ঢাকা ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

ভাষা সৈনিক মুসা মিয়া আর নেই

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঝিনাইদহের রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও ভাষা সৈনিক মো. জাহিদ হোসেন মুসা মিয়া মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাদ এশা ধানমন্ডির ঈদগাহ মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা বুধবার (১৮ নভেম্বর) ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হওয়া কথা রয়েছে। জানাজা শেষে এ ভাষা সৈনিককে মহিষাকুণ্ডু গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে ভাষা সৈনিক মুসা মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তিনি মারা গেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ছয় ছেলে, এক মেয়ে এবং নাতি-নাতনি রেখে গেছেন। তার জ্যেষ্ঠপুত্র মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী রেডিয়েন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান।

এদিকে মো. জাহিদ হোসেন মুসা মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

২০০৯ সালে ভাষা সৈনিক জাহিদ হোসেন মুসা মিয়ার সভাপতিত্বে গড়ে তোলা হয় ‘জাহেদী ফাউন্ডেশন’ নামে এক সমাজসেবামূলক সংস্থা। বাংলাদেশে নারী শিশু ও দুস্থদের জন্য খাদ্য কর্মসূচি, শিক্ষাখাতে বৃত্তিমূলক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড, স্বাস্থ্যখাতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও ক্রীড়া উন্নয়নে এই সংস্থাটি সমাজে ভূমিকা পালন করে আসছে। তার পৃষ্ঠপোষকতায় যশোর কালেক্টরেট স্কুলে গড়ে উঠে ‘জাহানারা হুদা একাডেমিক ভবন’। এছাড়াও নিজ গ্রাম নারিকেলবাড়িয়ায় আমেনা খাতুন কলেজে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুসা মিয়া একাডেমিক ভবন’। ঝিনাইদহ শহরে তার নামে গড়ে তোলা হয় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের স্কুল ‘মুসা মিয়া বুদ্ধি বিকাশ বিদ্যালয়’। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত করা হয় ‘মুসা মিয়া ডায়াবেটিস সেন্টার’।

দেশ স্বাধীনের আগ থেকেই তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মে জড়িয়ে পড়েন। ঝিনাইদহ ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার এবং তার পরিবারের শিক্ষা বিস্তারে রয়েছে অসামান্য অবদান। মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবায় জাহেদী ফাউন্ডেশনের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বণার্ঢ্য জীবনে নানা সামাজিক অবদান ও ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন স্বরূপ তার নামে ঝিনাইদহ পৌরসভার একটি সড়কের নামকরণ করা হয়।

মো. জাহিদ হোসেন মুসা মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা শহরে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জাহিদ হোসেন মুসা মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

ভাষা সৈনিক মুসা মিয়া আর নেই

আপডেট সময় ১১:০৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঝিনাইদহের রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও ভাষা সৈনিক মো. জাহিদ হোসেন মুসা মিয়া মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাদ এশা ধানমন্ডির ঈদগাহ মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা বুধবার (১৮ নভেম্বর) ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হওয়া কথা রয়েছে। জানাজা শেষে এ ভাষা সৈনিককে মহিষাকুণ্ডু গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে ভাষা সৈনিক মুসা মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তিনি মারা গেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ছয় ছেলে, এক মেয়ে এবং নাতি-নাতনি রেখে গেছেন। তার জ্যেষ্ঠপুত্র মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী রেডিয়েন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান।

এদিকে মো. জাহিদ হোসেন মুসা মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

২০০৯ সালে ভাষা সৈনিক জাহিদ হোসেন মুসা মিয়ার সভাপতিত্বে গড়ে তোলা হয় ‘জাহেদী ফাউন্ডেশন’ নামে এক সমাজসেবামূলক সংস্থা। বাংলাদেশে নারী শিশু ও দুস্থদের জন্য খাদ্য কর্মসূচি, শিক্ষাখাতে বৃত্তিমূলক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড, স্বাস্থ্যখাতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও ক্রীড়া উন্নয়নে এই সংস্থাটি সমাজে ভূমিকা পালন করে আসছে। তার পৃষ্ঠপোষকতায় যশোর কালেক্টরেট স্কুলে গড়ে উঠে ‘জাহানারা হুদা একাডেমিক ভবন’। এছাড়াও নিজ গ্রাম নারিকেলবাড়িয়ায় আমেনা খাতুন কলেজে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুসা মিয়া একাডেমিক ভবন’। ঝিনাইদহ শহরে তার নামে গড়ে তোলা হয় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের স্কুল ‘মুসা মিয়া বুদ্ধি বিকাশ বিদ্যালয়’। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত করা হয় ‘মুসা মিয়া ডায়াবেটিস সেন্টার’।

দেশ স্বাধীনের আগ থেকেই তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মে জড়িয়ে পড়েন। ঝিনাইদহ ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার এবং তার পরিবারের শিক্ষা বিস্তারে রয়েছে অসামান্য অবদান। মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবায় জাহেদী ফাউন্ডেশনের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বণার্ঢ্য জীবনে নানা সামাজিক অবদান ও ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন স্বরূপ তার নামে ঝিনাইদহ পৌরসভার একটি সড়কের নামকরণ করা হয়।

মো. জাহিদ হোসেন মুসা মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা শহরে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জাহিদ হোসেন মুসা মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।