ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

৩ নভেম্বর: রহস্যে ঘেরা খালেদ মোশাররফ!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৩ নভেম্বর অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। কারণ ৩ নভেম্বরের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে থাকে। এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের শাসন ক্ষমতায় এক কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়। সূচনা হয় সামরিক শাসনের। আর ৩ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ। কিন্তু তিনি ঠিক কি কারণে এমন সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ছিলেন- তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশায় দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলে খালেদ মোশাররফের কালক্ষেপণ হওয়ার ঘটনাকে কেউ কেউ কাপুরুষতা মনে করেন। আবার অভ্যুত্থানের দিন কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকেও খালেদ মোশাররফের অদূরদর্শিতা হিসেবে দেখেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

মুক্তিযুদ্ধের সাহসী এই সেক্টর কমান্ডার সম্পর্কে একজন বলেন, মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের সাহসিকতা নিয়ে কারও কোন প্রশ্ন নেই। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সেক্টর কমান্ডার। কিন্তু এমন একটি ক্যু করার পর কি হতে পারে, এই সম্পর্কে তার কোন পরিকল্পনা ছিল বলে জানা যায় না। তিনি কি উদ্দেশ্যে এই ক্যু করেছিলেন, আবার কেনই বা ক্ষমতা গ্রহণ করতে এতো সময় নিলেন, তা সত্যিই বিস্ময়ের। এই ক্যু এর মাধ্যমে তিনি কি সেনাবাহিনীর প্রধান হতে চেয়েছিলেন, নাকি ১৫ আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন- তা স্পষ্ট নয়। অনেকেই মনে করেন, খালেদ মোশাররফের অবিবেচনা প্রসূত ওই ক্যু তার উদ্দেশ্যেকেই ধোঁয়াশায় ফেলে দিয়েছে। ফলে অনেকেই অনেক রকম প্রশ্ন তুলেন। কেউ বলেন, খালেদ মোশাররফের এমন দোদুল্যমান আচরণ অনেকটা রহস্য ঘেরা।

বলা হয়ে থাকে, ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানটি দুর্বল হয়ে পড়ে সেনাপ্রধান জিয়াকে গৃহ বন্দী করে খালেদ মোশাররফের সেনাপ্রধান হওয়ার তাড়নায়। মোশতাককে রাষ্ট্রপতি রেখেই তিনি সেনাপ্রধান হওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেন। মোশতাক পাকা খেলোয়াড় হওয়াতে তিনি খালেদকে সেনাপ্রধান নিয়োগ করতে কালক্ষেপণ করেন। সেইসাথে ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের শুরুর সময়ই চার জাতীয় নেতাকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাঁদের নিয়ে খালেদ মোশাররফের কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা ছিল না- এমনটা খুব সহজেই বুঝা যায়। কিন্তু সেইদিন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ কেন এই ক্যু করেছিলেন, তার উদ্দেশ্যেই বা কি ছিল- ইত্যাদি সকল প্রশ্নই যেন এক রহস্যে ঘেরা!

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

আগামী ১৫ বছরে চাকরির বড় সংকটের পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের

৩ নভেম্বর: রহস্যে ঘেরা খালেদ মোশাররফ!

আপডেট সময় ১১:৪৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৩ নভেম্বর অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। কারণ ৩ নভেম্বরের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে থাকে। এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের শাসন ক্ষমতায় এক কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়। সূচনা হয় সামরিক শাসনের। আর ৩ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ। কিন্তু তিনি ঠিক কি কারণে এমন সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ছিলেন- তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশায় দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলে খালেদ মোশাররফের কালক্ষেপণ হওয়ার ঘটনাকে কেউ কেউ কাপুরুষতা মনে করেন। আবার অভ্যুত্থানের দিন কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকেও খালেদ মোশাররফের অদূরদর্শিতা হিসেবে দেখেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

মুক্তিযুদ্ধের সাহসী এই সেক্টর কমান্ডার সম্পর্কে একজন বলেন, মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের সাহসিকতা নিয়ে কারও কোন প্রশ্ন নেই। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সেক্টর কমান্ডার। কিন্তু এমন একটি ক্যু করার পর কি হতে পারে, এই সম্পর্কে তার কোন পরিকল্পনা ছিল বলে জানা যায় না। তিনি কি উদ্দেশ্যে এই ক্যু করেছিলেন, আবার কেনই বা ক্ষমতা গ্রহণ করতে এতো সময় নিলেন, তা সত্যিই বিস্ময়ের। এই ক্যু এর মাধ্যমে তিনি কি সেনাবাহিনীর প্রধান হতে চেয়েছিলেন, নাকি ১৫ আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন- তা স্পষ্ট নয়। অনেকেই মনে করেন, খালেদ মোশাররফের অবিবেচনা প্রসূত ওই ক্যু তার উদ্দেশ্যেকেই ধোঁয়াশায় ফেলে দিয়েছে। ফলে অনেকেই অনেক রকম প্রশ্ন তুলেন। কেউ বলেন, খালেদ মোশাররফের এমন দোদুল্যমান আচরণ অনেকটা রহস্য ঘেরা।

বলা হয়ে থাকে, ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানটি দুর্বল হয়ে পড়ে সেনাপ্রধান জিয়াকে গৃহ বন্দী করে খালেদ মোশাররফের সেনাপ্রধান হওয়ার তাড়নায়। মোশতাককে রাষ্ট্রপতি রেখেই তিনি সেনাপ্রধান হওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেন। মোশতাক পাকা খেলোয়াড় হওয়াতে তিনি খালেদকে সেনাপ্রধান নিয়োগ করতে কালক্ষেপণ করেন। সেইসাথে ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের শুরুর সময়ই চার জাতীয় নেতাকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাঁদের নিয়ে খালেদ মোশাররফের কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা ছিল না- এমনটা খুব সহজেই বুঝা যায়। কিন্তু সেইদিন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ কেন এই ক্যু করেছিলেন, তার উদ্দেশ্যেই বা কি ছিল- ইত্যাদি সকল প্রশ্নই যেন এক রহস্যে ঘেরা!