ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আহমদ ছফার ঠাঁই হয়নি রাজনৈতিক কারণে: সলিমুল্লাহ খান নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী: মামদানি বিএনপি ভোট মানলেও গণভোট মানে না: আখতার হোসেন সাঁথিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা জুলাইয়ের শক্তির অনৈক্য পরাজিতদের সুযোগ করে দিচ্ছে: মজিবুর রহমান মঞ্জু বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের বড় ধরনের চাহিদা তৈরি হচ্ছে: হুমায়ুন কবির জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন:শফিকুর রহমান ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়তে শহীদ জিয়ার দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা আজও গুরুত্বপূর্ণ : সড়ক প্রতিমন্ত্রী শিশু যৌন নিপীড়নের দায়ে যুক্তরাজ্যে ৩ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ব্যবসা-বাণিজ্যে এআই ও ব্লকচেইনের ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বারোপ

‘ডাকসু ছিল মাদকের আড্ডা-বেশ্যাখানা’:জামায়াত নেতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ‘মাদকের আড্ডা’ ও ‘বেশ্যাখানা’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান।

তার দাবি, আমরা দেখছি ডাকসু নির্বাচনের পরে যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি এটা উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।

শনিবার রাতে পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। শামীম আহসান বলেন, ডাকসু নির্বাচনে যদি ছাত্রশিবির ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে আগামী নির্বাচনেও জামায়াত ক্ষমতায় যাবে, ইনশাআল্লাহ। তখন বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজি, সকল প্রকার দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম হবে।

নির্বাচনী সভায় জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, আমরা আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা ধৈর্য ধরুন ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে ঈমানের শক্তি নিয়ে। কারণ আমরা যে কাজটা করি এটা ইবাদতের কাজ। আমরা রাজনীতি করি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। পরকালের নাজাতের জন্য। আপনাদের সেই ঈমানের বলে বলিয়ান হয়ে সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আগামী দিনে ভোটকেন্দ্রে কেউ যেন হাঙ্গামা করতে না পারে, সেজন্য সিসা ঢালা প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে ইনশাআল্লাহ।

জনসভায় আগতদের উদ্দেশে শামীম আহসান বলেন, আপনাদেরকে আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে পরিবর্তন দেখেছেন, যে ছাত্ররা-ছাত্রীরা তারা ছাত্রশিবিরের পক্ষে ভোট দিয়েছেন-তাদের বাবা-মায়েরা তো এ রকম গ্রামেরই। ডাকসুতে যদি জামায়াত ইসলামীর ছাত্রশিবির ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামীও ক্ষমতায় যেতে পারে ইনশাআল্লাহ।

এদিকে, ডাকসু সম্পর্কে শামীম আহসানের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হতেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। জামায়াত নেতা শামীম আহসানের বিতর্কিত বক্তব্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। একইসাথে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যদিও নিজের মন্তব্যের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শামীম আহসান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‌‘মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন অপকর্ম আমি আমার বক্তব্যে বোঝাতে চেয়েছি। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরে সব কিছু পাল্টে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে আমি বুঝিয়েছি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ যে কালিমা লাগিয়েছিল, ছাত্রশিবির তা মুছে দিতে সক্ষম হয়েছে। এরপরেও যদি আমার বক্তব্যে আমার সম্মানিত ছাত্র-ছাত্রী, ভাই ও বোনেরা কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আহমদ ছফার ঠাঁই হয়নি রাজনৈতিক কারণে: সলিমুল্লাহ খান

‘ডাকসু ছিল মাদকের আড্ডা-বেশ্যাখানা’:জামায়াত নেতার

আপডেট সময় ০৮:৪০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ‘মাদকের আড্ডা’ ও ‘বেশ্যাখানা’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান।

তার দাবি, আমরা দেখছি ডাকসু নির্বাচনের পরে যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি এটা উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।

শনিবার রাতে পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। শামীম আহসান বলেন, ডাকসু নির্বাচনে যদি ছাত্রশিবির ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে আগামী নির্বাচনেও জামায়াত ক্ষমতায় যাবে, ইনশাআল্লাহ। তখন বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজি, সকল প্রকার দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম হবে।

নির্বাচনী সভায় জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, আমরা আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা ধৈর্য ধরুন ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে ঈমানের শক্তি নিয়ে। কারণ আমরা যে কাজটা করি এটা ইবাদতের কাজ। আমরা রাজনীতি করি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। পরকালের নাজাতের জন্য। আপনাদের সেই ঈমানের বলে বলিয়ান হয়ে সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আগামী দিনে ভোটকেন্দ্রে কেউ যেন হাঙ্গামা করতে না পারে, সেজন্য সিসা ঢালা প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে ইনশাআল্লাহ।

জনসভায় আগতদের উদ্দেশে শামীম আহসান বলেন, আপনাদেরকে আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে পরিবর্তন দেখেছেন, যে ছাত্ররা-ছাত্রীরা তারা ছাত্রশিবিরের পক্ষে ভোট দিয়েছেন-তাদের বাবা-মায়েরা তো এ রকম গ্রামেরই। ডাকসুতে যদি জামায়াত ইসলামীর ছাত্রশিবির ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামীও ক্ষমতায় যেতে পারে ইনশাআল্লাহ।

এদিকে, ডাকসু সম্পর্কে শামীম আহসানের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হতেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। জামায়াত নেতা শামীম আহসানের বিতর্কিত বক্তব্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। একইসাথে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যদিও নিজের মন্তব্যের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শামীম আহসান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‌‘মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন অপকর্ম আমি আমার বক্তব্যে বোঝাতে চেয়েছি। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরে সব কিছু পাল্টে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে আমি বুঝিয়েছি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ যে কালিমা লাগিয়েছিল, ছাত্রশিবির তা মুছে দিতে সক্ষম হয়েছে। এরপরেও যদি আমার বক্তব্যে আমার সম্মানিত ছাত্র-ছাত্রী, ভাই ও বোনেরা কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’