আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ধর্ষণের মামলা করার ২০ দিন পর রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় এক গৃহবধূকে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম ফাতেমা বেগম (২৬)।
শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে শনিবার ফাতেমা বেগমের মা থানায় মামলা করলে তার (ফাতেমা) স্বামী সুমন শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
দক্ষিণখান থানার এসআই জয়নুল আবেদীন জানান, ফাতেমা বেগম শুক্রবার রাতে দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ ছাপড়া মসজিদ এলাকার একটি বাসায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে তার লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। ফাতেমা বেগমের মা নুরুন্নাহার শনিবার আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করলে স্বামী সোহেল শেখকে গ্রেফতার করা হয়।
এসআই জয়নুল আবেদীন জানান, স্বামী সোহেলের দাবি- চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাস ধরে তাদের বাড়িওয়ালা আলী আহমদ, রানা, আলমগীর ও নাজমুল তার স্ত্রীকে নানা সময়ে ধর্ষণ করে। কিন্তু এই কথা তার স্ত্রী ভয়ে কাউকে বলেনি। এই সুযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তারা তাকে ধর্ষণ করেছে। চলতি মাসে সোহেল এসব ঘটনা জানতে পারেন। পরে গত ৪ অক্টোবর দক্ষিণখান থানায় ফাতেমা ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। সেই মামলায় আলী আহমেদ ও রানা বর্তমানে কারাগারে আছে।
এসআই বলেন, ফাতেমা ওই মামলার সাক্ষী বা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইতেন না। তা নিয়েই মূলত তাদের মধ্যে ঝামেলা হতো। এর আগে ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে স্বামী মো. সোহেল শেখের সঙ্গে ওই ধর্ষণের অভিযোগে মামলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ফাতেমার ঝামেলা হয়। তখন স্ত্রীকে মারধরও করেন স্বামী সোহেল শেখ। এছাড়া এসব নিয়ে মাঝেমধ্যেই তাদের মধ্যে ঝামেলা হতো।
এসআই জানান, সুমন শেখের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে। আর ফাতেমার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। গত ৬ মাস আগে প্রেম করে তাদের বিয়ে হয়। এটি ফাতেমার দ্বিতীয় বিয়ে এবং সোহেলের তৃতীয় বিয়ে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























