ঢাকা ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের চতুর্মুখী নীতি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চীনের আধিপত্য ঠেকাতে বাংলাদেশে বেশ কোমর খসিয়ে নেমেছে ভারত। বাংলাদেশে চীনা আধিপত্য যেন প্রতিষ্ঠিত না হয় এবং বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব বলয় যেন অক্ষুন্ন থাকে; সে লক্ষ্যে ভারত এক নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এবং তাদের থিংক ট্যাংকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে যে, শুধু সরকার নয়; বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ চারটি স্তম্ভের সঙ্গে সুসম্পর্ক করতে চায়।

এই চারটি স্তম্ভে প্রভাবশালী, ক্রিয়াশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে নীতি নির্ধারণে চীনের প্রভাব খর্ব করে ভারতের প্রভাব বাড়াতে চায় ভারত। এটাই ভারতের সাম্প্রতিক কূটনীতিক লক্ষ্য বলে ভারতের একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ভারতীয় কূটনীতিক বিক্রমদোরাই স্বামী বাংলাদেশে এসে এই কূটনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কাজ করছেন। বাংলাদেশে ভারতের যে চতুর্মুখী নীতি সেই চতুর্মুখী নীতিতে যে বিষয়গুলো রয়েছে তাহলো

১। রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করা

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক রাজনীতিবিদদের সম্পর্ক রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সম্পর্কগুলো সীমিত হয়ে গিয়েছিল, শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দলের দু’একজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এখন ভারত এই সম্পর্কের পরিসীমা এবং ব্যাপ্তি বাড়াতে চায়। সকল রাজনৈতিক দলে ভারতের পক্ষের কিছু লোকজনকে তারা রাখতে চায়। আর এই সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে ভারতীয় নতুন হাই কমিশনার।

২। ব্যবসায়ীদের ভারতবান্ধব করা

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের চীনমুখী প্রবণতাই বেশী। একটি বড় অংশ চীনের সঙ্গে নানা রকম ব্যবসায়িক সম্পর্কে যুক্ত। সেখান থেকে তাদেরকে ভারতমুখী করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। আর ইতোমধ্যে নতুন রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন ব্যবসায়িক মহলের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বাংলাদেশ-ভারত ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়িরা ভূমিকা পালন করতে পারেন। সে কারণে ভারত চাইছে যে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে তাদের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হউক।

৩। আমলা এবং প্রশাসনের সাথে সখ্যতা

একটি সরকারের নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমলারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আর এ কারণেই প্রশাসনের সঙ্গে ভারত এখন ঘনিষ্ঠ হতে চায়। ভারতের অভিজ্ঞতা হলো অনেক প্রকল্পেই ভারত অংশ নিতে পারেনি আমলাদের আপত্তির কারণে। কারণ আমলাদের পছন্দে চীন। আর এ কারণে প্রকল্পগুলোতে চীন কাজ পায়। এ প্রসঙ্গে একাধিক কূটনীতিক সিলেট বিমানবন্দরের কাজ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে সার্ভিলেন্সের কাজের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রশাসন এবং আমলাদের সঙ্গে সখ্যতা থাকলে এ কাজ দুটি ভারত পেত বলে তারা মনে করেন। এই বাস্তবতায় ভারত এখন আমলা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

৪। গণমাধ্যম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একটা সখ্যতা আছে বটে, কিন্তু তা খুব সীমিত আকারে। বরং বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একটা বড় অংশই ভারত বিরোধী হিসেবে পরিচিত। তবে দেশের শীর্ষ সংবাদপত্র গুলোর সঙ্গে ভারতের সর্ম্পক রয়েছে। কিন্তু এখন অনলাইন, স্যোসাল মিডিয়ার যুগে ভারত শুধুমাত্র হাতে গোনা মূল ধারার কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সর্ম্পক রেখে কূটনৈতিক বিজয় অর্জন করতে পারবে না। এই বাস্তবতায় ভারত এখন কূটনৈতিক সর্ম্পক বাড়াতে চায়। ভারত এখন সর্ম্পক বাড়াতে চায় গণমাধ্যমের সঙ্গেও। গণমাধ্যমকেও জয় করতে চায়। ভারতের পক্ষের চেয়েও গণমাধ্যমগুলোকে চীন বিরোধীতায় ব্যবহার করতে চায় ভারত। আর সেজন্য ই চর্তুমুখী নীতিতে চারটি ক্ষেত্রে ভারত এখন কাজ করছে। এই কাজের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ভারত চীনকে কোণঠাসা করতে পারবে বলে ভারতীয় কূটনীতিকরা মনে করছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের চতুর্মুখী নীতি

আপডেট সময় ০৯:৩৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চীনের আধিপত্য ঠেকাতে বাংলাদেশে বেশ কোমর খসিয়ে নেমেছে ভারত। বাংলাদেশে চীনা আধিপত্য যেন প্রতিষ্ঠিত না হয় এবং বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব বলয় যেন অক্ষুন্ন থাকে; সে লক্ষ্যে ভারত এক নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এবং তাদের থিংক ট্যাংকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে যে, শুধু সরকার নয়; বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ চারটি স্তম্ভের সঙ্গে সুসম্পর্ক করতে চায়।

এই চারটি স্তম্ভে প্রভাবশালী, ক্রিয়াশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে নীতি নির্ধারণে চীনের প্রভাব খর্ব করে ভারতের প্রভাব বাড়াতে চায় ভারত। এটাই ভারতের সাম্প্রতিক কূটনীতিক লক্ষ্য বলে ভারতের একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ভারতীয় কূটনীতিক বিক্রমদোরাই স্বামী বাংলাদেশে এসে এই কূটনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কাজ করছেন। বাংলাদেশে ভারতের যে চতুর্মুখী নীতি সেই চতুর্মুখী নীতিতে যে বিষয়গুলো রয়েছে তাহলো

১। রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করা

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক রাজনীতিবিদদের সম্পর্ক রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সম্পর্কগুলো সীমিত হয়ে গিয়েছিল, শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দলের দু’একজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এখন ভারত এই সম্পর্কের পরিসীমা এবং ব্যাপ্তি বাড়াতে চায়। সকল রাজনৈতিক দলে ভারতের পক্ষের কিছু লোকজনকে তারা রাখতে চায়। আর এই সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে ভারতীয় নতুন হাই কমিশনার।

২। ব্যবসায়ীদের ভারতবান্ধব করা

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের চীনমুখী প্রবণতাই বেশী। একটি বড় অংশ চীনের সঙ্গে নানা রকম ব্যবসায়িক সম্পর্কে যুক্ত। সেখান থেকে তাদেরকে ভারতমুখী করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। আর ইতোমধ্যে নতুন রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন ব্যবসায়িক মহলের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বাংলাদেশ-ভারত ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়িরা ভূমিকা পালন করতে পারেন। সে কারণে ভারত চাইছে যে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে তাদের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হউক।

৩। আমলা এবং প্রশাসনের সাথে সখ্যতা

একটি সরকারের নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমলারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আর এ কারণেই প্রশাসনের সঙ্গে ভারত এখন ঘনিষ্ঠ হতে চায়। ভারতের অভিজ্ঞতা হলো অনেক প্রকল্পেই ভারত অংশ নিতে পারেনি আমলাদের আপত্তির কারণে। কারণ আমলাদের পছন্দে চীন। আর এ কারণে প্রকল্পগুলোতে চীন কাজ পায়। এ প্রসঙ্গে একাধিক কূটনীতিক সিলেট বিমানবন্দরের কাজ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে সার্ভিলেন্সের কাজের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রশাসন এবং আমলাদের সঙ্গে সখ্যতা থাকলে এ কাজ দুটি ভারত পেত বলে তারা মনে করেন। এই বাস্তবতায় ভারত এখন আমলা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

৪। গণমাধ্যম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একটা সখ্যতা আছে বটে, কিন্তু তা খুব সীমিত আকারে। বরং বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একটা বড় অংশই ভারত বিরোধী হিসেবে পরিচিত। তবে দেশের শীর্ষ সংবাদপত্র গুলোর সঙ্গে ভারতের সর্ম্পক রয়েছে। কিন্তু এখন অনলাইন, স্যোসাল মিডিয়ার যুগে ভারত শুধুমাত্র হাতে গোনা মূল ধারার কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সর্ম্পক রেখে কূটনৈতিক বিজয় অর্জন করতে পারবে না। এই বাস্তবতায় ভারত এখন কূটনৈতিক সর্ম্পক বাড়াতে চায়। ভারত এখন সর্ম্পক বাড়াতে চায় গণমাধ্যমের সঙ্গেও। গণমাধ্যমকেও জয় করতে চায়। ভারতের পক্ষের চেয়েও গণমাধ্যমগুলোকে চীন বিরোধীতায় ব্যবহার করতে চায় ভারত। আর সেজন্য ই চর্তুমুখী নীতিতে চারটি ক্ষেত্রে ভারত এখন কাজ করছে। এই কাজের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ভারত চীনকে কোণঠাসা করতে পারবে বলে ভারতীয় কূটনীতিকরা মনে করছেন।