ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান

রাজশাহীতে ভুয়া বিয়ে করে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর…

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে জাল কাগজে বিয়ে করে দিনের পর দিন ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি তুলে এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। ওই ভিকটিম শেষ পর্যন্ত নগর পুলিশের দ্বারস্থ হলে প্রতারক যুবকের কাছ থেকে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা অন্তরঙ্গ ছবিগুলো উদ্ধারসহ তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।

রাজশাহীর বরেন্দ্র কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন সানি আহমেদ নামের এক যুবক। কিছুদিন পরে মেয়েটিকে বিয়েও করেন তিনি। এরপর বিবাহিত বউকে নিয়ে কখনও কক্সবাজার, কখনও রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন সানি। সেই সময় বেশকিছু অন্তরঙ্গ ছবিও তোলেন দু’জনে। একপর্যায়ে মেয়েটি জানতে পারেন সানির আরও একটি স্ত্রী আছে। কিন্তু সেই তথ্য গোপন করে ওই কলেজছাত্রীকে বিয়ে করেন তিনি। সানি নগরীর শালবাগান এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে।

প্রথম স্ত্রীর বিষয়টি জানার পর ওই ছাত্রী নিজের বিয়ের কাগজপত্রের খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানেও প্রতারণা করা হয়েছে তার সঙ্গে। তার বিয়ের কাগজটিও ভুয়া। ভুয়া কাজী সাজিয়ে জাল কাগজে বিয়ে করেন ওই যুবক। ওই ছাত্রী জানান, যখন তিনি জানতে পারেন তার বিয়েটিও ছিল ভুয়া, তখন তিনি তার প্রেমিক সানির কাছ থেকে সরে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই কথা শোনার পর সানি তাদের শারীরিক সম্পর্কের ছবি দিয়ে ওই ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করা চেষ্টা করতে থাকেন।

অভিযোগ আারও জানা যায়, ওই ছবি কখনও মেয়েটির মেসেঞ্জারে দিয়ে আবার কখনও ফেসবুকে ছাড়ার হুমকি দেওয়া হতো। শেষ পর্যন্ত মেয়েটি নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে নগর পুলিশের নবগঠিত সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর সাইবার ক্রাইম ইউনিট তদন্তে নেমে উদঘাটন করে মেয়েটির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর অপরাধের চিত্র। পরবর্তীতে সেই যুবককে আইনের আওতায় আনা হয়।

নগরীর বোয়ালিয়া থানায় গত ২৮ সেপ্টেম্বরের একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে এই ঘটনাটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রধান এএসপি উৎপল কুমার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

শাহ আমানতে রান্নার সরঞ্জামে সোনা পাচার, আটক ১

রাজশাহীতে ভুয়া বিয়ে করে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর…

আপডেট সময় ০২:০৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে জাল কাগজে বিয়ে করে দিনের পর দিন ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি তুলে এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। ওই ভিকটিম শেষ পর্যন্ত নগর পুলিশের দ্বারস্থ হলে প্রতারক যুবকের কাছ থেকে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা অন্তরঙ্গ ছবিগুলো উদ্ধারসহ তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।

রাজশাহীর বরেন্দ্র কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন সানি আহমেদ নামের এক যুবক। কিছুদিন পরে মেয়েটিকে বিয়েও করেন তিনি। এরপর বিবাহিত বউকে নিয়ে কখনও কক্সবাজার, কখনও রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন সানি। সেই সময় বেশকিছু অন্তরঙ্গ ছবিও তোলেন দু’জনে। একপর্যায়ে মেয়েটি জানতে পারেন সানির আরও একটি স্ত্রী আছে। কিন্তু সেই তথ্য গোপন করে ওই কলেজছাত্রীকে বিয়ে করেন তিনি। সানি নগরীর শালবাগান এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে।

প্রথম স্ত্রীর বিষয়টি জানার পর ওই ছাত্রী নিজের বিয়ের কাগজপত্রের খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানেও প্রতারণা করা হয়েছে তার সঙ্গে। তার বিয়ের কাগজটিও ভুয়া। ভুয়া কাজী সাজিয়ে জাল কাগজে বিয়ে করেন ওই যুবক। ওই ছাত্রী জানান, যখন তিনি জানতে পারেন তার বিয়েটিও ছিল ভুয়া, তখন তিনি তার প্রেমিক সানির কাছ থেকে সরে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই কথা শোনার পর সানি তাদের শারীরিক সম্পর্কের ছবি দিয়ে ওই ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করা চেষ্টা করতে থাকেন।

অভিযোগ আারও জানা যায়, ওই ছবি কখনও মেয়েটির মেসেঞ্জারে দিয়ে আবার কখনও ফেসবুকে ছাড়ার হুমকি দেওয়া হতো। শেষ পর্যন্ত মেয়েটি নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে নগর পুলিশের নবগঠিত সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর সাইবার ক্রাইম ইউনিট তদন্তে নেমে উদঘাটন করে মেয়েটির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর অপরাধের চিত্র। পরবর্তীতে সেই যুবককে আইনের আওতায় আনা হয়।

নগরীর বোয়ালিয়া থানায় গত ২৮ সেপ্টেম্বরের একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে এই ঘটনাটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রধান এএসপি উৎপল কুমার।