ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলব: জামায়াত আমির হাসিনা যুগের সমাপ্তি? জয় বললেন ‘সম্ভবত তাই’ ‘দুলাভাই’ ‘দুলাভাই’ ধ্বনিতে মুখরিত সিলেটের আলিয়া মাঠ

আমাদের ‘ওভার কনফিডেন্টে’ বাড়ছে সংক্রমণ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় দেশে সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার পেছনে সর্বসাধারণের বেপরোয়া মনোভাবকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আমাদের ওভার কনফিডেন্টের কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রবিবার বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা এবং ভ্যাকসিক’ বিষয়ক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার প্রথম দিকে এর প্রতিকার সম্পর্কে কেউ জানতো না, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চিকিৎসা পদ্ধতি অনেকবার পরিবর্তন করেছে। তখন বলা হলো ভেন্টিলেটর অনেক লাগবে, সেভাবে লাগেনি। সেন্ট্রাল অক্সিজেন, হাই ফ্লো ক্যানোলা প্রয়োজন ছিল, ল্যাবের প্রয়োজন ছিল। ল্যাব একটি থেকে ১১৮টি ল্যাব হয়েছে, এখন ১৭ হাজার পর্যন্ত টেস্ট হচ্ছে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আজকে ইউরোপ আমেরিকা দেখেন, পাশের দেশ ভারতে দেখেন। উন্নত দেশে প্রতি ১০ লাখে হাজারের মতো মারা গেছে। আমাদের এখানে ৪৫-৪৮ এর মতো। আমাদের অর্থনীতি গ্রোথ রেট ধরে রেখেছে, অনেক দেশ মাইনাসে চলে গেছে। একটি মানুষও না খেয়ে মরেনি। কোনো উন্নয়ন থেমে নেই। শুধু শিক্ষা পুরোপুরি করতে পারিনি, এখন অনলাইনে নেয়া হচ্ছে।’

দ্বিতীয় ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘শীতকালে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বেড়ে যায় সে কারণে করোনা বেড়ে যেতে পারে। সরকারি-বেসরকারিভাবে মিলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে পারবো। আগে বেড বেশি ছিল না, সেন্ট্রাল অক্সিজেন ছিল না, এখন হয়েছে, ওষুধের অভাব নেই, ডাক্তার নার্সরা এখন অনেক বেশি ট্রেন্ড।’

বেসরকারি হাসপাতালে ১০ হাজার বেডের মধ্যে কোভিড রোগীর জন্য ১২শ রয়েছে। ২০ শতাংশে উন্নীত করা ও আইসিইউ বাড়ানোর আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, ‘করোনায় সরকারের পদক্ষেপ যথাযথ ছিল। সে কারণে মৃত্যুহার অন্য দেশের তুলনায় কম। তবে কোনো মৃত্যুই কাম্য হতে পারে না। মনে রাখতে হবে দেশ বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচবো। আমি আশা করি বেসরকারি হাসপাতাল তাদের সহযোগিতার হাত অব্যাহত থাকবে।’

ভ্যাকসিন দেশে এলে সেটা কীভাবে বিতরণ হবে সেটা নিয়ে একটি বড় পরিকল্পনা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘পৃথিবীতে যদি ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় তাহলে নিশ্চয়ই বাকিরাও পাবে। তবে সেটা হয়তো একসঙ্গে হবে না, ধাপে ধাপে পাবে। সে সময়টুকু সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ, একসঙ্গে সবাইকে ভ্যাকসিন দেয়ার মতো সক্ষমতা শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীতে কোথাও নাই। কাজেই যাদের আগে দেয়া দরকার তাদেরই আগে দেয়া হবে।’

বিপিএমসিএ সভাপতি এমএ মুবিন খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী, ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান গাজী মিজানুর রহমান, নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন, রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান, নর্থবেঙ্গল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান এমএ মুকিত প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বামীকে খুন করে রাতভর মোবাইলে অশ্লীল ভিডিও দেখেন তরুণী

আমাদের ‘ওভার কনফিডেন্টে’ বাড়ছে সংক্রমণ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় দেশে সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার পেছনে সর্বসাধারণের বেপরোয়া মনোভাবকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আমাদের ওভার কনফিডেন্টের কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রবিবার বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা এবং ভ্যাকসিক’ বিষয়ক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার প্রথম দিকে এর প্রতিকার সম্পর্কে কেউ জানতো না, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চিকিৎসা পদ্ধতি অনেকবার পরিবর্তন করেছে। তখন বলা হলো ভেন্টিলেটর অনেক লাগবে, সেভাবে লাগেনি। সেন্ট্রাল অক্সিজেন, হাই ফ্লো ক্যানোলা প্রয়োজন ছিল, ল্যাবের প্রয়োজন ছিল। ল্যাব একটি থেকে ১১৮টি ল্যাব হয়েছে, এখন ১৭ হাজার পর্যন্ত টেস্ট হচ্ছে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আজকে ইউরোপ আমেরিকা দেখেন, পাশের দেশ ভারতে দেখেন। উন্নত দেশে প্রতি ১০ লাখে হাজারের মতো মারা গেছে। আমাদের এখানে ৪৫-৪৮ এর মতো। আমাদের অর্থনীতি গ্রোথ রেট ধরে রেখেছে, অনেক দেশ মাইনাসে চলে গেছে। একটি মানুষও না খেয়ে মরেনি। কোনো উন্নয়ন থেমে নেই। শুধু শিক্ষা পুরোপুরি করতে পারিনি, এখন অনলাইনে নেয়া হচ্ছে।’

দ্বিতীয় ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘শীতকালে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বেড়ে যায় সে কারণে করোনা বেড়ে যেতে পারে। সরকারি-বেসরকারিভাবে মিলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে পারবো। আগে বেড বেশি ছিল না, সেন্ট্রাল অক্সিজেন ছিল না, এখন হয়েছে, ওষুধের অভাব নেই, ডাক্তার নার্সরা এখন অনেক বেশি ট্রেন্ড।’

বেসরকারি হাসপাতালে ১০ হাজার বেডের মধ্যে কোভিড রোগীর জন্য ১২শ রয়েছে। ২০ শতাংশে উন্নীত করা ও আইসিইউ বাড়ানোর আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, ‘করোনায় সরকারের পদক্ষেপ যথাযথ ছিল। সে কারণে মৃত্যুহার অন্য দেশের তুলনায় কম। তবে কোনো মৃত্যুই কাম্য হতে পারে না। মনে রাখতে হবে দেশ বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচবো। আমি আশা করি বেসরকারি হাসপাতাল তাদের সহযোগিতার হাত অব্যাহত থাকবে।’

ভ্যাকসিন দেশে এলে সেটা কীভাবে বিতরণ হবে সেটা নিয়ে একটি বড় পরিকল্পনা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘পৃথিবীতে যদি ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় তাহলে নিশ্চয়ই বাকিরাও পাবে। তবে সেটা হয়তো একসঙ্গে হবে না, ধাপে ধাপে পাবে। সে সময়টুকু সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ, একসঙ্গে সবাইকে ভ্যাকসিন দেয়ার মতো সক্ষমতা শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীতে কোথাও নাই। কাজেই যাদের আগে দেয়া দরকার তাদেরই আগে দেয়া হবে।’

বিপিএমসিএ সভাপতি এমএ মুবিন খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী, ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান গাজী মিজানুর রহমান, নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন, রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান, নর্থবেঙ্গল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান এমএ মুকিত প্রমুখ।