অপহরণকারীরা তাঁর ছেলেকে না ছেড়ে নির্যাতনের আরও ভিডিও পাঠিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করছেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার আর কোনো সামর্থ্য তাঁর নেই। একই রকম ঘটনার বর্ণনা দেন নওগাঁর পত্নীতলার মো. রাব্বানী। তাঁর ভাই মো. রুবেলও এই অপহরণকারীদের কাছে রয়েছেন। এরই মধ্যে তিনিও বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কমপক্ষে ১২০ জন বাঙালিকে অপহরণ করে লিবিয়ার বিভিন্ন জায়গায় রাখা হয়েছে। ২০-২৫ জনের বাঙালি একটি দল এ কাজ করছে। অপহৃতদের উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে লিবিয়ায় যথাযথ নিয়ম অবলম্বন করে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে লিবিয়ার স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত দেশে থেকে মুক্তিপণের টাকা গ্রহণ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লিবিয়ায় অপহরণ, দেশে মুক্তিপণ

আপডেট সময় ০৫:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে অপহরণ করছেন সেখানে অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি যুবক। এরপর তাঁদের নির্যাতনের ভিডিও দেশে থাকা স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে তাঁদের কাছ থেকে আদায় করছেন মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। এমনই একটি চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো অফিস। গতকাল রোববার তাদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. কামাল উদ্দিন (৪৫), নাজনীন বেগম (৩৫), আবু কাশেম (৩৫), বেবী আক্তার (৩৫), মামুন মিয়া (৪২) ও মো. নূরুল হক (৪৫)। এর মধ্যে কামাল, কাশেম এবং মামুন বিকাশের এজেন্ট। ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের ভৈরবপুর ও নরসিংদীর রায়পুরার মাহমুদাবাদ পাগলাবাজার এবং জংলি শিবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নওগাঁর রায়নগরের ভুক্তভোগী তছলিম প্রামাণিক সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর ছেলে আইয়ুব আলী ২০১২ সালে বৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়ে একটি পেট্রলপাম্পে কাজ শুরু করেন। গত ২১ জুলাই তাঁর ছেলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাঁকে অপহরণ করে অজ্ঞানামা স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে জানান। অপহরণকারীরা মোবাইল অ্যাপস ইমোতে তাঁর ছেলেকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র পাঠিয়ে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। এরপর তিনি অপহরণকারীদের দেওয়া বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু তারপরও অপহরণকারীরা তাঁর ছেলেকে না ছেড়ে নির্যাতনের আরও ভিডিও পাঠিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করছেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার আর কোনো সামর্থ্য তাঁর নেই। একই রকম ঘটনার বর্ণনা দেন নওগাঁর পত্নীতলার মো. রাব্বানী। তাঁর ভাই মো. রুবেলও এই অপহরণকারীদের কাছে রয়েছেন। এরই মধ্যে তিনিও বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কমপক্ষে ১২০ জন বাঙালিকে অপহরণ করে লিবিয়ার বিভিন্ন জায়গায় রাখা হয়েছে। ২০-২৫ জনের বাঙালি একটি দল এ কাজ করছে। অপহৃতদের উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে লিবিয়ায় যথাযথ নিয়ম অবলম্বন করে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে লিবিয়ার স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত দেশে থেকে মুক্তিপণের টাকা গ্রহণ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করা হয়েছে।